মীর মোঃ মুনতাকিম হায়দার

উনি শুধু ডাক্তার নন, উনি একজন মানবিক মানুষ

আমার বাবা হার্টের রোগী। অনেক বছর যাবত চাঁদপুর সদর হাসপাতালের কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজী), হৃদরোগ বিভাগ ডাঃ মীর মোঃ মুনতাকিম হায়দার স্যারের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসা নিয়ে আসছেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে উনার চিকিৎসায় আমার বাবা ভালোই আছেন।

কিন্তু ঈদের ২দিন আগে থেকেই আব্বার শরীর কিছুটা খারাপ হতে থাকে। ঈদের দিন শরীর খুব বেশি খারাপ হয়ে যায়। ঈদের দিনে কোনও হার্টের ডাক্তার খুজে পাচ্ছিলাম না। পরে সোস্যাল মিডিয়ার কল্যাণে ডাঃ মীর মোঃ মুনতাকিম হায়দার স্যারের সাথে যোগাযোগ করি।

তিনি আমার বাবার কথা শুনে প্রথমে আমাকে মোবাইলে জরুরী একটা ঔষধ খাওয়াতে বলেন। পরের দিন বেলা ১১টায় উনার চেম্বারে যেতে বলেন। বাবাকে নিয়ে সঠিক সময়ে উনার চেম্বারে চলে যাই। চেম্বারে গিয়ে দেখি চেম্বার ফাঁকা, ঈদের কারণে সব স্টাফ ছুটিতে। কিন্তু ডাক্তার মহোদয় শুধু একজন রোগীর জন্য চেম্বারে এসে সঠিক সময়ে হাজির। বিষয়টি আমাকে নাড়া খাইয়ে দিয়েছে।

তিনি এসে আমার বাবাকে চেকাপ করলেন। ঔষধ লিখে দিলেন, পরে কি হয় জানাতে বললেন। কিছুক্ষণ কথা বলে জানতে পারলাম, উনার বাবাও অসুস্থ। অসুস্থ বাবাকে বাসায় রেখে তিনি আমার বাবাকে দেখতে এসেছেন।

আরো জানতে পারলাম আমার বাবার অসুস্থতা নিয়ে ফেইসবুকে আমার দেয়া একটা স্ট্যাটাস উনার চোখে পড়ে। এতে উনার হৃদয়ে নাড়া দেয়।

করোনা মহামারির এ মহা সংকটে ঈদের দিনে পরিবারকে রেখে একজন বাবাকে চিকিৎসা দিতে একজন চিকিৎসকের যে উন্নত মানসিকতা আমি দেখলাম তাতে উনার মতো চিকিৎসকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অনেকাংশে বেড়ে গেছে।

উনি শুধু একজন ডাক্তার নন, উনি একজন মানবিক মানুষ।

এ করোনার সময়ে নিজের জীবন বাজি রেখে মানুষকে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন এ চিকিৎসক। আল্লাহ উনাকে ও উনার পরিবারকে সুস্থ রাখুক।

বিঃদ্রঃ উনি চাঁদপুর শহরের সন্তান। উনি আমাদের চাঁদপুরবাসীর গর্ব।
#স্যালুট বস

সাংবাদিক শাওন পাটওয়ারীর ফেইসবুক ওয়াল থেকে

শেয়ার করুন