chandpur report 1927

ফরিদগঞ্জে ব্যবসায়ীদের লকডাউন বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল

ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে উপজেলা সদরে গত বছরের লকডাউনের ক্ষতি ফুঁসিয়ে না উঠায় ব্যবসায়ীদের লকডাউন বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল। মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) সকালে কয়েকশ ব্যবসায়ী এ বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

এ সময় ফরিদগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কমিটির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দসহ অন্য ব্যবসায়ীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে উপজেলা সদরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে তালুকদার প্লাজার সামনে এসে সমাবেশের মাধ্যমে মিছিলটি শেষ করেন।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘লকডাউনে অফিস-আদালতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান খোলা রয়েছে। সেক্ষেত্রে আমাদেরও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হোক। গত বছরে লকডাউন চলাকালিন সময়ের ক্ষতি ফুসিয়ে আমরা এখনো কেটে উঠতে পারিনি। লকডাউনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হই আমরা ব্যবসায়ীরা। আমরা কোনও সাহায্য সহযোগিতা পাইনি। এজন্য আমাদের দাবি, আমাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হোক।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি মো. ফারুকুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারের দেওয়া বিধিনিষেধ মেনে এবং সম্মান জানিয়ে আমি চলতে চাই। ব্যবসায়ীরা লকডাউনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে তা আমার জানা নেই।

তিনি বলেন, ‘সরকার ঘোষিত লকডাউনের কয়েকটা দিন আমরা আগে দেখব। তারপর অবস্থা বুঝে আমরা বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করবো। আজকে যারা সরকারের দেয়া লকডাউনেরবিধি নিষেধ ভেঙে এই বিক্ষোভ মিছিল করেছে এর জন্য তারাই দায়ী।

ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত মো. বাহার মিয়া জানিয়েছেন, ‘লকডাউনের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ মিছিল বের হয়েছে, এখবর শুনে আমি পুলিশ পাঠিয়েছি। পুলিশ গিয়ে দেখে বিক্ষোভ কারিরা চলে গেছে।
তিনি আরো বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের সাথে যোগাযোগ করেছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের ঘোষনা বাস্তবায়নের জন্য পুলিশ প্রশাসন সর্বদা প্রস্তুত। যদি সরকারের নিয়ম নীতির বিরুদ্ধে কেহু কোন আচরন করে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারের দেওয়া নির্দেশনাকে তো কখনও বিক্ষোভ করে অমান্য করা যাবে না। যারা ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ রয়েছেন আমরা তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো।

এদিকে লকডাউন না মেনে মানুষ অবাধে চলাচল করছে বিষয়টি নিয়ে এদিকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিউলী হরির সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। পরবর্তিতে বাজার ব্যবাসায়ীদের লকডাউন বিরোধী মিছিলের বিষয়ে কথা বলার জন্য বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ফোন দেয়া হলে তাকে ফোনে পাওয়া যাই নি।

প্রসঙ্গত, সরকার সারাদেশ লকডাউন ঘোষণার পর ৪ এপ্রিল এক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ। ওই গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, চাঁদপুর জেলা করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ৫ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ১১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত করোনাভাইরাসজনিত রোগ (কোভিড-১৯)-এর বিস্তার রোধকল্পে নি¤েœ উল্লিখিত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো।

সব গণপরিবহন (সড়ক, নৌ, রেল) বন্ধ থাকবে। তবে পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা, জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে এই আদেশ প্রযোজ্য হবে না। সব সরকারি/আধা সরকারি/ স্বায়ত্ত শাসিত অফিস ও আদালত এবং বেসরকারি অফিস কেবল জরুরি কাজ সম্পাদনের জন্য সীমিত পরিসরে প্রয়োজনীয় জনবলকে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় অফিসে আনা-নেওয়া করতে পারবে। শিল্পকারখানা ও নির্মাণ কার্যাদি চালু থাকবে। শিল্পকারখানার শ্রমিকদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় অফিসে আনা-নেওয়া করতে হবে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। খাবারের দোকান ও হোটেল রেস্তোঁরায় কেবল খাদ্য বিক্রি/সরবরাহ করা যাবে। কোনও অবস্থাতেই হোটেল-রেস্তোরাঁয় বসে খাবার গ্রহণ করা যাবে না। শপিংমলসহ অন্যান্য দোকানসমূহ বন্ধ থাকবে। কাঁচামাল ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে।

শেয়ার করুন