munia

ফেসবুকে দেওয়া ছবিই কাল হলো মুনিয়ার!

নিউজ ডেস্ক : রাজধানীর গুলশানে অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার মোসারাত জাহান মুনিয়ার ময়নাতদন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে শেষ হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) মুনিয়ার নিথর দেহ নেওয়া হচ্ছে তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়।

মুনিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় নানা ধরনের রহস্যের জাল সৃষ্টি হয়েছে।

এজাহারে মামলার বাদী নুসরাত বলেন, ২৩ এপ্রিল মোসারাত তাকে ফোন করেন। মোসারাত তাকে বলেছেন, আনভীর তাকে বকা দিয়ে বলেছেন, কেন তিনি (মোসারাত) ফ্ল্যাট মালিকের বাসায় গিয়ে ইফতার করেছেন, ছবি তুলেছেন। ফ্ল্যাটের মালিকের স্ত্রী ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেছেন। এ ছবি পিয়াসা দেখেছেন। পিয়াসা মালিকের স্ত্রীর ফেসবুক বন্ধু। এখন পিয়াসা তার মাকে সবকিছু জানিয়ে দেবেন। তিনি (আসামি) দুবাই যাচ্ছেন, মোসারাত যেন কুমিল্লায় চলে যান। আসামির মা জানতে পারলে তাকে (মোসারাতকে) মেরে ফেলবেন।

দুদিন পর ২৫শে এপ্রিল মোসারাত তাকে ফোন করেন। ওই সময় তিনি কান্নাকাটি করে বলেন, আনভীর তাকে বিয়ে করবেন না, শুধু ভোগ করেছেন। আসামিকে উদ্ধৃত করে মোসারাত বলেন, আসামি তাকে বলেছেন, তিনি (মোসারাত) তার শত্রুর সঙ্গে দেখা করেছেন। মোসারাতকে তিনি ছাড়বেন না। মোসারাত চিৎকার করে বলেন, আসামি তাকে ধোঁকা দিয়েছেন। যেকোনো সময় তার বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তারা (বাদী নুসরাতের পরিবার) যেন দ্রুত ঢাকায় আসেন।

এজাহার অনুযায়ী, নুসরাত তার আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে দুপুর ২টার দিকে কুমিল্লা থেকে ঢাকায় রওনা দেন। আসার পথে বারবার মোসারাতের ফোনে ফোন করেন, কিন্তু তিনি আর ফোন ধরেননি। গুলশানের বাসায় পৌঁছে দরজায় নক করলে ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে নিচে নেমে আসেন। তারা নিরাপত্তারক্ষীর কক্ষ থেকে বাসার ইন্টারকমে ফোন করেন। পরে ফ্ল্যাট মালিকের নম্বরে ফোন দিলে মিস্ত্রি এনে তালা ভেঙে ঘরে ঢোকার পরামর্শ দেন। মিস্ত্রি ডেকে তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকার পর তিনি দেখেন, তার বোন ওড়না পেঁচিয়ে শোয়ার ঘরের সিলিংয়ে ঝুলে আছেন।

রাজধানীর গুলশানের অভিজাত ফ্ল্যাট থেকে কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের বিদেশ যাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

আনভীরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) ‍পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্য মহানগর হাকিম তা মঞ্জুর করেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) জাফর হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, আনভীরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে পুলিশের করা আবেদন আদালত মঞ্জুর করেছেন।

সোমবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর গুলশানের একটি বাসা থেকে ২১ বছর বয়সী ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় রাতেই তার বিরুদ্ধে মামলা করেন মুনিয়ার বোন নুসরাত জাহান।

19 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন