ngonj

ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যার পরিকল্পনা, হেফাজত নেতাসহ গ্রেফতার ৩

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টে মামুনুল হকের নারীকাণ্ডের জেরে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সোহাগ রনিকে হত্যা চেষ্টার পরিকল্পনাকারী তিনজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

শুক্রবার (৯ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মূল পরিকল্পনাকারী হেফাজত নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ ওরফে সাইফ, হেফাজতকর্মী কাজি সমির এবং আব্দুল অহিদ।

শুক্রবার রাতে ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে বিষয়টি গণমাধ্যম কর্মীদের জানিয়েছেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ এপ্রিল) মাওলানা মামুনুল হকের নারীকাণ্ডে তাণ্ডব সৃষ্টির ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের সাতকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান  জানান, সহিংসতা ও নাশকতা সৃষ্টির ঘটনায় দায়ের করা মামলার বেশ কয়েকজন আসামি বৃহস্পতিবার দুপুরে সোনারগাঁয়ে একটি মাদ্রাসায় গোপন বৈঠক করছিল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনার বৈঠক থেকে রায়হান, হাসান মাহমুদ, ইউনুছ, শরীফ, আবু নাঈম, হাসান মাহমুদ ও রেদওয়ান নামে হেফাজতের সাত সক্রিয় কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।

জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, এর আগে বুধবার রাতে একই মামলায় গ্রেফতার করা হয় রাজু, রায়হান, ইমরান ও আকাশকে এবং মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার করা হয় মোস্তফা নামে আরও এক হেফাজত কর্মীকে। নাশকতার ঘটনায় মঙ্গলবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে হেফাজতের ১২ কর্মীকে। গ্রেফতাররা সবাই সোনারগাঁয়ে সহিংসতা সৃষ্টির মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও হেফাজতের সক্রিয় কর্মী বলে এই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।

গত ৩ এপ্রিল শনিবার হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক তার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে অবকাশ যাপনের জন্য সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত রয়েল রিসোর্টের ৫০১ নম্বর কক্ষে ওঠেন। নারী নিয়ে হেফাজত নেতার হোটেল কক্ষে আগমনের খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে ওই কক্ষে বসেই জিজ্ঞাসাবাদ করছিল। এ সময় স্থানীয় লোকজন নারী নিয়ে হেফাজত নেতার মামুনুলের অবস্থান করার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে দ্রুত ভাইরাল করে দেয়।

বিষয়টি জানতে পেরে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে রয়েল রিসোর্টে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে পুলিশের কাছ থেকে তাদের নেতা মুমুনুল হককে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

ক্ষিপ্ত হেফাজত নেতাকর্মীরা সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়, উপজেলা যুবলীগের সভাপতির বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে দুইটি এবং এক সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় আরো একটিসহ মোট তিনটি মামলা দায়ের করা হয়।

এই তিন মামলায় হেফাজতের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৮৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫০০ থেকে ৬০০ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

 

14 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন