দুর্বৃত্তের হাতে স্বামী খুন স্ত্রী গুরুতর আহত

শাহরাস্তিতে দুর্বৃত্তের হাতে সমাজসেবা কর্মকর্তা খুন, স্ত্রী গুরুতর আহত

মো. কামরুজ্জামান সেন্টু :

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তের হাতে মোঃ নুরুল আমিন (৬৫) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত সমাজসেবা কর্মকর্তা খুন হয়েছেন। ওই ঘটনায় দুর্বৃত্তদের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন নিহতের স্ত্রী কামরুন নাহার (৬১)।

বৃহস্পতিবার (০১ জুলাই) দুপুরে শাহরাস্তি থানা পুলিশ নিহতের বাড়ি পৌর শহরের নাওড়া গ্রাম থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং গুরুতর আহত বৃদ্ধাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) প্রেরণ করে।

পুলিশ ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের মৃতঃ আঃ মজিদের পুত্র নিহত নুরুল আমিন ১৯৯৭ সালে পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের নাওড়া গ্রামে বাড়ি তৈরি করে বসবাস করছেন। ওই বাড়িতে তিনি ও তাঁর স্ত্রী বসবাস করতেন। স্ত্রী কামরুন নাহার পার্শ্ববর্তী কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে অবসর জনিত ছুটিতে রয়েছেন। বুধবার হতে নিহতের সন্তানরা তাদের মুঠোফোনে না পেয়ে প্রতিবেশী শামছুল হক পাটোয়ারিকে বাড়িতে খোঁজ নেয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বাড়ির সম্মুখ গেইট তালাবদ্ধ ও জানালা দিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় কামরুন্নাহারকে পড়ে থাকতে দেখে জরুরী সেবা ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গেইটের তালা ভেঙ্গে কামরুন্নাহারকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করে। পরে বাড়ির ছাদ হতে নিহতের লাশ উদ্ধার করে।

হতাহত দম্পতির মেঝ কন্যা জান্নাতুন নূর মিলি জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টা ৭ মিনিটে মা কামরুন্নাহারের সাথে সর্বশেষ তার মুঠোফোনে কথা হয়েছিল। বুধবার তিনি কর্মস্থলে যাওয়ার কথা ছিল।

সে আরো জানায়, এছাড়া ছোট বোন শামছুন্নাহার লুনার বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার ফি বাবদ ৩০ হাজার টাকা ব্যাংক হতে তুলে ঘরে রেখেছিলেন। বুধবার রাতে প্রচুর ঝড়-বৃষ্টি হওয়ায় তিনি মা-বাবার সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এরপর প্রতিবেশী শামছুল হক পাটোয়ারি ঘটনা জেনে জরুরী সেবায় ফোন দেন।

শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবদুল মান্নান জানান, সংবাদ পেয়ে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) সুদীপ্ত রায়, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (কচুয়া সার্কেল) মোঃ আবুল কালাম চৌধুরী, পিবিআই ও সিআইডি পুলিশের কয়েকটি ইউনিট ঘটনাটি পর্যবেক্ষন করছে।

তিনি আরো জানান, পুলিশ বাড়ির একটি কক্ষ হতে গুরুতর আহতাবস্থায় কামরুন্নাহারকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায় এবং পরে ওই বাড়ির ছাদ থেকে নুরুল আমিনের মরদেহ উদ্ধার করে। এখানে কোন চুরি বা ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি উল্লেখ করে তিনি জানান, তাদের ঘরে সমস্ত জিনিসপত্র সঠিকভাবে আছে। কোন কিছু খোয়া যায়নি। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) সুদীপ্ত রায় বলেন, নুরুল আমিনের মাথায় আঘাত এবং গলায় মোজা প্যাঁচানো রয়েছে। ক্ষত জায়গায় পচন ধরেছে। ধারণা করা হচ্ছে ঘটনাটি দু-তিন দিন আগের। এই মুহূর্তে আর বিশেষ কিছু বলা যাচ্ছে না।

6 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন