sahrasti edi

পুলিশের উপর হামলা কাম্য নয়

বিশেষ সম্পাদকীয় :

মানুষ সামাজিক জীব এবং রাষ্ট্রের নগারিক। সামাজিকতার কারণে মানুষকে একজনের বিপদে আপদে, সুখে-দুঃখে অন্যজনের ওপর নির্ভর করতে হয়। সুখ-দুঃখের ভাগীদার হতে হয়। অন্যদিকে প্রতিটি মানুষই রাষ্ট্রের নাগরিক বিধায় মানুষকে রাষ্ট্রীয় বিধি-নিষেধ মানতে হয় মানুষের মঙ্গলের জন্যেই। আর সমাজে যাতে হিংসা-হানাহানি ছড়িয়ে পড়েতে না পারে সেজন্য রাষ্ট্র নাগরিকের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োগ দান করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ হচ্ছে সমাজে দাঙ্গা-হাঙ্গামা, রাহাজানি এবং জনগণের জীবন-মালের নিরাপত্তা বিধান। কিন্তু যখন সাধারণ মানুষের জীবন-মালের নিরাপত্তা জন্যে পুলিশ কাজ করে তখন  এই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা কাম্য হতে পারে না।

চাঁদপুর রিপোর্টে প্রকাশিত এমন এক ঘটনা আমাদেরকে  হতভম্ব করেছে। যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

বুধবার (১৪ জুলাই)  চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে হত্যার গুজব ছড়িয়ে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনিতে উদ্যত জনতার হামলায় পুলিশসহ ৫ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় বুধবার (১৪ জুলাই) পুলিশের কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে ৬ জনকে আটক করে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায় গত ১৩ জুলাই বিকেলে উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের বেততলা গ্রামের শাহআলমের মাছের ঘের নিয়ে একই এলাকার আহসান হাবিবের ছেলে শুক্কুরের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে শুক্কুর ক্ষিপ্ত হয়ে শাহআলমের ছেলেদের উপর হামলা করে। এতে শাহআলমের ছেলে মিনহাজ (১৪) পলাশ (২২) ও নজরুল ইসলাম (১৮) আহত হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। উক্ত ঘটনার পর মিনহাজ মারা গেছে এমন গুজবে এলাকার একদল লোক ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্কুরকে আটক করে মারধর করে। খবর পেয়ে শাহরাস্তি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শুক্কুরকে উদ্ধার করে।

এ সময় একদল লোক পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুঁড়ে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা চালায়। এসময় পুলিশের সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আরিফুল হাসান সহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। দীর্ঘ সময় পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে পুলিশ আহত আরিফুল হাসান ও শুক্কুরকে উদ্ধার করে শাহরস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এ ঘটনায় বুধবার সকালে শাহরাস্তি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বাদী হয়ে পুলিশের কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে ২৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছে। যার প্রেক্ষিতে পুলিশ ৬ জনকে আটক করে। আটকরা হলেন কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর সর্দার বাড়ির কামাল সর্দারের ছেলে জামাল হোসেন (৩০), শাহরাস্তি উপজেলার রায়েরবাগ হাজী বাড়ির মোঃ মনির হোসেনের ছেলে আমির হোসেন (৩৭), মনোহরগঞ্জ উপজেলার শরিফপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে ওমর ফারুক (২৫), রায়েরবাগ হাজী বাড়ির মনির হোসেনের ছেলে মোঃ রাজু (২২), মনোহরগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে তুহিন (২০) ও রায়েরবাগ গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে (২৬) রুবেল।

ঘটনার পরিপেক্ষিতে আমরা বলবো, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব শুধুমাত্র পুলিশেরই নয়। বরং সমাজের প্রতিটা মানুষের। আমরা যদি সামান্য তুচ্ছ ঘটনাকে বড় করে দেখে তা নিয়ে একজন অন্যজনের ওপর বেহুদা হামলা করি এবং পরিশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপরও আঘাত করি তাহলে সমাজে একজনের সাথে অন্যজনের দূরত্ব ঘটবে এবং সমাজে অশান্তির কারণ হবে।

সুতরাং আমাদের প্রয়োজন সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং একজনের প্রয়োজনে অন্যজন এগিয়ে আসা। তাহলে সমাজে সবার মঙ্গলজনক অবস্থান নিশ্চিত হবে।

শেয়ার করুন