mardhor ovijog

কচুয়ায় ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি ও তার স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ

কচুয়া প্রতিনিধি :
কচুয়া উপজেলার ৭ নং সদর দক্ষিণ ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামে সম্পত্তিগত বিরোধের জের ধরে সদর দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নুর মোহাম্মদ খন্দকার (৩৭) ও তার স্ত্রী ফারহানা আক্তারকে (৩১) মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার সকালে হোসেনপুর খন্দকার বাড়িতে এ হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় গুরুতর আহত কচুয়া সদর দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নুর মোহাম্মদ খন্দকারের স্ত্রী ফারহানা আক্তার গতকাল মঙ্গলবার তার সৎ ভাই মাহফুজ (৪৭), তার স্ত্রী রানু বেগম (৩৫) ও মামা লিটনকে (৫৫) আসামী করে কচুয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

বাদীর লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, হোসেনপুর খন্দকার বাড়ির মঞ্জুর আহমেদের ছেলে ইউনিয়ন যুব লীগের সভাপতি নুর মোহাম্মদ খন্দকার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে করইশ জামাই পাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।

২৪ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে তার সৎ ভাই তাদের অবর্তমানে তার দখলীয় জমির ফল গাছ থেকে বিভিন্ন ফল-ফলাদি ছিড়ে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে নুর মোহাম্মদ খন্দকার ও তার স্ত্রী গ্রামের বাড়ি হোসেনপুরে গিয়ে তার ভাই ও ভাবিকে বাধা প্রদান করে। এক পর্যায়ে উভয়ে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। এবং তারা পূর্বের জায়গা সম্পত্তির বিরোধ নিয়ে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। এসময় তুমুল ঝগড়ার সৃষ্টি হলে মাহফুজ নুর মোহাম্মদের স্ত্রী ফারহানাকে মারধর শুরু করে। এবং মাহফুজের স্ত্রী রানু বেগম ফারহানাকে কাঠের হাতল দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফুল জখম করে। এতে নুর মোহাম্মদ বাধা প্রদান করলে তাকেও বেধরক মারধর করা হয়। পরবর্তীতে বাড়ির অনান্য লোকজন এসে তাদের ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা করায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নুর মোহাম্মদ খন্দকার ও তার স্ত্রী কচুয়া আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষিকা ফারহানা আক্তার জানান, তারা কচুয়া থানাধীন ৬৩নং হোসেনপুর মৌজার বি.এস ৫৪৮ নং খতিয়ানে হাল ৯৭৪/৯৭৫/৯৭৬/৯৭৭/৯৮০/৯৮৬ দাগে ২৯.২৭ শতক বাগান, পুকুর ও ভিটিবাড়ি এবং ৫২৪ নং খতিয়ানে ৯৮১ দাগে ১১.৫০ শতক ভিটি দোকান শফিকুল ইসলাম ও মফিজুল ইসরাম গংদের নিকট থেকে ক্রয় করে দখল করে আসছে। তার সৎ ভাই লোভী প্রকৃতির মানুষ। তার মামা লিটনের উস্কানিতে সে তার এই ক্রয় করা সম্পত্তির অংশীদার দাবী করে তার সাথে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারনে মারধর থাকে। ইতিপূর্বে তিনি ও তার স্ত্রী কচুয়া থানায় বেশ কয়েকটি অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি এঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ বিপিএম (বার) মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

ইুর মোহাম্মদের সৎ ভাই মাহফুজের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি। এবং হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ করলেও তার সন্ধান মিলেনি। কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চলে যায়।

কচুয়া থানার ওসি মো. মহিউদ্দিন জানান, হোসেনপুর গ্রামে দুই ভাইয়ের মারামারির ঘটনায় দুপক্ষের লোকজনই আহত হয়েছে। একটি পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং অপর পক্ষ অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরেজমিনে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

53 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন