সন্ত্রাসী হামলা থেকে নিরাপত্তা

‘ফরিদগঞ্জে সন্ত্রাসী হামলা থেকে নিরাপত্তা দাবি’তে সংবাদ সম্মেলন

ফরিদগঞ্জ সংবাদদাতা :
চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরের পরিবারের উপর প্রভাবশালী মহলের মদদে হামলা, মেরে ফেলার হুমকি ও নির্যাতন থেকে রক্ষা এবং নিরাপত্তার দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরের ভুক্তভোগী পরিবার।

শনিবার দুপুরে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরের মা হালিমা বেগম। বয়স ১৬ হলেও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোর বর্তমানে চুরির মামলায় জেল হাজতে রয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে হালিমা বেগম বলেন, ‘গত ১৩ মে ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের পুরান রামপুর বাজারের ফ্ল্যাক্সি লোডের ব্যবসায়ী মাসুদ রাঢ়ীর দোকানে ১১ লক্ষ টাকা চুরি হয় বলে অভিযোগ উঠে। ১৭ দিন পর ৩০ মে আমার ১৬ বছরের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছেলে নাজমুল হোসেন ফরহাদকে স্থানীয় কিছু যুবক আটক করে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়ার পর ওই দিনই চুরির ঘটনায় মামলা হয়। ওই ঘটনায় আমার ছেলে নাজমুল হোসেনসহ মোট তিনজন জেল হাজতে রয়েছে। যদিও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে মামলায় ১৯ বছর দেখানো হয়েছে।

গত ১ জুলাই চুরি হওয়া ১১ লক্ষ টাকা আমার পরিবারকে দিতে হবে, না দিলে মেরে ফেলা , বাড়ি ঘর ভাংচুর ও জ¦ালিয়ে দেয়ার হুমকিসহ তিনদিনের আল্টিমেটাম দেয় মাসুদ রাঢ়ীসহ সন্ত্রাসী চক্রটি। তিনদিন পর ৪ জুলাই মাসুদ রাঢ়ী তার দলবল নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা করে। এই ঘটনায় আমিসহ আমার পরিবারের অন্তত ৭/৮জন সদস্য আহত হওয়াসহ বাড়িঘর ভাংচুর করে। এসময় জীবন বাঁচাতে আমরা চাঁদপুর পুলিশ সুপার, ফরিদগঞ্জ থানার ওসি ও নিরূপায় হয়ে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিলে, আড়াই ঘন্টা পর পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে আমার পরিবার ও আমার বৃদ্ধ বাবাকে দুই দফা জিম্মি করে রাখে টাকা আদায়ের জন্য। এ সময় পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করলেও পরবর্তীতে আমরা থানায় হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পাইনি। বর্তমানে আমরা সন্ত্রাসী চক্রটির পুনঃ হামলার আশংকায় আতংকের মধ্যে রয়েছি।

আমার কিশোর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছেলে যদি অপরাধী হয়, তাহলে সে শাস্তি পাবে। কিন্তু আমরা কেন হামলা ও ভাংচুরের শিকার হলাম। তাই আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ ওই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে চুরির ঘটনাটিও সঠিক তদন্তের দাবী জানাচ্ছি।

প্রেসক্লাব সভাপতি কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এ সময় হালিমা বেগমের স্বামী ফারুক সর্দার, পিতা বশির উল্ল্যা, মা আশুরা বেগম, ছেলে ইমান হোসেন, আল আমিন সর্দার ও ভাইপো মঈন হোসেন, বোন শিল্পী বেগম উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন