রোজার মাসে ডায়াবেটিস রোগীরা ইফতার-সেহরিতে যা খাবেন

হাকীম মিজানুর রহমান :
রোজার মাসে ডায়াবেটিস রোগীদের নিজেদের ব্যাপারে বিশেষ যত্নবান হতে হবে। কারণ যখন তখন ডায়াবেটিস বহন করা মানুষদের সুগার লেভেল কমে যেতে পারে। ফলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের সুগার লেভেল কমা বা বৃদ্ধির অনেক লক্ষণ রয়েছে।

ডায়াবেটিস রোগীদের সুগার লেভেল কমে গেলে বুঝতে পারবেন যেভাবে:

অতিরিক্ত ঘাম, ঠান্ডা লাগা, খিদে পাওয়া, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া এবং মাথা ঘোরা সমস্যার দেখা দিতে পারে। আবার সুগার লেভেল বেড়ে গেলে রোগীর ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যায় ও ঘন ঘন প্রস্রাব পেতে থাকে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সুগার রোগীদের রোজার মাসে প্রোটিন এবং ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত।

ডায়াবেটিস রোগীরা সেহরিতে যা খেতে পারেন:

ডায়াবেটিস রোগীদের সেহরিতে এমন খাবার খাওয়া উচিত যেগুলো একটু দেরিতে হজম হয়। সাধারণত সুগারের রোগীরা পরোটা খেতে পারেন না, তবে সেহরিতে কম তেল দিয়ে তৈরি পরোটা খেতে পারেন। দেরিতে হজম হয় এমন খাবারর মধ্যে হালিমও অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। হালিমে মাংস এবং ডাল থাকার কারণে ফাইবার প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়, যার ফলে দীর্ঘক্ষণ খিদে পায় না আবার পেটও ভর্তি থাকে। সেহরিতে অতিরিক্ত তেল-মসলা-ভাজা জাতীয় খাবার খাওয়া থেকে এড়িয়ে চলুন। সেহরিতে কাস্টার্ড বা কোনও ধরনের মিষ্টিজাতীয় খাবার খাবেন না।

ডায়াবেটিস রোগীদের ইফতার:

ডায়াবেটিস রোগীরা খেজুর দিয়ে রোজা খুলতে পারেন। গবেষণা অনুযায়ী একটি খেজুরে ছয় গ্রাম কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়। এ ছাড়া খেজুরে খনিজ, ফাইবার, ফসফরাস এবং পটাশিয়ামও রয়েছে। পটাশিয়াম ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। ইফতারের সময় ফলের সালাদ চিনি, ক্রিম এবং দুধ ছাড়াই খাওয়া যেতে পারে। সামান্য লেবুর রসও ফলের সঙ্গে দেওয়া যেতে পারে। তেল, লবণ লাল মরিচের গুঁড়ো এবং চিনিযুক্ত খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়া ঠিক নয়।

ডায়াবেটিস রোগীরা রোজার সময় খাদ্যতালিকায় ফল, শাকসবজি, ডাল, দই ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

পানিশূন্যতা দূর করতে, সুগার ফ্রি পানীয় বা যতটা সম্ভব বেশি পরিমাণে পানি পান করুন। ১৪-১৫ ঘণ্টা রোজার প্রভাব রক্তচাপের ওপর প্রভাব পড়ে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তচাপ সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। সময়মতো সুগার চেক করাও জরুরি।

শেয়ার করুন

অনুমতি ব্যতীত এই সাইটের কোনো সংবাদ, ছবি অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয়