নগরী Babu nogori

হেফাজতের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা

নিউজ ডেস্ক : দেশের বিভিন্ন জেলায় তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এরপর এ সংগঠনটি নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা ও সমালোচনা। একে একে গ্রেফতার হয় সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা। সবশেষ এবার সংগঠনটির কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার (২৫ এপ্রিল) হাটহাজারী মাদ্রাসায় এক সভা শেষে এ বিপুপ্তির ঘোষণা দেওয়া হয়।

এদিকে সহিংসতার কথা বলে একের পর এক নেতার পদত্যাগই প্রমাণ করে নাশকতায় হেফাজত জড়িত। নারায়ণগঞ্জে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমিরের মৌখিক পদত্যাগের পর সম্প্রতি পদত্যাগ করেন ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মাওলানা আব্দুর রহিম কাসেমী।

জেলার স্থানীয় সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো বলছে, তাণ্ডবের ঘটনায় কেন্দ্রীয় নেতাদেরও বিচার হওয়া উচিত।

স্বাধীনতা দিবসে এমন তাণ্ডব এর আগে দেখেনি বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, রেলস্টেশন, সকল সরকারি বেসরকারি অফিসসহ ভাঙচুর করা হয় শহরের এ মাথা থেকে ও মাথা পর্যন্ত।

এমনকি হামলা করা হয় পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়েও। শুধু একদিন নয় অন্তত দুদিন চলে এমন মধ্যযুগীয় হামলার ঘটনা।

ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সেই তাণ্ডবের দ্বিতীয় সংস্করণ যেন নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ডে ঘটে ২৮ মার্চ হেফাজতের হরতালের দিন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে হেফাজতের নারাণয়গঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি আব্দুল আউয়াল পদত্যাগ করেন।

সেই রেশ কাটতে না কাটতে শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) পদত্যাগ করলেন ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আর এক নেতা। লিখিত বক্তব্যে জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমি কাসেমী দাবি করেন তিনি হামলার সঙ্গে জড়িত নন। এমনকি তিনি এমন হামলার বিচারও দাবি করেন। তবে কথা বলেননি সাংবাদিকদের সঙ্গে।

এই নেতার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয় হেফাজত তাণ্ডবের সঙ্গে জড়িত। এমন মন্তব্য করেছেন ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীতাঙ্গনের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম বলেন, তিনি পদত্যাগ করে যারা এই ঘটনার সাথে যুক্ত এবং ইঙ্গিত করেছেন যে হেফাজত এই তাণ্ডব সংঘটিত করেছেন। আর এই তাণ্ডবের সাথে তিনি যুক্ত নন এবং যারা এ তাণ্ডব ঘটিয়েছে তাদের বিচার ও তিনি দাবি করেছেন।

ব্রাহ্মবাড়িয়ার তিতাস আবৃত্তি সংঘঠনের পরিচালক মনির হোসেন বলেন, হেফাজতের নির্দেশে ব্রাহ্মবাড়িয়ায় অন্তত অর্ধশত প্রতিষ্ঠানে যারা অগ্নিসংযোগ করেছেন নারকীয় তাণ্ডব চালিয়েছেন সেই হেফাজতের চিহ্নিত কোনো নেতাকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হলো না।

তাদের দাবি, অবিলম্বে হামলার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা উচিত। যাতে আর কেউ কখনো এমন হামলার সাহস না করে।

শেয়ার করুন