ও বাবুল mitu babul akther

যে কারণে স্ত্রী মিতুকে তালাক না দিয়ে খুন করালেন বাবুল আখতার

আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যার নেপথ্য কারণ নিয়ে রোমহর্ষক তথ্য দিয়েছেন স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তার। বাবুলের পরকীয়া ছাড়াও ইয়াবা সিন্ডিকেট, সোনা সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ততাসহ স্পর্শকাতর অনেক তথ্য জেনে গিয়েছিলেন মিতু। এসব তথ্য মিতুর কাছ থেকে ফাঁস হলে দীর্ঘদিনের অর্জন ম্লান হতো এমন শঙ্কা ছিল তার। তাই নিজস্ব লোক দিয়ে স্ত্রীকে খুন করান বাবুল। মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাদের তদন্ত এবং বাবুলকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পেয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআইর পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, ‘মামলার তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে অনেক তথ্য পেয়েছি। পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যগুলোর সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মামলা তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, বাবুল আক্তার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কক্সবাজারে দায়িত্ব পালনকালে ভারতীয় নাগরিক গায়ত্রী অমর সিংয়ের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। পরকীয়া ছাড়াও মিতুকে বিয়ের পর বাবুল আরও দুটি বিয়ে করেছেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম নূরজাহান এবং তৃতীয় স্ত্রী ইসমত জাহান মুক্তা। একই সময় জড়িয়ে পড়েন বন্দুকযুদ্ধে নিহত দেশের শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী সাইফুল করিমের সঙ্গে। বদলি হয়ে চট্টগ্রাম চলে আসার পর তার সখ্য গড়ে ওঠে দেশের তিন শীর্ষ সোনা কারবারি সিন্ডিকেটের সঙ্গে। কিছু ক্ষেত্রে বাবুলের গাড়িতে করে ইয়াবা ও সোনা পাচারও হতো। গায়ত্রী বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর আরও কয়েকজন নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বাবুল। বাবুলের একাধিক পরকীয়ার খবর মিতুর কানে গেলে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। এ সময় মিতুকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন বাবুল। গোমর ফাঁস হওয়ার শঙ্কা থেকেই মিতুকে খুন করেন তিনি। মিতু হত্যায় বাবুলের সম্পৃক্ততার বিষয়টি মিতুর পরিবার প্রকাশ্যে বলা শুরু করলে শঙ্কিত হয়ে পড়েন বাবুল। এ সময় বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চিন্তা করেন তিনি। কিন্তু তৃতীয় স্ত্রীর এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী আত্মীয় তার পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তার আশ্বাস পেয়ে দেশে থেকে যান বাবুল। মিতু হত্যার অভিযোগে বাবুল গ্রেফতার হওয়ার পর তৃতীয় স্ত্রীর আত্মীয় ওই ব্যবসায়ী প্যানেল গঠন করেন আইনজীবীদের নিয়ে। বাবুলকে সার্বিক সহায়তার জন্য মাঠে নামেন তিনি।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, একাধিক নারীর সঙ্গে পরকীয়ার কারণে বাবুল ও মিতুর মধ্যে দূরত্ব বাড়ে। বাবুলের শঙ্কা ছিল মিতুকে তালাক দিলে গোপন তথ্য ফাঁস করে দেবে। এতে করে দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ও খ্যাতি ম্লান হবে তার। তাই মিতুকে খুনের পরিকল্পনা করেন বাবুল। পরিকল্পনা অনুযায়ী বাবুলের বিশ্বস্ত সোর্স কামরুল ইসলাম শিকদার ওরফে মুছাকে দিয়ে খুন করানো হয়। অপর একটি সূত্র দাবি করেন, ‘মিতুকে খুন করার জন্য মুছাকে বলা হলে মুছা বাবুলকে বলেন মিতুকে ডিভোর্স দিতে। এ সময় বাবুল রাগান্বিত হয়ে মুছাকে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেন। পরে বাধ্য হয়ে বাবুলের কথামতো মুছা এ কিলিং মিশনে অংশ নেন।’ প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ জুন নগরীর জিইসির মোড় এলাকায় ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে খুন হন সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনায় বাবুল আক্তার বাদী হয়ে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। খুনের পাঁচ বছর পর পিবিআই তদন্তে এ খুনের সঙ্গে বাবুল আকতারের সংশ্লিষ্টতা পায়। পরে পুরনো মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে নতুন করে মামলা করা হয়, যেখানে আসামি করা হয় বাবুল আক্তারকে।

শেয়ার করুন