ইসলাম

দুর্নীতিগ্রস্তরা সব সময়ই সাংবাদিকদের ওপর ক্ষ্যাপা হয়ে থাকে

সমসাময়িক প্রসঙ্গ: অনুমতি ছাড়া করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের সরকারি নথির ছবি তোলার অভিযোগে দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখার পর শাহবাগ থানা পুলিশে সোপর্দ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলেন প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলাম। তিনি এর পূর্বেও ওই মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সংবাদ লিখেছিলেন। ওই সংবাদগুলো ছিলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি বিষয়ক। ফলে ওই সব সংবাদ রচনার দায়-দায়িত্ব তাকে গতকাল নিতে হয়েছে। তিনি সেখানে গেলে মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিদের রোষাণলে পতিত হন, ফলে যা হবার তাই হলো, তাকে চরম অবস্থায় পতিত হতে হলো।

এ যেনো একটি ন্যাক্কারজনক পরিস্থিতির খোলা অংশ দৃশ্যায়িত হলো। মূলত বর্তমানে সংবাদমাধ্যম ও সংবাদকর্মীরা কোন অবস্থানে থেকে বাংলাদেশে কাজ করছেন, তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া হলো।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি মোল্লা জালাল ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ রোজিনা ইসলামের সঙ্গে স্বাস্থ্য সচিবের স্টাফদের আচরণ এই মন্ত্রণালয়ের সকল লুটপাট ও কলঙ্কের মধ্যে নিকৃষ্টতম একটি ঘটনা।’

আসলে সংবাদকর্মীদের রাষ্ট্রীয় সামাজিক কোনো ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা নেই। তারা একপ্রকার জ¦লন্ত কড়াই থেকে উনুনের মধ্যে মাঝে মাঝে পড়ে যান। দুর্নীতিগ্রস্তরা সব সময়ই সাংবাদিকদের ওপর ক্ষ্যাপা হয়ে থাকেন। কারণ এই সাংবাদিকসমাজই তাদের সমস্ত দুর্নীতি চিত্র জনসম্মুখে প্রকাশ করে থাকেন, ফলে তারা সর্বক্ষেত্রেই তোপের মুখে থাকেন।

ওই দিন মূলত কী হয়েছে, তারা ধীরে ধীরে ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে, সরকারের জন্য এ এক অশনিসংকেত। সরকারকেই এর দায় নিতে হতে পারে।

কারণ অন্যায় হলো আগুন। দীর্ঘদিন তা চাপা দিয়ে রাখা যাবে না। সুতরাং সংবাদকর্মীদের ওপর জুলুম করে, তাদের ওপর অন্যায় চাপিয়ে দিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করা যাবে না। সত্য প্রকাশিত হয়ে পড়বে।

উল্লেখ্য, রোজিনা ইসলাম অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় বিশেষ কৃতিত্বের জন্য কানাডিয়ান অ্যাওয়ার্ডস ফর এক্সিলেন্স ইন বাংলাদেশি জার্নালিজম (২০১১), টিআইবির অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার (২০১৫), পিআইবি ও দুদকের উদ্যোগে দুর্নীতি প্রতিরোধে গণমাধ্যম পুরস্কার বাংলাদেশসহ (২০১৪) বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছেন। এ ধরনের একজন সাংবাদিককে ঠুনকো অজুহাতে ন্যাক্কারজনকভাবে অপদস্থ করা মোটেই সমীচিন হয়নি।

মিজানুর রহমান রানা, সম্পাদক, চাঁদপুর রিপোর্ট

12 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন