উত্তর নান্নু মিয়া

মতলব উত্তরে নান্নু মিয়ার রহস্যজনক মৃত্যু : হত্যা না আত্মহত্যা?

গোলাম নবী খোকনঃ চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণচক গ্রামের নান্নু মিয়া সরকার গত ৩ জুন আত্ত্বহত্যা করেন। তার আত্ত্বহত্যার খবর পেয়ে মতলব উত্তর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল এসে লাশের সুরতহাল রির্পোট তৈরী করে থানায় নিয়ে যায়।

পর দিন ৪ জুন থানা পুলিশ লাশের ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর মর্গে প্রেরন করেন। সরেজমিন রির্পোটে জানা যায়, নান্নু মিয়ার বড় ছেলের স্ত্রী লায়লা জানান ঘটনার আগের দিন ঢাকায় এক বিয়ের অনুষ্ঠানে যাই, ঘটনার দিবাগত রাত আনুমানিক ৯ টায় আমরা এ ঘটনার খবর জানতে পেয়ে আমার স্বামী ও আমার সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসার সময় আমি আমার বাপের বাড়িতে থাকি, বাচ্চার বাবা বাড়ি চলে যায়।

আমি সকালে এসে ঘটনা শুনি, মানুষে একেক সময় একেক কথা বলে, কেহ বলে ফাঁসি দিয়ে আত্ত্বহত্যা করছে কেহ বলে তাকে মেরে ঝুলানো হয়েছে, এখন আল্লাহ ছাড়া আর কিছু বলতে পারবনা। নান্নু মিয়ার ছেলে রাসেলের সাথে মুঠো ফোনে কথা বললে তিনি জানান তার বাবা আত্বহত্যা করেছে। একই এলাকার মাতাব্বর তাফাজ্জল হোসেন সরকার বলেন ওরা আমার বাড়ির লোক, অনেক আগে নতুন বাড়িতে বসবাস করে। ঘটনার দিন সন্দ্ব্যার পরে শুনি আত্ত্বহত্যার ঘটনা।

নাম না বলতে অনিচ্ছুক কিছু সংখ্যক ব্যাক্তি এ প্রতিনিধিকে জানান, ছেলেরা ও ছেলের মা সহ নান্নু মিয়াকে মেরে ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখছে। তার হাটু বিছানায় লাগানো ছিল, তার বাবাকে মেরে তারা বাড়ি থেকে গরু নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করে দেয়, তবে ১ টি গরু ৭০ হাজার টাকা বিক্রি করে দিয়েছে, তাৎক্ষনিক ঐ টাকা যেখানে যা দেওয়ার কথা ঐ ভাবেই দিয়াছে বলে এলাকা বাসির বক্তব্য। তবে অনেকেই ভয়ে কথা বলতে নারাজ। থানার এসআই রমিজউদ্দিন বলেন আমরা লাশের সুরতহাল করেছি, তেমন কোন বড় ধরনের আঘাত নাই,তবে এলাকা বাসির ধারনা তাকে মেরে ঝুলানো হয়েছে। তবে তাদের ছেলেদের সাথে কথা বলেছি, তারা বলে আমরা গরু বিক্রি করতে গিয়েছি বাড়িতে এসে দেখি এ ঘটনা।

আরেক সূত্রে জানা যায়, মৃত নান্নু মিয়ার আপন ভাগিনা সুজাতপুর গ্রামের জনৈক সোবান মিয়ার ছেলে সুমন অটো রিক্সা চালক, তার কাছে কথা বললে জানায়, ৩ জুন সকালে আমার মামা নান্নু মিয়া আমাকে মুঠো ফোনে বলে আমাকে তোর মামি ও তোর মামাতো ভাইয়েরা আমাকে প্রায় মারদর করে, গত ৪ জুন আমাকে মেরেছে, আজকেও মেরে আমার পাঁজরের হাড় ভেঙ্গে ফেলেছে, কয়েক বার ফোন দেয়ার পর শেষ ফোন ৩ জনু সকাল ১০ টা, এ সময় আমার মামা ফোন দিয়ে বলে আমাকে আর নাও দেখতে পারছ,আমাকে ওরা মেরে ফেলবে তার আর কোন খোজ খবর নাই, পরে রাত আনুমানিক ৯ টায় এক আত্মীয় ফোন দিয়ে জানায় এ ঘটনা। তবে তিনি বলেন আমার মামাকে আমার মামী ও মামাতো ভাইয়েরা মেরে তার লাশ ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখছে, আমার মামী ও মামাতো ভাই রাসেল,জুয়েল ও সোহেল তাদেরকে আটক করে নিয়ে জিজ্ঞাসা বাদ করা হলে আসল কথা বেড়িয়ে আসবে। স্হানীয় ইউপি সদস্য মোঃ দুলাল মিয়াকে ০১৮৪৯৪৭৪৬২৯ এই নাম্বারে ফোন দিলে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানা যায়। তবে মৃত নান্নু মিয়ার একটি মোবাইল ফোন ছিল, এ মোবাইল টি কোথায়, এটি ও বন্ধ পাওয়া যায়। তবে এ বিষয়ে এলাকায় খোব চাপা খোব বিরাজ করছে। এ বিষয় টি ভাল ভাবে তদন্ত করা হলে আসল রহস্য বেড়িয়ে আসবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

26 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন