উৎখাত

আমাদেরকে আসন্ন মহামারী করোনার জন্যে প্রস্তুত হতে হবে

মিজানুর রহমান রানা : আমরা সবকিছুকেই হেসেখেলে উড়িয়ে দেই। আমরা এমন এক মানবজাতি যারা একদিকে মরে আর অন্যদিকে খাওয়ার আশায় মানুষের পিছে ঘুরে। যেখানে পাশর্^বর্তী দেশসমূহে মানুষ রাস্তায় মরে পড়ে থাকে। অক্সিজেনের অভাবে হাহাকার করে আর আমরা আছি উপহাস আর তাচ্ছিল্যভরা কণ্ঠে অপরের দোষ খোঁজাখুঁিজ নিয়ে।

এখনও আমাদের সমাজের কিছু অংশ মনে করে, আমাদের দেশে করোনা নেই। সরকার মমিনুলদেরকে শায়েস্তা করার জন্যে দেখে লকডাউন দিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করছে। তাই তো বাবুসাহেব বলেন, আমাদেরকে লিস্ট দিন আমরা কারাগারে যাবো, তবুও দেশ থেকে লকডাউন তুলে নিন। এরা এবং এদের সমর্থকরা এক সময় বলেছে, মাদ্রাসাগুলোতে করোনা আসবে না, তাই মাদ্রাসাগুলো খোলা রাখুন। অথচ যখন মাদ্রাসার শিক্ষকরা একে একে করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে তবুও ওরা একই সুরা বাজাচ্ছে।

বাদ দিলাম সেই কথা, আমরা এসব কথা বলে কারো কারো চক্ষুশূল হতে চাই না। এমনিতেই সাংবাদিকদেরকে ওরা সরকারের দালাল তকমা উপাধি দিয়ে রেখেছে। এদের কথায় সায় না দিলে, এদের উগ্রবাদিতাকে সমর্থন না দিলেই সাংবাদিক ‘দালাল’। এরা যে ভুল করতেই পারে, এরা যে কোরান বিশ্লেষণে (তরজমায়) মনগড়া কিছু বলতে পারে, নিজেদের স্বার্থ বজায় রাখতে কোরানোর কিছু অংশকে বয়ান করে আর কিছু অংশকে ঢেকে রাখে তা মানতে নারাজ। তবুও সাধারণ মানুষ তাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিতে গেলে, এরা হয়ে যান, ‘নাস্তিক’, ‘কাফের’ ‘মুরতাদ’ ‘দালাল’ প্রভৃতি।

তো যাই হোক, শুধু এই ধরনের মানুষরা এখন সমাজে আমাদের মধ্যে বিস্তর, তাই নয়। অনেক ধরনের মানুষই আছে। এদেরকে নিয়েই আমাদের সমাজ।

তো বলছিলাম, আমরা উদারপন্থী হতে পারি না। আমরা সমাজের সবার কথা ভাবতে পারি না? আমরা বুঝতে পারি না, এই সমাজটা শুধুমাত্র এক বর্ণের, এক ধর্মের, এক ধরনেই মানুষেরই সমাবেশ নয়। এই ধর্মে বহুমতের, বহু ধর্মের, বহু বর্ণের মানুষ থাকবে। আপনি আপনার মতো কথা বলবেন, অন্যরা অন্যদের মতোই বলবে। যদি অন্যরা বুঝতে পারে তাদের বলায় ভুল রয়েছে, তাতে তারা আপনার মতের মধ্যে আসবে, আর না হয় নাই বা আসলো, তাদের আপনার কি?

আজ আমরা এমন এক সময়ের মধ্যে প্রবেশ করেছি যখন আমাদের সমাজে করোনা নামক এক ভয়াবহ মরণব্যাধিতে আচ্ছাদিত হয়ে আছে। ভারতে ভয়াবহ অবস্থা। আরও ভয়াবহ খবর এই যে, এর মধ্যে ভারত থেকে যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে করোনা পজেটিভ হয়ে কিছুসংখ্যক মানুষ প্রবেশ করেছে এবং তারা হাসপাতাল থেকে পালিয়েছে। পরবর্তীতে কিছু অংশ ধরা পড়েছে কিন্তু ক’দিনে তারা কত মানুষের মাঝে তা ছড়িয়েছে, তা সহজেই অনুমেয়।

এখন আমাদেরকে সময়কে অনুধাবন করতে হবে। হাসপাতাল, আইসিইউ, অক্সিজেন এসব ব্যবস্থা করতে হবে। মনে রাখবেন, আপনার পাশের ভাইটা (হোক মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান) যদি নিরাপদ থাকে, তাহলে আপনিও নিরাপদে থাকতে পারবেন, আর যদি তারা অনিরাপদ হয়ে যায়, তাহলে আমরা কেউ এ মরণ ব্যাধি থেকে বাঁচতে পারবো না।

তাই আসুন, অন্যকে মাস্ক পরতে উৎসাহিত করি, নিজে মাস্ক পরি এবং লকডাউন মেনে চলি এবং রাস্তাঘাটে অযথা ঘোরাঘুরি থেকে বিরত থাকি এবং আমাদের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখি।

মনে রাখবেন, এখন ‘সরকার উৎখাতে’র চেয়ে করোনাকে উৎখাতের প্রয়োজন বেশি।

শেয়ার করুন