ibrahim mizi poem

এম. ইব্রাহীম মিজি’র একগুচ্ছ অণুকাব্য

মুখরিত শব্দরা

শব্দ, শব্দ, কতই যে শব্দ নিত্য
গুঞ্জরিত হয়ে চলেছে চারিপাশে
কিছু তার শ্রবণে ঢালে হলাহল
কিছু তার মধু, অবিরল-উচ্ছল
তবুও যেন সব শুনশান নিরবতা
রাজ্যপ্লাবী শ্রাবণ ধারার মতো
নেমে আসে ছাপিয়ে যত মুখরতা!

ভালোবাসি তবুও…

তবুও ভালোবাসবো
তবুও রাখবো মনে,
দাও, যত পারো, নিঠুর ব্যথা!
গড়ো, যদি মন চায়, গগণচুম্বী
দূরত্বের ইস্পাত-প্রাকার,
হৃদয়বোধ্য করে নেব সকল,ভাষায়;
যতোই অস্ফুটস্বরে বল না কথা
দুর্বোধ্যঋদ্ধতায়!”

ঝরা পালকের স্বপ্ন

কত যে রাশি রাশি স্বপ্ন আজও
ঝরাপাতার সাথে পাল্লা দিয়ে-
মাটিতে লুটায়;
হায়! সেই ভেবে কি জীবনের পথ
চকিতে প্রলিপ্ত হতে চায় -আকীর্ণ সংকীর্ণতায়?

এ দ্বিধা দু’পায়ের তলায় পেয়েছে খুঁজে
হঠাৎ যেন এক কঠিন-শক্ত ভীত,
পরক্ষণেই তা ঠেকে প্রবালসম শীলাখন্ডে।
এমনি করে কেটে যায় অনেকটা সময়কাল,
কালের আবর্তনে প্রবেশ করি চির নতুনের দ্বারে।
ঘোর অমানিশা তবু পায়নি দেখা
তার সীমান্তের বৃত্তহীনা প্রান্তরেখায়।

বুঝিনা-
একি স্বপ্নবিলাস
নাকি নিছিক ভ্রান্তি, আরাধনা!

স্নিগ্ধ নীলিমার বুকে ঘনীভূত মেঘেদের আনাগোনা
সেই মেঘ গলিয়ে এক পশলা বৃষ্টির প্রত্যাশায়
উন্মুখ হয়ে আছে চাতকের মতো তপ্ত তৃষাতুর প্রাণ।

হৃদ্যতার বিরাণভূমি

স্বপ্নে তোমার হাত ছুঁয়েছি
বাস্তবতায় দূ-রে আছি;
এ কেমন হঠকারিতা আজ
উভয়দিকেÑতোমাতে আমাতে?
একাকীত্বটাকে কেন রেখে গেলে
ছাপিয়ে, ক্ষণকালের পূর্ণতাকে?
যাবেই যদি কেন এসে মুখর করলে
হৃদয়ের মাঝে চরের মতো জেগে থাকা
আমার এ নির্জন বিরাণভূমি?

আড়ালে অস্তিত্বের আবাস

আড়ালে থাকি বলেই তোÑ
নীলিমায় খোঁজো আমায়!
মৌনমত্ত থাকি বলে হও চঞ্চল মুখর,
কষ্টের এফিটাপে লেখে দেইÑ
নিবিড় ভালোবাসার ব্যাকরণ!
যে বাঁধন অতি-অচ্যুত-নিগূঢ়
জাগাও এক দূরায়নী টানের উদ্ভব
বিমূর্ত কায়ায়Ñঅশরীরী ছায়ায়!

কষ্টের বাঁশি বেঁসুরো শব্দে বাজে

বুঝি কষ্টেরও নিজস্ব কিছু শব্দ আছে;
শক্তি আছে ভীষণ-তেজী!
ছায়ামূর্তি আগুণ হয়ে স্মৃতির কায়ায়
তীব্র দহন যায় যে কেবল জ্বেলে-
আজ কি তবে বিবাগীর পথটুকু জুড়ে
শূন্যতার স্বরূপ শুধু উঠছে জেগে-
গোধূলির রঙ ছড়ানোর লগ্ন শেষে
নিকষ কালো আঁধার, কেবলি গায়ে মাখে?

ভালোবাসার অপ্রিয় ভাষা

তোমার অভিমানগুলো অহেতুক করো না নষ্ট
রেখে দিও সযতেœ মর্মে, গোপনে ঢেলে দিও কিছু ত্রস্ত
বুকের পেলব-মৃদু কম্পন-প্রথম যৌবনের,
কখনো সময় করে বেঁধে নিও প্রণয়ের বাহুডোরে
বিস্ময়-সাগরে ভাসতে দিও-তুমি আমায়Ñ
আচমকা বেখেয়ালে, স্মৃতির তৃণলতা দলে
ফিরে আসবো তোমার আঁখিপটে
বসন্তের কোকিল স্বরূপে দূরাভিসন্ধি এঁটে নয়,
ক্লান্ত জীবনের তৃষাতুর এক অগম্য পথযাত্রী হয়ে
কিংবা দীর্ঘ পথের ধারে পান্থশালা ক্ষণিক অতিথী হয়ে।
তখনো যদি থাকে প্রোজ্বলিত শিখা তোমার
অভিমান মর্মদেওলের শূন্য নির্জনতা ঘিরে
তবুও আমি বরণে পরাণে নেবো ¯িœগ্ধতার
সৌরভ রসে সিক্ত ভালোবাসার চির নিদর্শন ভেবে।

বলার ছিল অনেক কথা…

অনেক কথা ছিল বলবার
যা এখন নিতান্তই নীরব বাণী।
অনেক ইচ্ছে ছিল একবার
হৃদয়ে তোমার হবো বিবাগী।

অনেক কথার মরণ হলে
চোখে স্মৃতির অগ্নি ঝড়ে,
অনেক ইচ্ছে ভেস্তে গেলে
অভিমানের মেঘে উড়ে।

অনেক স্বপ্ন গাঁথতে গিয়ে
সয়েছি শত কটুক্তি-যাতনা,
অভিসার তোমার রচিতে
গিয়ে, ভুলেছি হৃদ কামনা।

অনেক সন্ধ্যার ঝাপসা হাওয়া
নীরবেই করেছো মঞ্জুর সেদিন-
অবাধ্য মনের বোকাটে চাওয়া;
অনেকটাই ছিল ভাবলেশহীন।

তবুও মনে প্রেম জাগালে

তবুও তুমি প্রেম জাগালে মনে
বুকের ভেতর জাগালে আশার পিরামিড
স্বপ্ন এঁকে দিলে যুগল নয়নে।
অশ্রæত ডাকে চমক লাগালে পরশ দিলে অধরোষ্ঠে,
এক পশলা বৃষ্টি হয়ে ভিজিয়ে দিলে উত্তপ্ত জমিন
শীতলতা ছড়ালে তপ্ত মনোপ্রাণে।

তবুও তো কখনো যাওনি ছেড়ে বিরাণভিটে
রেখেছো আরো নিকট-প্রাণে,
হৃদয় মথিত আবেগ বাণে বিদ্ধ করলে সংগোপনে।

তবুও তো মনে প্রেম জাগালে
স্বপ্ন দিলে এঁকে যুগল নয়নে।

বেহুদা খুঁজি তোমার অস্তিত্ব

তোমার অস্তিত্ব খুঁজি অহর্নিশি
দিনমান, মাস, বছর অযুতকালব্যপি
আমার কবিতার প্রতিটি শব্দে, ছন্দে
উপমায়, উৎপেক্ষায় তোমার হাতের পরশ
শিশির ধোঁয়া নরম ঘাসের মোহময় স্পর্শে।
তোমার বিমূর্ত উপস্থিতি কোথাও নেই
পূর্ণ চাঁদের রূপোলি মৃদু আলোয়!
তুমি যেন ঠিকই পাশে আছো; মিশে আছো-
যখন ভাবি নিমগ্ন নিবিড় অনুভবে।

শূন্যতায় পূর্ণতা

তুমিÑ
এসে বিস্ময় জাগালে জীবনে
ভালোবাসায় দুঃখ ভুলালে;
এবার আর হবো না নিথর নিরব
রিক্ততার তিক্ত কালকূট পানে।

ছন্দÑ
যুৎবদ্ধ ছিল অনাবিল বন্ধনে
নিবিড় প্রেমোদ্বোধনে; মুকলিত হল প্রাণ
পূর্ণ করলে হৃদয়Ñতনু মন প্রাণ
উচ্ছসিত আজÑনব ছন্দজাগরণে।

এম ইব্রাহীম মিজি
সম্পাদক- বাঁধন ও ধূলিকণা
প্রকাশক : আশালতা প্রকাশনী
কালামপুর, ধামরাই, ঢাকা-১৩৫১।
মোবাইল : ০১৭৫৮০৬১৬৫৫
ই-মেইল, , ibrahimmizi14@gmail.com

শেয়ার করুন