press

সংবাদ প্রকাশের কারণে গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধ করুন-আর্টিকেল নাইনটিন এর দাবি

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের প্রতি হুমকি

ঢাকা, ২৬ এপ্রিল, ২০২১:

বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে মতপ্রকাশের কারণে দেশজুড়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ব্যাপকহারে মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল নাইনটিন। বিতর্কিত এই আইনের জাতাকলে পিষ্ট মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। আর্টিকেল নাইনটিন নিয়মিত গণমাধ‌্যম ও নিজস্ব উৎস থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার তথ‌্য সংগ্রহ করে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এই তিন মাসে স্বাধীন মতপ্রকাশের কারণে মোট ৩৮ টি মামলা হয়েছে। এর মামলায় সাংবাদিক আছেন ৫ জন।

সম্প্রতি অনিয়ম-দুর্নীতির খবর প্রকাশ করায় ‘আমার হবিগঞ্জ’ পত্রিকা অফিসে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া খুলনায় মেয়রকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ ফেসবুকে শেয়ার করা এবং রংপুরে ফেসবুকে স্ট‌্যাটাস দেওয়ায় দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র। খুলনার সাংবাদিক আবু তৈয়বকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। আর্টিকেল নাইনটিন এসব গ্রেপ্তার, হামলা ও মামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানায়। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার করা সাংবাদিককে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি এবং দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও হামলার উপযুক্ত তদন্ত ও বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানায়।

আর্টিকেল নাইনটিনের বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল বলেন, ‘বেশ কয়েক বছর ধরেই সরকারি নানা স্থাপনা নির্মাণের কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির খবর পত্রিকায় প্রকাশ হচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের বিভিন্ন দুর্নীতির তদন্ত তো দূরের কথা অপকর্মগুলো ধামাচাপা দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব‌্যবহার হচ্ছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। এই আইনের মাধ‌্যমে ভিন্নমত ও সমালোচনা দমনের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।’

২১ এপ্রিল খুলানা সিটি করপোশনের মেয়রকে নিয়ে করা একটি সংবাদ ফেসবুকে শেয়ার দেওয়ায় খুলনার সাংবাদিক আবু তৈয়ব মুন্সিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি এখনো কারাগারে রয়েছেন। একই ভাবে রংপুরের মেয়রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক রিপোর্ট প্রকাশ ও মেয়রের অনিয়ম নিয়ে ফেসবুকে স্ট‌্যাটাস দেওয়ায় সাংবাদিক রতন সরকারের নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র। এর আগে রতন সরকারের উপর হামলাও চালানো হয়। রতন সরকার এখন গ্রেপ্তারের ভয় ও প্রাণ নাশের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে বর্তমানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে জানান তিনি।

ডিজিটিাল নিরাপত্তা আইনে বারবার হয়রানির শিকার হয়েছেন ও হচ্ছেন মুক্তচিন্তার মানুষ। বিভিন্ন সময় লেখক, কার্টুনিস্ট, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক-সম্পাদকের বিরুদ্ধে এ আইনে মামলা হয়েছে। ফারুখ ফয়সল বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব‌্যবহারের প্রবণতা বেড়ে গেছে অনেক। এতে আর্টিকেল নাইনটিন অত‌্যন্ত উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত। এ আইনে অধিকাংশ মামলা দায়ের করছে ক্ষমতাসীনরা, ফলে সরকারের এ বিষয়ে আরো সচেতন হওয়া জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দেখবে সাইবার সিইকউরিটির বিষয়গুলো। মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার জন‌্য এই আইন ব্যবহার অন্যায়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বলা আছে, ১২০ দিনের মধ‌্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। এক্ষেত্রে না হলে আরো ৯০ দিনের মধ‌্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। যদি এর সঠিক প্রয়োগ হতো তাহলে লেখক মুশতাককে জেলখানায় মরতে হতো না। আইনের যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না বরং হেনস্থা করা হচ্ছে এই আইন দিয়ে। ফলে এই আইন পুনর্বিবেচনা করতেই হবে।’

১৯ এপ্রিল হবিগঞ্জে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মন্দিরের জমি দখল বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় দৈনিক আমার হবিগঞ্জ অফিসে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। ভুক্তোভোগীর অভিযোগ স্থানীয় সাংসদের নির্দেশে এবং পুলিশের উপস্থিতিতেই এ হামলা হয়েছে। পরে হামলাকারীরা আমার হবিগঞ্জ পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে পাল্টা হামালার অভিযোগ এনে তাঁকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

শেয়ার করুন