somoyer dairy2

‘কিসের সংবিধান, কিসের প্রেসিডেন্ট, কিসের প্রধানমন্ত্রী? আমি সংবিধান মানি না, প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী মানি না’

মিজানুর রহমান রানা :

“কিসের সংবিধান, কিসের প্রেসিডেন্ট, কিসের প্রধানমন্ত্রী? আমি সংবিধান মানি না, প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী মানি না। আমার সংবিধান কোরআন, আমার প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ইত্যাদি।” তার বক্তৃতা শুনে শ্রোতারা হর্ষধ্বনি তোলো, আল্লাহ-রাসুলের শানে স্লোগান দেয়।

এটা নেত্রকোনার মাও. রফিকুল ইসলামের বক্তব্য। তিনি এতোটাই জোশ অনুভব করেছিলেন যে, রাসূল (সা.) বাণী পর্যন্ত ভুলে গেছেন। কারণ রাসূল শিখিয়েছেন, নিজ দেশকে ভালো না বাসলে, দুনিয়া-আখিরাতে মর্যাদাবান হওয়া যায় না।

আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার ড. মাহাথির মুহাম্মদের বাণী- ‘যে জাতির মাঝে দেশপ্রেম নেই, সে জাতি কখনও উন্নত জাতি হিসেবে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না।’

তো আমাদের আলোচিত বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী এর বিপরীত। তিনি দেশকে মানেন না, দেশের প্রধানমন্ত্রী মানেন না। এমনকি রাষ্ট্রপতিকেও মানেন না।

এগুলো হচ্ছে চরমপন্থার ল²ণ। কোনো স্বাভাবিক মানুষ এ ধরনের কথা বলতে পারে না। শুধু যারা কোরআন-হাদিসের অপব্যখা করে মানুষকে স্বীয় দলে টেনে নিজের আখের গুছিয়ে দুনিয়াবী লাভবান হতে চায়, তারাই এসব অপবাক্য বলতে পারে।

“সংবিধান মানি না, আইন মানি না”…এইসব কী? কোনো মানুষ একটা রাষ্ট্রের ভেতর বসবাস করে, রাষ্ট্রের সকল সুযোগ সুবিধা, নিরাপত্তা ভোগ করে তাকে অস্বীকার করতে পারে না। জনগণ যেভাবেই হোক তার সমস্ত দায়ভার, নিরাপত্তার ভার রাষ্ট্রের হাতে ন্যস্ত করেছে। এটা হচ্ছে দুনিয়াবী কথা। আর আখেরাতের কথা ভিন্ন। আখেরাতের কথা হচ্ছে মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতের সমস্ত কিছুর অভিভাবক হচ্ছেন মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহতায়ালা। তবে এখানে একটি কথা আছে, আল্লাহতায়ালা মানুষকে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দিয়েছেন। মানুষ তার স্বাধীন ইচ্ছাশক্তির কারণে মন্দ করলে তার ফল সে নিজেই ভোগ করবে, আর ভালো করলেও তার ফল সে ভোগ করবে। শুধু এই স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি পাওয়ার কারণেই মন্দ কাজ করলে বা মন্দ কথা বললে তার দায়ভার আল্লাহতায়ালা নিবেন না। কারণ কাল কেয়ামতে, আমি জানিনা কথাটা আল্লাহর দরবারে চলবে না। মানুষ তার কর্মের দায়ভার নিজকেই নিতে হবে। এর কোনো ব্যত্যয় নেই।

যখন সময় আসবে তখন অবশ্যই তোমার প্রতিপালক তাদের সবাইকে তার কর্মফল পুরোপুরিভাবে দেবেন। তারা যা করে, নিশ্চয়ই তিনি সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত। (সুরা : হুদ, আয়াত : ১১১)

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে : ‘মন্দের প্রতিফল তো অনুরূপ মন্দই। সুতরাং যে ক্ষমা করে ও আপস করে, তার পুরস্কার আল্লাহর কাছে আছে। নিশ্চয়ই তিনি অত্যাচারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা : শুরা, আয়াত : ৪০)

কোরআনের অন্য স্থানে আল্লাহ বলেন, ‘কেউ অণু পরিমাণ সত্কর্ম করলে তা সে দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অপকর্ম করলে তা-ও দেখতে পাবে।’ (সুরা : জিলজাল, আয়াত : ৭-৮)

সুতরাং আমাদেরকে আমাদের কথায়, কর্মে ও কাজে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। যাতে আমরা আমাদের কথায়, কর্মে ও কাজে আল্লাহকে ভয় করে কথা বলি। আমরা যাতে কোনোরূপ অহঙ্কারবশত এমন কথা না বলি, যা চরম গুনাহ ও রাষ্ট্রবিরোধী কাজ হয়ে যায়। সর্বস্তরে ইসলাম কায়েম করতে হলে আমাদেরকে আল্লাহ ও নবী (সা.)-এর নীতি অনুসারে করতে হবে।

শেয়ার করুন