810

শাহরাস্তিতে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত যুবক ॥ আটক ৩

মোঃ কামরুজ্জামান সেন্টুঃ
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুত্বর আহত মোঃ বেলায়েত হোসেন (২৮)। বর্তমানে সে মুমুর্ষ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ওই ঘটনায় শাহরাস্তি মডেল থানায় আহতের পিতা হাছান আহমেদ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) দিনগত রাতে ওই মামলার প্রেক্ষিতে ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়নের যাদবপুর গ্রামের বশির উল্যাহ ডাক্তার বাড়ির মৃত মুনছুর আলীর পুত্র হাছান আহমেদের সাথে একই বাড়ির মৃত আনছর আলীর পুত্র আবদুল কুদ্দুছদের দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তিগত বিরোধ চলে আসছিলো। ওই বিরোধের জের ধরে ইতোপূর্বে বেশ কয়েকবার মারধর ও মামলা ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার দিন গত ২৫ এপ্রিল সকালে আবদুল কুদ্দুছের পরিবার হাছান আহমেদের জায়গায় একটি খড়ের গাদা দেয়ার চেষ্টা করলে তারা বাঁধা প্রয়োগ করে। এতে উভয় পক্ষের বাকবিতন্ডা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে অতর্কিত ভাবে প্রতিপক্ষ আবদুল কুদ্দুছের পরিবারের লোকজন হাছান আহমেদের পুত্র বেলায়েত হোসেনের উপর হামলা করে। এতে বেলায়েত হোসেন গুরুতর আহত হয়। গুরুতর আহত বেলায়েত হোসেনকে উদ্ধার করে প্রথমে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করার পর আহত বেলায়েতের মাথায় মারাক্তক রক্তার জখম সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা জখমী স্থানে সেলাই করা হয়। পরবর্তীতে মাথায় প্রচন্ড আঘাতের কারণে তার বমি বন্ধ না হওয়ায় পরদিন তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মুমুর্ষ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। ওই ঘটনায় আহতের পিতা বাদী হয়ে শাহরাস্তি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার প্রেক্ষিতে গত ৩০ এপ্রিল শুক্রবার দিনগত রাতে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ আনিছুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স যাদবপুর আসামীদের বসতঘর হতে মৃত আনছর আলীর পুত্র আবদুল কুদ্দুছ (৪৫), আবদুল কুদ্দুছের পুত্র মোঃ ফারুক (২৫) ও আরিফুর রহমান প্রকাশ মুন্সিকে (২০) আটক করেন। পরদিন তাদের কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়।
এ বিষয়ে মামলার বাদী হাছান আহমেদ জানান, প্রতিপক্ষ আবদুল কুদ্দুছের সাথে আমাদের দীর্ঘদিন সম্পত্তিগত বিষয় সহ নানাহ বিষয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। ঘটনার দিন সকালে তার পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে জোরপূর্বক আমাদের সম্পত্তিতে খড়ের গাদা তৈরি করতে গেলে আমি বাঁধা দেই। একপর্যায়ে তারা পুরো পরিবারের লোকজন আমার পুত্র বেলায়েতের উপর অতর্কিত হামলা করে। হামলায় আমার পুত্র বেলায়েতের মাথায় রক্তাক্ত জখম সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। তার মাথা সহ পুরো শরীরের প্রায় ২০টির বেশি সেলাই করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা বেগতিক। সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। আসামী পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা বর্তমানে আমাদের বিভিন্ন ভাবে প্রাণনাশের হুমকী ধমকী প্রদর্শণ করছে। আমরা তাদের এহেন অত্যাচার, অবিচার ও মামলা-হামলার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায় বিচার প্রার্থণা করছি।

22 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন