চিকিৎসককে পেটালেন রোগীর স্বজনরা

কুমিল্লায় চিকিৎসককে পেটালেন রোগীর স্বজনরা

কুমিল্লায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে (মনিপাল এএফসি হসপিটাল) করোনা আক্রান্ত রোগীর স্বজনদের হামলায় তানভীর আকবর নামে এক চিকিৎসক আহত হয়েছেন। এ সময় হাসপাতাল ভাঙচুর করে বিক্ষুব্ধরা।

এ ঘটনায় করা মামলায় সোমবার (২৬ জুলাই) দুপুরে অনন্ত নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এদিকে দায়িত্ব পালনকালে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসক নেতারা।

জানা যায়, কুমিল্লা সদর উপজেলার দুর্গাপুর এলাকায় মনিপাল এএফসি হাসপাতালে গত রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর শাকতলা এলাকার মৃত আবদুল হামিদের ছেলে এমএ হোসাইন নামে এক ব্যক্তি করোনা উপসর্গ নিয়ে আসেন।

এ সময় চিকিৎসকরা ওই রোগীর সঙ্গে থাকা কুমিল্লা জেনারেল (সদর) হাসপাতালের ছাড়পত্র দেখে তাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এতে রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

একপর্যায়ে ডা. তানভীর আকবর নামে এক চিকিৎসককে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে রোগীর স্বজনরা। এ সময় হাসপাতালে ভাঙচুর চালানো হয়।

এ ঘটনায় রোববার রাতে ওই চিকিৎসক বাদী হয়ে তিনি জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জেলা বিএমএ ও স্বাচিপ নেতারা।

জেলা বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ডা. আতাউর রহমান জসীম জানান, ‘একজন চিকিৎসকের উপর হামলা ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ধরনের হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা না হলে চিকিৎসকরা হতাশায় ভুগবেন এবং কাজ করতে নিরুৎসাহিত হবেন। এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটিকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। চিহ্নিত এসব হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।

জেলা স্বাচিপের সাধারণ সম্পাদক ডা. মোর্শেদুল আলম বলেন, একজন চিকিৎসকের ওপর হামলা, এটা একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। করোনাকালে পরিবার থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে জাতির সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। এ সময়ে একজন চিকিৎসকের ওপর হামলা মানে হচ্ছে জাতির ওপর হামলা।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন বলেন, একজন চিকিৎসকের ওপর এ ধরণের নির্মম হামলা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তিদের বিচার দাবি করছি।

এ বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সোহান সরকার বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনন্ত নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিদেরও দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

16 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন