কচুয়ায় ছেলের চিকিৎসা করাতে না পেরে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছেন মা

অর্থের অভাবে ছেলের চিকিৎসা করাতে না পেরে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছেন মা। চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার বিতারা ইউনিয়নের চাংপুর গ্রামের ঘটনা এটি।

শিকলে বাঁধা ছেলেটির নাম জুবায়ের হোসেন (২২)। বাবা দুলাল মিয়া চট্টগ্রামে দিনমজুরের কাজ করেন। তিন ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে দুলালের সংসার। জোবায়ের তার তৃতীয় সন্তান। বড় দুই ছেলে ওমর ফারুক (৩০) ও নবীর হোসেন (২৫) বিয়ে করে আলাদা সংসার পেতেছেন। বর্তমানে তারা চট্টগ্রামে থাকেন। বাড়িতে থাকে জোবায়ের, তার মা মর্জিনা বেগম ও ছোট বোন জান্নাতুল ফেরদৌস থাকে।

পাঁচ বছর আগে হাফেজি পড়ানোর জন্য চট্টগ্রামের একটি মাদরাসায় জুবায়েরকে ভর্তি করা হয়েছিল। মাদরাসার এক শিক্ষক শাসন করতে গিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে মাথায় সমস্যা তৈরি হয়। ওই সময় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা করার পর কয়েক বছর ভালো ছিল জুবায়ের।

কয়েকদিন আগে একই সমস্যা আবার দেখা দেয়। সেই সঙ্গে হারিয়ে ফেলেন মানসিক ভারসাম্য। এ অবস্থায় এক সপ্তাহ ধরে গাছের সঙ্গে তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন মা।

জুবায়ের হোসেনের মা মর্জিনা বেগম বলেন, জুবায়ের বিভিন্ন সময় ঘরের আসবাবপত্র ভেঙে ফেলে। রাস্তাঘাট দোকানপাটে গিয়ে অনেকের গায়ে আঘাত করে এবং বিভিন্ন দোকানের মালামাল ছুড়ে ফেলে দেয়। আমার পক্ষে সারাক্ষণ তাকে দেখে রাখা সম্ভব হচ্ছিল না। এজন্য ঘরের বাইরে গাছের সঙ্গে তাকে বেঁধে রেখেছি।

তিনি আরও বলেন, হাত-পা শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেও রাতে ঘুমাতে পারি না। কারণ কখন কি করে বসে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। আমরা গরিব মানুষ। স্বামী চট্টগ্রামে দিনমজুরের কাজ করেন। ঠিকমতো সংসার চালানো দায়। ছেলের চিকিৎসা করব কীভাবে? তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের সামর্থ্য নেই।

বিতারা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসহাক শিকদার বলেন, জুবায়েরের বিষয়টি জানি। তার চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করব।

জুবায়ের হোসেনকে যদি কেউ চিকিৎসার জন্য সহায়তা করতে চান তাহলে (০১৮২৫-০৫৬৬১২) এই মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের অনুরোধ করেছেন মা মর্জিনা বেগম।

শেয়ার করুন

অনুমতি ব্যতীত এই সাইটের কোনো সংবাদ, ছবি অন্য কোনো মাধ্যমে প্রকাশ আইনত দণ্ডনীয়