faridgonj logo 1

ফরিদগঞ্জে প্রতারণার মাধ্যমে সম্পত্তি রেজিস্ট্রি নিয়ে অতপর স্ত্রীকে নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিনিধি:
ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার দক্ষিণ কেরোয়া পাটওয়ারী বাড়িতে মেয়ের জামাই কর্তৃক প্রতারণার মাধ্যমে মানসিক রোগী শাশুড়িকে দিয়ে সকল সম্পত্তি রেজিষ্ট্রী করে নিজের নামে নিয়ে অতপর মেয়েকে নির্যাতন করে চলছে। পরিবারের লোকজন নিরুপায় হয়ে পড়েছে।

ঘটনার বিবরণ পরিবারের লোকজন জানান, বিগত ১০অক্টোবর/২০১৩ইং ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক ছেলে আবুল হাসান পিতা কলমতার মজুমদার সাং জগৎপুর , উপজেলা ও জেলা : রাজবাড়ীর সাথে মনোয়ারা বেগম,পিতা লোকমান খাঁন,সাং কেরোয়া , উপজেলা : ফরিদগঞ্জ ,জেলা : চাঁদপুর এর মধ্যে একটি চুক্তি নামা সম্পাদন পূর্বক বিবাহ বন্ধনে উভয়ে আবদ্ধ হয়। বিবাহের পর স্বাভাবিক নিয়মে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অল্প কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর শুরু হয় জামাইর প্রতারনা।

একমাত্র শালা সাহেদ হোসেন ও শাশুড়ি রৌশন আরা , শালি রাজু ও রেহানাসহ বাড়ির লোকজনের মধ্যে দুলাল পাটওয়ারী , মিজান পাটওয়ারী , আবুল হোসেন পাটওয়ারী জানান, বিবাহের পর মেয়েটি বাবা মারা যায় আর একমাত্র ভাই সাহেদ বিদেশ চলে যায় এরই মধ্যে সব বোনের বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়। ফলে বাড়িতে অভিভাবক বলতে কেউ ছিলনা। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শাশুড়ি( মানুসিক রোগী)‘র নামের সম্পত্তিগুলো এক এক করে জামাই আবুল হাসান তার নামে নিয়ে অন্যত্র বিক্রি শুরু করে। শাশুড়িকে থেরাপি দেওয়ার নাম করণ করে, ২৩/০৯/২০১৭ইং এ ৩৩.৭৭ শতক ও অপর আরেকটি দলীলে ২৩ শতক জমি নিজের নামে রেজিষ্ট্রী করে নেয়। দলীল করে নেওয়া জমির মধ্যে পূর্বে দুইবার বিক্রি করে দেয় অন্যত্র অত:পর সম্প্রতি ১৬/০৩/২১ইং এ ২৩ শতক জমি আ: মান্নান পিটু জামাই আবুল হাসান থেকে সু কৌশলে কিনে নেয়। মূল্য র্ধায্য ১৫লাখ ৬৬ হাজার টাকা হলেও বাস্তবে মূল্য পেয়েছে ২লাখ টাকা । আর দালাল মোবারক ও তার ছেলে নিয়েছে ৬০ হাজার টাকা। এ বিষয়ে আবুল হাসান নিজেই সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছে। এদিকে ভিটি মাটি সব নিয়ে বাড়িতে বিদ্যুৎতের মিটার পর্যন্ত নিজের নামে করে নিয়েছে।এ বিষয়ে সত্যতাস্বীকার কওে আবুল হাসান জানায়, যেহেতু আমার নামে বাড়ির দলীল সেই জন্যে বিদুৎতের মিটারও আমার নামে করে নিয়েছি। এ সবগুলো প্রতারনার কাজে বাড়ির মোবারক ও তার ছেলে জড়িত ছিল বলে সে জানায়। দলীলে স্বাক্ষীর মধ্যে দেখা গেছে আকবর হোসেন মনিরের নাম ।

মঙ্গলবার রাতে একমাত্র শালা বিদেশ থেকে বাড়ি ফিরে দেখে তার বাড়ি সম্পত্তি ও নিজ মায়ের অন্যত্র অবস্থান। এ পরিস্থিতিতে সে নিরুপায় হয়ে পড়েছে। কি করবে? কোথায় যাবে ? কে দেবে এর সমাধান!

এ বিষয়ে বাড়ির লোকজনসহ সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সেলর জানান, এ বিষয়ে একটি সুষ্ঠু সুরাহার প্রয়োজন। কেননা সম্পূর্ণরুপে একটি পরিবারের অসহায়ত্যকে পুঁজি করে এমন প্রতারনা মূলক কাজ কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

পরিবারের লোকজনের মধ্যে ভাই বোনসহ সকলেই এর একটি দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তিসহ সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার দাবী জানান।

এ বিষয়ে তার স্ত্রী মনোয়ারাও একই কথা জানান।তাছাড়া সে আরোও জানায়, প্রতিনিয়ত তাকে মানুসিক, শারিরীক, আর্থিক ও সামাজিক নির্যানত চালিয়ে যাচ্ছেতার স্বামী আবুল হাসান । প্রতিনিয়তই ঝগড়া-ঝাটি লেগেই থাকে।

শেয়ার করুন