speed boat

অবশেষে স্পীডবোট উদ্ধার করেছে মোহনপুর নৌ-পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

অবশেষে মেঘনা নদী থেকে চুরি হওয়া স্পীডবোটটি উদ্ধার করেছে মোহনপুর নৌ-পুলিশ। ৩১ জুলাই (শনিবার) সন্ধ্যায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিদুল চন্দ্র কাপালী সঙ্গীয় ফোর্স নাওভাঙ্গা জয়পুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও জহিরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম মিয়া গাজীর বাড়ির সামনে থেকে চুরিকৃত স্পীডবোটটি জব্দ করে। বর্তমানে স্পীডবোটটি মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির হেফাজতে রয়েছে।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার জহিরাবাদ এলাকায় মেঘনা নদী থেকে গত ২৪ জুলাই বিকালে মেসার্স মেহেরিমা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি স্পীড বোট চুরি হয়। এ ঘটনায় জহিরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম মিয়া গাজীকে প্রধান আসামী করে ১২ জনের নাম উল্লেখপূর্বক আরো অজ্ঞাত ২০-২৫জনকে আসামী করে মোহনপুর গ্রামের আবদুল মতিন কাজী বাদি হয়ে মামলা করে।
ওই স্পীড বোটটি আত্মসাৎ করার লক্ষ্যে চুরি করে নিয়ে যায় বলে দাবী করেছেন মালিক মোহনপুর গ্রামের আবদুল মতিন কাজী।

এ ঘটনায় মতিন কাজী বাদী হয়ে রোববার (২৫ জুলাই) মতলব উত্তর থানায় পেনাল কোড ১৮৬০ এর ১৪৩, ১১৪, ৪২৭, ৪৩৯, ও ৫০২ (২) ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। এতে ১নং বিবাদী করা হয়েছে মতলব উত্তরের জহিরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম গাজী (৪০)কে। বাকীরা বিবাদীরা হলেন, জহিরাবাদ গ্রামের সোহেল গাজী, সম্রাট গাজী, কাজল মেম্বার, শফিক, আলী আহম্মদ, জয়পুরা গ্রামের রশিদ খান, ঠাকুরপাড়ার মুকুল প্রধান, মুক্তিরপল্লী আনা দেওয়ান, কামারিকান্দির দুলাল দেওয়ান, চর মহিষমারীর হানিফ মুন্সি, বালুচর গ্রারে গাজী নাজমুল। এছাড়াও আরো অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জনকে বিবাদী করা হয়েছে মামলায়।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুলাই আবদুল মতিন কাজী তার নিজস্ব স্পীডবোট যোগে ড্রেজিং প্রকল্পের সাইটে যান। ওখানে নষ্ট হওয়া ড্রেজারের সাথে স্পীডবোটটি (রেজিঃ নং এম-০১-৩০১৮) বেঁধে রেখে ড্রেজারের ভিতরে কাজ করতে থাকেন। এই সুযোগে বিকাল সাড়ে চারটার সময় জহিরাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম গাজীর উপস্থিতি ও হুকুমে উল্লেখিত বিবাদীরা ও তার দলবল’সহ দেশীয় অস্ত্রসন্ত্র নিয়ে ড্রেজারের গ্লাস ভাংচুর করে প্রায় ৭০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। প্রায় ১৫/২০ ধরে তান্ডব চালিয়ে আত্মসাৎ করার লক্ষ্যে ইঞ্জিন চালিত ট্রলারের সাথে বেঁধে ৯ লাখ টাকা মূল্যে স্পীডবোটটি নিয়ে সেলিম গাজীর নেতৃত্বে ডাঙ্গায় উঠিয়ে গোপন করে রাখে।

বাদী আবদুল মতিন কাজী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেড়ে আমার স্পীডবোটটি গাজী মুক্তারের ভাই চেয়ারম্যান সেলিম গাজী চুরি করে নিয়ে যায়। কিন্তু আমার স্পীডবোটটি সে আত্মসাৎ করতে পারেনি। পুলিশ খবর পেয়ে তার বাড়ির সামনে অভিযান চালিয়ে স্পীডবোটটি পেয়েছে। আমি মামলা করার পর নৌ-পুলিশ স্পীডবোটটি জব্দ করে।

মামলা তদন্ত কর্মকর্তা মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিদুল চন্দ্র কাপালী বলেন, মামলার আলামত স্পীডবোটটি উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তপূর্বক পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

23 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন