mizan rana som

অন্য ধর্মের মানুষের ওপর জুলুম চাপিয়ে দিবো না

মিজানুর রহমান রানা :  লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহু, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। আল্লাহ দুনিয়া ও দুনিয়ার ভেতর বাইরের সকল কিছুই সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাদেরকে মহান আলকুরআন দিয়েছেন জীবন বিধান হিসেবে। আরো দিয়েছেন আমাদের পথপ্রদর্শক, আমাদের সৎপথের কাণ্ডারী নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে। যিনি এসেছেন এই বিশ্বের মানুষের জন্যে রহমত ও শান্তির দূত (ইসলাম) হিসেবে।

ইসলাম অর্থ শান্তি। তাই সকল কল্যাণকর বিষয়ই ইসলামের অন্তর্ভুক্ত। মানুষের অকল্যাণ ইসলামের অন্তর্ভুক্ত নয়। মানুষের ওপর জুলুম চাপিয়ে দেওয়ার জন্য ইসলাম আসেনি। ইসলাম এসেছে জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর করে মানুষের মাঝে মহা আলো বিতরণ করে মানুষকে সৎপথের দিশা দেওয়ার জন্য। মিথ্যার জঞ্জাল দূর করার জন্য। মানুষের মাঝে হানাহানি, হিংসা-বিদ্বেষ দূর করার জন্য আল্লাহ পৃথিবীতে ইসলামকে মনোনীত দ্বীন বা ধর্ম হিসেবে আল্লাহতায়ালা প্রেরণ করেছেন নবী (সা.)-এর মাধ্যমে।

আমরা তাই, ইসলামের সকল নিয়ম-কানুন জানবো আল কুরআন থেকে। নবীর সুন্নাহ থেকে। কুরআন ও সুন্নাহ থেকে যা গ্রহণযোগ্য যোগ্য তা আমল করবো আর কুরআন সুন্নাহর সাথে যা সাংঘর্ষিক তা পরিত্যাগ করবো।

আমরা ব্যক্তি নয়, বরং আল্লাহ ও তার প্রেরিত নবীর বাণীকে অাঁকড়ে থাকবো জীবন-মরণ পর্যন্ত। তাই আমরা হিংসা-হানাহানি চাই না। ব্যক্তিগত কুৎসা চাই না। আমরা পৃথিবীর সকল মানুষের সকল ধর্মের মানুষের সাথে মিলে মিশে থাকতে চাই, এটাই জান্নাতি হওয়ার অন্যতম লক্ষ্মণ।

আমরা মুসলমান বলে অন্য ধর্মের মানুষের ওপর জুলুম চাপিয়ে দিবো না।

হজরত রাসূলে কারিম (সা.)-এর এমন আন্তরিকতায় ওই বিরোধীরাও ধীরে ধীরে ইসলামের পতাকাতলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। এই যখন মুসলমানের নবীর চরিত্র, তাহলে তারা কীভাবে মন্দিরে হামলা করতে পারে?

একজন প্রকৃত মুসলমানের পক্ষে মন্দির ভাঙ্গা তো দূরের কথা মন্দির ভাঙ্গার চিন্তা করাও সম্ভব নয়। কারণ, ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যারা মানুষকে সাম্প্রদায়িকতার দিকে ডাকে, সাম্প্রদায়িকতার জন্য যুদ্ধ করে, সংগ্রাম করে এবং জীবন উৎসর্গ করে তারা আমাদের দলভুক্ত নয়। ’ -সুনানে আবু দাউদ : ৫১২৩

সাম্প্রদায়িকতার ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে পবিত্র কোরআন। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘ধর্মের ব্যাপারে জোরজবরদস্তি নেই। ভ্রান্ত মত ও পথকে সঠিক মত ও পথ থেকে ছাঁটাই করে আলাদা করে দেওয়া হয়েছে। ’ -সূরা বাকারা :২৫৬

সুতরাং ‘তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্য, আমাদের ধর্ম আমাদের জন্য। ’ -সূরা কাফিরুন : ৫

একে অন্যের ধর্ম পালন করতে গিয়ে কেউ কোনোরূপ সীমা লঙ্ঘন কিংবা বাড়াবাড়ি করবে না। অন্য কেউ যদি ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করেও ফেলে তবে ভুলেও যেন কোনো ইমানদার এ ধরনের হীন ও জঘন্য কাজের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত না করে। এ বিষয়টিই নসিহতস্বরূপ মুমিনদের উদ্দেশে আল্লাহতায়ালা বলছেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যেসব দেবদেবীর পূজা-উপাসনা করে, তোমরা তাদের গালি দিও না। যাতে করে তারা শিরক থেকে আরো অগ্রসর হয়ে অজ্ঞতাবশত আল্লাহকে গালি দিয়ে না বসে। ’ -সূরা আনআম: ১০৮

সুতরাং আমরা ইসলামের বিপক্ষে নয়, আমরা শুধু কিছু মানুষের বর্বারোচিত কাজের প্রতিবাদ করবো, যারা ইসলামের নামে ইসলাম বহির্ভুত কাজ করে বেড়ায় ও মানুষকে গোমরাহি দিকে আহ্বান করে।

আল্লাহতায়ালা সবাইকে হেফাজত করুন।

শেয়ার করুন