খুন রিপোর্ট

শাহরাস্তিতে জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটনে তৎপর পুলিশ

মোঃ কামরুজ্জামান সেন্টু :
চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌরসভার নাওড়া গ্রামে সংগঠিত জোড়া খুনের ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশের বেশ কয়েকটি টীম কাজ করছে। ঘটনার দিন হতেই থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই, সিআইডি ও র‌্যাবের বেশ কয়েকটি টীম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে মামলার তদন্তের স্বার্থে কিছুই বলতে রাজি হননি।

এদিকে স্বামী মোঃ নূরুল আমিনের লাশ উদ্ধারের ৩ দিনের মাথায় শনিবার (৩ জুলাই) বিকেল অনুমান সাড়ে ৫টার সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) নিবিড় পর্যবেক্ষনে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ত্রী কামরুন নাহারের মৃত্যু হয়। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে রোববার রাতে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে স্বামীর কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়েছে।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌরসভার নাওড়া গ্রামে নিজ বাড়ির ছাদ হতে অবসরপ্রাপ্ত সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ নুরুল আমিনের (৬৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করা হয় নিহতের স্ত্রী কামরুন নাহারকে (৬১)।

বৃহস্পতিবার দুপুরে লাশ উদ্ধার হলেও ঘটনাটি কখন ঘটেছে তা এখন পর্যন্ত কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। নিহত নুরুল আমিনের মাথায় আঘাত এবং গলায় মোজা প্যাঁচানো ছিল। ক্ষত জায়গায় পচন ধরেছে। অনেকেই ধারণা করছেন ঘটনাটি দু-তিন দিন আগে ঘটেছে। তবে বিষয়টি চুরি-ডাকাতি নাকি নাশকতা তা উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত করছে।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, ১৯৯৭ সালে উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রাম থেকে পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের নাওড়া গ্রামে বাড়ি তৈরি করে বসবাস করে আসছেন মৃতঃ আঃ মজিদের পুত্র নিহত নুরুল আমিন। তিনি ৫/৬ বছর আগে কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় হতে অবসরে যান। স্ত্রী কামরুন নাহার পার্শ্ববর্তী কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে অবসর জনিত ছুটিতে রয়েছেন। নিহত দম্পতির ১ পুত্র ও ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।

ঘটনার দিন নিহত দম্পতির পুত্র মোঃ জাকারিয়া বাবু অজ্ঞাতদের আসামী করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

নিহত দম্পতির মেঝ কন্যা জান্নাতুন নূর মিলি জানান, তারা দীর্ঘদিন এই এলাকায় শান্তিতে বসবাস করছিলেন। তাদের পরিবারের সাথে কারো বিরোধ ছিলো না।

ঘুঘুশাল গ্রামের সমীরণ দত্ত জানান, নিহতের পরিবার এলাকায় ভদ্র পরিবারের উদাহরণ ছিল।

স্থানীয় নাওড়া জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি মোঃ শামছুল হক পাটোয়ারী জানান, নিহত মোঃ নূরুল আমিন মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন। তিনি একজন ভালো মানুষ ছিলেন। এলাকায় কখনো কারো সাথে তাঁর বিরোধ হয়নি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহরান্তি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ মোরশেদুল আলম ভুঁইয়া জানান, পুলিশ বেশ তৎপর রয়েছে। তদন্তাধীন বিষয়ে এ মুহুর্তে কিছু প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

শাহরান্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আবদুল মান্নান জানান, পিবিআই ও সিআইডিসহ পুলিশের কয়েকটি ইউনিট রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে। মামলার তদন্তের স্বার্থে কিছুই প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।

23 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন