chandpur report 1996

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় পণ্যবাহী নৌ-যানে সংঘবদ্ধ চক্রের বেপোরোয়া চাঁদাবাজি

নিজস্ব প্রতিবেদক :  চাঁদপুর নৌ-রুটে পণ্যবাহী নৌ-যানের উপর সংঘবদ্ধ চক্রের বেপোরোয়া চাদাবাজি কিছুতেই থামছে না। চক্রটি ৫টি দলে বিভক্ত হয়ে নামে-বেনামে বিভিন্ন সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা চাদাবাজি করে যাচ্ছে বীরদর্পে। আর চাঁদা না দিলেই হয়রানি ও মারধরের শিকার হচ্ছে এসব পণ্যবাহী জাহাজের সারেং ও শ্রমিকরা। এই চক্রটির কারণে চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের ওই নদীপথে যে কোনো নৌ-যান ভয় আর আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করে থাকে। প্রকাশ্য দিবালোকে নদীপথে চাঁদাবাজির এই মহোৎসব চললেও এ ক্ষেত্রে নৌ-পুলিশ কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের তেমন কোন অভিযান চোখে পড়ছে না।

ভুক্তভোগী নৌ-যান শ্রমিকরা জানায়, চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড লক্ষির চর থেকে ৩নং ওয়ার্ডের রাজারচর পর্যন্ত। জলমহল বা নৌ-ফেডারেশনের নাম বিক্রি করে। বেপোরোয়া ভাবে এই চাঁদাবাজি চলে আসছে। এই এলাকায় নদীপথে যে কোনো পণ্যবাহী জাহাজ, বাল্কহেড, কার্গো চলাচল করতে হলে প্রতিটি নৌযান থেকে ১শ’ টাকা থেকে ২হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। তাদের নির্ধারিত চাঁদা থেকে কেউ কম টাকা দিতে চাইলে অথবা অস্বীকার জানালে তাদের দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এই ৫টি সংঘবদ্ধ চক্রের নেতৃত্বে রয়েছে রাজরাজেশ্বর এলাকার মাইনুদ্দিন ঢালী, নূর মোহাম্মদ গাজী, রশীদ বকাউল, হানিফ সর্দার ও সেলিম হাওলাদার।

ভুক্তভােগীরা আরো জানায়, প্রতিদিন রাজরাজেশ্বর-কাচি কাটা খাল নৌ-রুটে শত শত পণ্যবাহী জাহাজ ও বালুবাহী বাল্কহেড থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। আর এই চাঁদাবাজির টাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং প্রশাসনের এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তার মধ্যে ভাগভাটোয়ারা হয়। অবৈধ চাঁদা আদায়ের দায়ে সেলিম হাওলাদারকে পুলিশ একাধিকবার গ্রেপ্তার করলেও বন্ধ হয়নি তার চাদাবাজি।

এদিকে খোজ নিয়ে জানা যায়, রাজরাজেশ্বর হতে কাচিকাটা খালপর্যন্ত নৌরুটে পন্যবাহী জাহাজ বাল্কহেডসহ মালামাল বহনকারী এসব যানবাহনের নির্বিঘ্নে চলাচল ও নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ কার্গোট্রলার বাল্কহেড শ্রমিক ফেডারেশনের পক্ষ থেকে মাইনউদ্দিন ঢালি ও দেলােয়ার হােসেন বেপারীকে যৌথ ভাবে মার্কা ম্যান হিসেবে এক বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিনিময়ে সারেংরা মার্কার ম্যানদের পারাপারে ২০ টাকা থোকে ৩০টাকা টোল দিয়ে থাকে যা তাদের ফেডারেশন থেকে নির্ধারিত। কিন্তু ফেডারেশন থেকে নির্ধারিত ফির চেয়েও কয়েকগুণ বেশি চাঁদা আদায় করছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সেলিম হাওলাদারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমার নেতৃত্বে গত বছর নদীতে চাঁদা তোলা হতো। তবে এখন তুলি না। এখন এটি বন্ধ আছে, কেউ চাঁদা তুলে না।

অভিযুক্ত মইনুদ্দিন ঢালী বলেন, নদীতে চাঁদা উঠায় ৫টা নৌকা। আমার নেতৃত্বে একটি চলে। আমার নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন কাগজপত্র আছে। আর ওদের কাগজ নেই। তবে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা তোলায় কথা অস্বীকার করেন তিনি।

১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আলী আহম্মদ জানান, নদীতে যেভাবে টাকা তোলা হয়, এরচেয়ে ডাকাতও অনেক ভালো। তারা শ্রমিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ কার্গোট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের নামে চাঁদা তোলে। তবে আমি দেখেছি, পুলিশ এলে তারা চলে যায়, পুলিশ চলে গেলে আবার আসে।

কোষ্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশন কমান্ডার লেঃ আসাদুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন, আমরা এই ধরনের কোন তথ্য এখন পর্যন্ত পাইনি। তবে আপনাদের এই তথ্য যদি সঠিক হয় তবে আমরা অবশ্যই প্রয়ােজনীয় পদক্ষেপ নিবাে।

নৌ পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার মােহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, নৌ-রুটে চাদাবাজিকে আমরা নৌ পুলিশ কোন প্রকার ছাড় দিবাে না। আমরা ইতিপূর্বে এই চাদাবাজদের আটক করার জন্য একটি অভিযান পরিচালনা করলেও তাদের কাউকেই আটক করতে পারিনি। তারাধ আমাদের অভিযানের খবর পেয়ে সেদিন নদী থেকে উঠে যায়। তবে আমরা আমাদের অভিযান অব্যাহত রাখবাে। চাঁদাবাজি বন্ধে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

শেয়ার করুন