rape ধর্ষণ logo

বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, ধর্ষককে ভাগিয়ে দিলেন দু’ইউপি সদস্য

মেহেদী হাসান রাসেল : টাঙ্গাইলের সখীপুরে মোস্তফা কামাল (৩৬) নামের এক দিনমজুরের বিরুদ্ধে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এক যুবতীকে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে। স্থানীয়রা ধর্ষককে আটক করলে মীমাংসার কথা বলে ধর্ষককে ছাড়িয়ে নিয়ে ভাগিয়ে দেন স্থানীয় দুই ইউপি সদস্য। গত ২৬ মে বুধবার বিকেলে উপজেলার হাতিবান্ধা ইউনিয়নের রতনপুর খন্দকারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষককে হাতছাড়া করে দিশেহারা প্রতিবন্ধী ও নারীর পরিবার বিচারের দাবিতে এখন ধারে ধারে ঘুরছেন।

ধর্ষিতা ও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২৬ মে বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ওই যুবতী (২০) গরুর ঘাস কাটতে বাড়ির পাশে জঙ্গলের ধারে যান। এ সময় আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা যাদবপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য শিউলী বেগমের বাসায় ভাড়া থাকা দিনমজুর ভূয়াপুর উপজেলার মোস্তফা কামাল (৩৬) তার মুখে গামছা বেধে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে মেয়েটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন দৌড়ে এসে মেয়েটিকে উদ্ধার এবং ধর্ষক মোস্তফাকে আটক করে উত্তমমাধ্যম দেন। খবর পেয়ে নারী ইউপি সদস্য শিউলী বেগম ৬নং ওয়ার্ডের আরেক ইউপি সদস্য বছির উদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে ওই মেয়েটির বাড়ি ছুটে আসেন। বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে ধর্ষক মোস্তফাকে বাসায় নিয়ে যান। পরদিন থেকে ধর্ষক মোস্তফাকে আর খোঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা বলে দাবি করেন ওই দুই ইউপি সদস্য। বিচারের দাবি নিয়ে ওই দুই ইউপি সদস্যয়ের কাছে গেলে ধর্ষককে খোঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে নানা তালবাহানা করছেন। এ দিকে অসহায় ওই পরিবার ইউপি সদস্যদের ভয়ে থানা পুলিশ করারও সাহস পাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য শিউলী বেগম এবং ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বছির উদ্দিন একই সুরে বলেন, আমরা দায়িত্ব নেইনি মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে মীমাংসার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পরদিন থেকে মোস্তফাকে আর খোঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা এবং তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ রয়েছে।

ওই ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি আমার ইউনিয়নের মধ্যে হলেও মীমাংসার দায়িত্ব নেওয়া দুই ইউপি সদস্যই আমার পাশের যাদবপুর ইউনিয়নের।মেয়েটির পরিবারকে আইনী সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

ধর্ষিতা ও তার বাবা ধর্ষক মোস্তফাকে অভিলম্ভে গ্রেফতার এবং তাকে যারা পালাতে সহায়তা করেছেন তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একে সাইদুল হক ভূইয়া বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা নেই। অভিযোগ পেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন