স্যার

আন্তরিকতা-সততা-নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে অবসর গ্রহণ করলেন জালাল স্যার

মিজানুর রহমান রানা : অত্যন্ত আন্তরিকতা-সততা-নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে অবসর গ্রহণ করলেন আমাদের শ্রদ্ধেয় জালাল স্যার। আমি তার ছাত্র হিসেবে বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজে তাঁকে পেয়ে খুশি ছিলাম। অমায়িক একজন মানুষ ছিলেন তিনি। তাঁর কাছ থেকে আসলেই প্রকৃত মানুষ শিক্ষা পেয়েছিলাম, যা কখনও কাগজে কলমে লিখে শেষ করা যাবে না।

এই শ্রদ্ধেয় মানুষটি আজ অবসর গ্রহণ করলেন শিক্ষকতা থেকে। তিনি তার ফেইসবুক টাইমলাইনে লিখেছেন :

শুকরিয়া মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে যিনি সৃষ্টি করেছেন যাঁর দয়া ও রহমতে শিক্ষকতা জীবনের ৩৩বছর ৮ মাস ২৪ দিন অত্যন্ত আন্তরিকতা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আজ ২৪/০৪/২০২১ খ্রিস্টাব্দ রবিবার কর্মজীবনের শেষ কর্ম দিবস- এ অবসর গ্রহণ করছি। আমি কচুয়া বঙ্গবন্ধু সরকারি ডিগ্রি কলেজ এ নয় বছর তিন মাস চব্বিশ দিন দায়িত্ব পালন করেছি। দায়িত্ব পালন কালে কচুয়ার উন্নয়নের রূপকার সর্বজন শ্রদ্ধেয় সাবেক সফল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর স্যার, কলেজ গভর্নিং বডির সাবেক সভাপতি, বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ও একুশে পদক প্রাপ্ত ড. মুনতাসীর মামুন স্যার,কচুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব শাহজাহান শিশির, উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব সুলতানা খানম,সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব নীলিমা আফরোজ, বর্তমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব দীপায়ন দাস শুভ,কচুয়া পৌরসভার সম্মানিত মেয়র জনাব নাজমুল আলম স্বপন,উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা- কর্মচারীবৃন্দ, কলেজের সম্মানিত সহকর্মী, অফিস সহকারী ও অফিস সহায়ক বৃন্দ, উপজেলার সকল কলেজের শ্রদ্ধেয় অধ্যক্ষবৃন্দ,উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার ও সুপারভাইজার ও অফিস সহকারী বৃন্দ,কলেজের ছাত্রলীগের নেতৃ বৃন্দ, গভর্নিং বডির সাবেক সম্মানিত নেতৃবৃন্দ, স্হানীয় সম্মানিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজ, অভিভাবকবৃন্দ,প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র- ছাত্রী বৃন্দ,প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের সম্মানিত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক বৃন্দ, উপজেলার সকল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও শিক্ষকবৃন্দ এবং সকল পর্যায়ের সম্মানিত সুধীজন এর কাছে কৃতজ্ঞ। সবার প্রতি আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা, সালাম ও শুভেচ্ছা রইল। সকলের সার্বিক সহযোগিতা কলেজটি আজ উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। কলেজটি প্রাকৃতিক সবুজ শ্যামল স্নিগ্ধ ও নান্দনিক পরিবেশে বিরাজিত হওয়ায় শিক্ষক – শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সর্বজনের কাছে প্রশংসনীয় হয়ে উঠেছে। কলেজের ফটকে দাঁড়ালেই কলেজটির প্রাকৃতিক পরিবেশ ও এর নান্দনিক সৌন্দর্য সকলের মন আনন্দে ভরে উঠে।

আজ আমি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছি প্রাক্তন কলেজ হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মরহুম মকবুল আহমেদ স্যারকে।যিনি আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন।স্যার ওই কলেজ থেকে অবসর নেওয়ার সময় আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব অর্পন করে যান। তিনি চেয়েছিলেন পরবর্তী সময়ে আমি ওই কলেজের যেন অধ্যক্ষ হতে পারি।কিন্তু পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় ওই পদে দরখাস্ত করিনি।কিন্তু দরখাস্ত না করায় তিনি খুব অখুশি হয়েছিলেন। পরবর্তী পর্যায়ে কচুয়া বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করাশ তিনি ভীষণ খুশি হয়েছিলেন। আজ স্যারকে খুব মনে পড়ে। মহান আল্লাহ স্যারকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন। ওই কলেজের সকল সহকর্মীগণ আমার শ্রদ্ধা ও সম্মানের ছিলেন।

আজ অবসরগ্রহণ কালে আমি আমার অজান্তে কোন সহকর্মী বা সম্মানিত ব্যক্তি মহোদয়কে আমার আচরণ ও কর্মে ভুল বা ত্রুটি করে থাকলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করছি। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুস্হ ও নিরাপদে রাখুন এবং মহামারী কোভিড-১৯ থেকে আমাদেরকে মুক্ত রাখুন। আল্লাহ হাফেজ।

শেয়ার করুন