উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী শরীফুল হাসান

মতলবে মানবিক সহায়তা পেয়ে বৃদ্ধার চোখে আনন্দের অশ্রু

সফিকুল ইসলাম রানা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, মতলব উত্তর :
কয়েক দিন ধরে অভুক্ত এক বৃদ্ধা ভিক্ষুকের খোঁজ পেয়ে তাঁর হাতে পৌঁছে দেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার খাদ্য সহায়তা।

৭০ বছরের এই বৃদ্ধা জাহানারা বেগমের বাড়ি ছেঙ্গারচর পৌরসভার বালুরচর এলাকায়। স্বামী ইদ্রিস আলী ফরাজী পরলোকে চলে গেছেন সেই অনেক আগে। তাই বেঁচে থাকার জন্য সংসারের হাল ধরতে হলো এই বৃদ্ধাকে। তবে চলমান করোনা লকডাউনে বৃদ্ধা জাহানারা বেগমের কপাল পুড়েছে। আয়ের পথ বন্ধ। কারণ, বিভিন্ন হাট-বাজারে ঘুরেফিরে তার ভিক্ষাবৃত্তি চলত। এখন মানুষের আনাগোনা প্রায় নেই বললেই চলে, বন্ধ দোকানপাট ফলে তাঁর আয়ের পথও বন্ধ হয়ে গেছে।

তবে বৃদ্ধা জাহানারা বেগমের সেই কষ্ট দূর করেছেন একজন মানুষ। তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী শরীফুল হাসান। স্থানীয় একজনের কাছে বৃদ্ধার দুর্ভোগ আর কষ্টের কথা শোনেন তিনি। তারপর আর দেরি নয়। সোমবার (১২ জুলাই) গভীর রাতে ছুটে গেলেন বৃদ্ধা জাহানারা বেগমের পাশে।

তাৎক্ষণিক এক সপ্তাহের খাদ্য সহায়তা তার হাতে তুলে দিলেন তিনি। এমন মানবিক সহায়তা পেয়ে বৃদ্ধার চোখে আনন্দের অশ্রæ টলমল করে ওঠে। হাউমাউ করে কেঁদে ফেললেন। তারপর মহান আল্লাহর কাছে হাত তুলে দোয়া করলেন।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী শরীফুল হাসান বলেন, কঠোর বিধি-নিষেধ কার্যকর করতে দিনরাত কাজ করছি। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিসের নির্দেশে প্রধানমন্ত্রীর উপহার খাদ্য সহায়তা সঙ্গে রেখেছি। যদি কোথাও এমন অসংগতিপূর্ণ দৃশ্য চোখে পড়ে, তখন তার কাছে ছুটে চলি।

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মাঠপর্যায়ে সরকারি প্রশাসনের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য’- এমন ব্রতে দায়িত্ব পালন করছি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলমান কঠোর বিধি-নিষেধের এই সময় মতলব উত্তর উপজেলায় আয়ের পথ বন্ধ হওয়া অতিদরিদ্র, বেদে ও তৃতীয় লিঙ্গের – এমন কয়েক শ’ পরিবারের মাঝে সরাসরি খাদ্য সহায়তা প্রদান করে আলোচনায় আসেন ইউএনও গাজী শরীফুল হাসান।

প্রচ্ছদের ছবি : মতলব উত্তরের বালুচর গ্রামের ভিক্ষুক জাহানার বেগম খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন ইউএনও গাজী শরিফুল হাসান।

শেয়ার করুন