chandpur report 1972

শাশুড়ির সহযোগিতায় পুত্রবধূকে ধর্ষণের পর হত্যা, লাশ গুমের চেষ্টা

গৃহবধূ আজমিনা আক্তার হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি গোলাপ মিয়ার সঙ্গে ওই গৃহবধূর সম্পর্ক তৈরিতে সহযোগিতা করতেন নিহত আজমিনার শাশুড়ি। ছেলে শাহনুর মিয়া কৃষিশ্রমিক হিসাবে বাহিরে কাজ করতে গেলে গোলাপ মিয়াকে বাড়িতে ডেকে আনতেন আজমিনার শাশুড়ি হেলেনা বেগম।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে হেলেনা বেগমের সহযোগিতায় ধর্ষিত হন আজমিনা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ধর্ষক গোলাপকে জুতাপেটা করেন আজমিনা। এরপর ক্ষিপ্ত হয়ে আজমিনার মাথায় টিউবওয়েলের (লোহার) হাতল দিয়ে আঘাত করে গোলাপ। এতে ঘটনাস্থলেই আজমিনার মৃত্যু হয়।

এ সময় লাশ গুমের চেষ্টা করে গোলাপ ও তার সহযোগীরা। কিন্তু সেহরির সময় ঘনিয়ে এলে তারা এতে ব্যর্থ হয়। পরে শাশুড়ি হেলেনার সহযোগিতায় রাতেই বাড়ির পাশে খড়খুটো দিয়ে আজমিনার মরদেহ ফেলে রেখে গোলাপ ও তার অন্য সহযোগীরা চলে যায়।

আজমিনা হত্যা রহস্য উদঘাটনের পর শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) এসব তথ্য নিশ্চিত করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাব-৯ সিলেট সিপিসি ৩ সুনামগঞ্জ ক্যাম্পের উপ-পরিচালক লে. কমান্ডার সিঞ্চন আহমেদ।

উল্লেখ্য, গত বুধবার সকালে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের জামবাগ জৈতাপুর গ্রামের কৃষক শাহনুর মিয়ার স্ত্রী আজমিনার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের শ্বশুর আমির হোসেন আমিরুল বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে বুধবার রাতে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার একদিন পরেই তথ্য-প্রমাণাদি সাপেক্ষে আজমিনার শাশুড়িসহ তিন আসামিকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

গ্রেফতাররা হলেন- হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের জামাবাগ জৈতাপুর গ্রামের মৃত নাজির হোসেনের ছেলে গোলাপ মিয়া, তার সহযোগী একই গ্রামের আকরম আলীর ছেলে সোহাগ মিয়া এবং নিহত গৃহবধূর শাশুড়ি হেলেনা বেগম।

আরও পড়ুন : যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার

শুক্রবার সন্ধ্যায় তাদের তাহিরপুর থানায় সোপর্দ করেছে র‌্যাব।

পুলিশ জানায়, এটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। মঙ্গলবার গভীর রাতে টিউবওয়েলের হাতল দিয়ে আজমিনার মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে হত্যা করে ঘাতকরা। এরপর খড়খুটো দিয়ে লাশ ঢেকে রেখে যায়। আজমিনা হত্যায় আসামিরা তাদের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় লে. কমান্ডার সিঞ্চন আহমেদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি গোলাপ গ্রামের প্রভাবশালী ও লাঠিয়াল। দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়ে শাশুড়ি হেলেনাকে টাকা-পয়সা দিয়ে হাত করে ইতোপূর্বে কয়েকবার দুই সন্তানের জননী আজমিনাকে ধর্ষণ করে গোলাপ। মঙ্গলবারও আজমিনাকে ধর্ষণের পর হত্যা এবং লাশ গুমের ঘটনায় সরাসরি সহযোগিতা করেন আসামি হেলেনা বেগম।

 

তিনি আরও বলেন, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এর আগেও হেলেনা বেগম টাকা-পয়সা খেয়ে বিভিন্ন মেয়েকে ভোগের সুযোগ তৈরি করে দেয় গোলাপকে।

শুক্রবার রাতে তাহিরপুর থানার ওসি মো. আব্দুল লতিফ তরফদার জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত জব্দ করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

শেয়ার করুন