সাত উপজেলা

চাঁদপুরে জেলা সদরেই করোনার চিকিৎসা ও নমুনা সংগ্রহ

স্বাস্থ্য বিভাগের নানাহ সীমাবদ্ধতার কারণে চাঁদপুর জেলা সদরেই করোনার চিকিৎসা ও নমুনা সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে ‌। এই কারণে জেলা সদর হাসপাতালের ৬০ শয্যার করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে বেডের চাইতে রোগী বেশি । অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা ওয়ার্ডে বেড খালি পড়ে আছে।

চাঁদপুর ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতাল কেন্দ্র করে করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্তে নমুনা সংগ্রহ, আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি, চিকিৎসা, সচেতনতা এবং টিকা প্রদান কার্যক্রম চলমান থাকলেও উপজেলা পর্যায়ে তা হচ্ছে না। ফলে চাঁদপুর জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর অর্ধেকের বেশি সদর উপজেলায়।

চাঁদপুর জেলার বাকি সাতটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কার্যত করোনা রোগীদের কোন চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। কোন কোন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাঝে মধ্যে ২/১জন রোগী ভর্তি করা হয়। উপজেলা পর্যায়ে করোনায় আক্রান্ত কিংবা উপসর্গ থাকা রোগী পেলেই তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় জেলা সদর হাসপাতালে। ফলে সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের তা সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় । উপজেলা পর্যায়ের রোগীদের জেলা সদরে পাঠানোর ফলে হয়রানির শিকার হয় গরীব অসহায় মানুষগুলো। আবার অনেকের পক্ষে জেলা সদরে এসে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয় না।

সিভিল সার্জন অফিস এর সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী জেলায় ৫ হাজার ৬শ’ ৮জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এরমধ্যে চাঁদপুর সদরে ২ হাজার ৬শ’ ৪৭জন । জেলায় মোট আক্রান্তের অর্ধেকের চেয়েও বেশি। এছাড়া সবচেয়ে কম অর্থাৎ ১৮৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে কচুয়া উপজেলায়। সেখানে নমুনা সংগ্রহ সর্বনিম্ন।

চাঁদপুর জেলায় এখন পর্যন্ত করোনায় ১২৭ জনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৯ জন চাঁদপুর সদর উপজেলায়। বাকিদের মধ্যে ফরিদগঞ্জে ২১জন, হাজীগঞ্জ ২১জন, মতলব উত্তরে ১১ জন, শাহরাস্তিতে ৯জন, কচুয়ায় ৭জন, মতলব দক্ষিণে ৬জন এবং হাইমচরে ৩জন। তবে ঢাকারসহ দেশে-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদপুরের আরো অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। যেই তথ্য জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় নেই।

চাঁদপুর সদর হাসপাতালে করোনা বিষয়ক ফোকালপার্সন ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল জানান, রোগীর চাপ সামাল দিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। চিকিৎসকরা সবাই ক্লান্ত । বেডের চেয়েও রোগী বেশি। সোমবার ৬০ বেডের আইসোলেশনে ৬২জন ভর্তি। উপজেলার হাসপাতালগুলোতে রোগী ভর্তি করা জরুরি হয়ে পড়েছে । কেবলমাত্র অক্সিজেন সমস্যার রোগীদের জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো যেতে পারে। সেইসাথে উপজেলায় নমুনা সংগ্রহের হার বাড়ানো দরকার।

কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ সালাউদ্দিন মাহমুদ বলেন, এখানে নমুনা দিতে লোকজন তেমন আসেনা। তাই সংগ্রহ কম । এমনকি লোকজন টিকা দিতে আসে না । এ কারণে অনেক টিকা ফেরত পাঠিয়েছি। গাড়ির সমস্যার কারণে নিয়মিত নমুনা পাঠানো যায় না বলেও জানান তিনি।

তিনি আরো জানান, ৮বেডের আইসোলেশনে রোববার একজন ভর্তি হয়। হাইফ্লো সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা না থাকায় এ হাসপাতালে করোনায় আক্রান্তরা চিকিৎসা নিতে আগ্রহী নন বলে তিনি দাবি করেন। এ কারণে জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়।

চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডাক্তার মোঃ সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন উপজেলা পর্যায়ে অনেকে নমুনা দ্বিতীয় চিকিৎসা নিতে চায় না সে কারণে উপজেলা গুলোতে নমুনা সংগ্রহ ভর্তির হার অনেক কম।
রেপিড এন্টিজেন পদ্ধতিতে করোনা টেস্ট চালু হওয়ায় এখন নমুনা সংগ্রহ ও শনাক্ত বাড়বে বলে তিনি আশা করেন।

43 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন