chandpur report 730

হাইমচরে চাঁদাবাজের হাতে জিম্মি বালু ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিনিধি :

হাইমচর উপজেলার পুরান কলেজ সংলগ্ন রাস্তার দুই পার্শ্বে বালু ব্যাবসায়ীরা চাঁদাবাজদের কাছে জিম্মী হয়ে আছেন। চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট স্থানীয় বালু ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছেন বলে প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বালু খোলা মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চাঁদাবাজীর সাথে জড়িত থাকায় কেউ ভয়ে মুখ খুলছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

চাঁদার টাকা না দিলে বালু ব্যবসা বন্ধ করে দেয়া সহ প্রান নাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় মোস্তাফিজুর রহমান কাজল পাটওয়ারী ও দিদারুল ইসলাম গং এর বিরুদ্ধে ।

এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা গতকাল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারীর নিকট চাঁদা বাজদের হাত থেকে রক্ষা পেতে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

লিখিত অভিযোগে জানাগেছে, উপজেলার আলগী দক্ষিন ইউনিয়নের পশ্চিমচরকৃষ্ণপুর গ্রামের পুরাতন কলেজ সংলগ্ম এলাকায় বাদল ঢালী, মাজহারুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম ও রাসেল আখন দীর্ঘ দিন থকে বালু ব্যবসা করে নিজেদের সংসার জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। ব্যবসা শুরু করার পর থকেইে স্থানীয় কাজল পাটওয়ারী ও দিদার ইসলামের নেতৃত্বে কতিপয় লোক বালু ব্যবসায়ীদের জিম্মী করে প্রতি ফুট বালু বাবদ ৫০ থেকে ৬০ পয়সা করে চাঁদা তুলতো। বর্তমানের তাদের ব্যবসার ফলন ভাল না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজদের দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দিয়ে হত্যার হুমকি ধমকি দিয়েছে।
ব্যবসায়ীরা নিরুপায় হয়ে হাইমচর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের নিকট চাঁদা বন্ধের দাবি জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।

বালু ব্যবসায়ী টেলু খাঁন জানান, আমার কাছ থেকে ব্যবসায়ীরা বালু ক্রয় করে নিয়ে তারা তা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। স্থানীয় কাজল পাটওয়ারী ও দিদার ইসলাম গং সিন্ডিকেট আমাকে জিম্মি করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি ঘনফুট বালুতে ৬০ পয়সা চাঁদা নেয়ার পাশাপাশি আমার কাছ থকেও চাঁদা নিতো। এমন করে প্রতি মাসে ৮/১০ লাখ ফুট বালি হতে ৪/৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এমনকি আমার বিক্রি করা বালির টাকা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়ে প্রায় ২১ লাখ টাকা আটকিয়ে রেখেছে।

এখন আমরা তাদের দাবীকৃত প্রতি ফুটে ৬০ পয়সা হারে চাঁদার টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তারা আমাদের ব্যবসা বন্ধ করে রেখেছে। শুধু তাই নয় আমাকে হত্যা করা সহ নানারকম ভয়ভিতি দেখিয়ে আসছে। আমি কাজল পাটোয়ারীর নিকট ২১ লাখ টাকা পাওনা রয়েছি। তিনি আমার পাওনাকৃত টাকা না দিয়ে উল্টো আমার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছে। আমি সুষ্ঠ সমাধানের জন্য প্রশাসনের নিকট দাবী জানাচ্ছি। হাইমচর থানায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েও কোন সুরাহা পাইনি, বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় আছি।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূর হোসেন পাটওয়ারী বলেন, বালু ব্যবসায়ীদের নিকট ৫/৬ বছর যাবত স্থানীয় কাজল পাটওয়ারী গংরা চাঁদা দাবি করে আসছে এমন একটি অভিযোগ পেয়েছি। আমি উভয় পক্ষকে আগামীকাল আমার অফিসে ডেকেছি। উভয়ের কথা শুনে চাঁদাবাজি বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা যাতে ব্যবসা করতে পারে সে বিষয়ে সমাধান করার চেষ্টা করবো। সমাধান না হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যস্থা গ্রহন করার সুপারিশ করবো।

হাইমচর থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাহবুব রহমান মোল্লা জানান টেলু খান কাজল পাটওয়ারী হতে ২১ লাখ টাকা পাওনা আছে এ বিষয়ে একটি অভিযোগ তদন্তাধীন আছে। বালু ব্যবসা নিয়ে আইন শৃংখলা যাতে অবনতি না হয় সে বিষয়ে পুলিশ ব্যবস্থা নিবে। বালু ব্যাবসায়ী হতে প্রতি ফুট বালুতে ৬০ পয়সা চাঁদা নেয়ার বিষয়টি তিনি অবগতন নন বলে জানান।

8 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন