উত্তোলন

কচুয়া-হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তিতে ফসলি জমিতে বালি উত্তোলনের মহোৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চাঁদপুরে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে ফসলি জমি থেকে বালি উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। ফসলি জমিতে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে চলছে বালি উত্তোলন করায় নষ্ট হচ্ছে শত শত হেক্টর ফসলি জমি, বসত বাড়ি, নদী ও শহর রক্ষা বাঁধ।

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে অনেকটা দাপটের সঙ্গেই ফসলি জমি নষ্টের মহোৎসবে মেতেছেন প্রভাবশালী বালি কারবারিরা। অনেকটা নির্বিঘ্নেই দিনে-রাতে সমানতালে ড্রেজার দিয়ে চলছে ফসলি জমির বুক চিরে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন।এতে করে শত শত হেক্টর আবাদি কৃষি জমি বিনষ্ট হচ্ছে

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কচুয়া উপজেলার ৩নং বিতারা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বিতারা বাজার সংলগ্ন দক্ষিণ মাঠে মুসলিম মোল্লা নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ফসলি জমিতে ড্রেজার বসিয়ে ও চলাচলের রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে পাইপলাইনে নিজের বাড়িতে বালি নিচ্ছেন।

এছাড়াও একই ইউনিয়নে মাঝিগাছা কোল্ড স্টোরেজ এর পূর্ব পাশের মাঠে আরও তিনটি ড্রেজার চলতে দেখা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিতারা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শংকর চন্দ্র কর্মকারকে ম্যানেজ করেই চলে অবৈধ ড্রেজারে বালি উত্তোলনের মহাযজ্ঞ। নিজের অফিসে বসেই শংকর বলেন, “সাংবাদিকরা ইউএনওকে জানাইছে। আগুন লাগাই দিছে।”

অনুসন্ধানকালে আরও জানা গেছে, শাহরাস্তি উপজেলার সূচীপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের কেশরাঙা উত্তর মাঠের বিপরীত হাড়াইরপাড়ের দক্ষিণ মাঠে ফসলি জমিতে ড্রেজার বসিয়েছে স্থানীয় শোরশাক বাজারের ব্যবসায়ী মুকবুল। প্রায় এক মাস যাবত তিনি পাশ্ববর্তি কৃষ্ণপুর গ্রামের পুকুর ভরাট করছেন।পাশ্ববর্তি জমির মালিকগণ বার বার বারণ করার পরও কাউকেই পাত্তা দিচ্ছেন না এই ড্রেজার ব্যবসায়ী।

হাজীগঞ্জ উপজেলার বেলঘর মাঠে আজ প্রায় এক বছর পর্যন্ত ড্রেজার চলছে। সাবেক ইউএনওকে বারবার জানালেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার দায়িত্ব গ্রহণের পর অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীদের ড্রেজার নষ্ট করার পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করেছেন। কিন্তু উপজেলার ৮ নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের লাওকোরা ও বেলঘর গ্রামের ফসলি জমির মাঠে ড্রেজার চলছেই!

স্থানীয়দের অভিযোগ, বেলঘর গ্রামের জসিম নামের ড্রেজারের মালিক স্থানীয় বলিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মচারী নাদিমকে মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে ও স্থানীয় যুবলীগ নেতাসহ স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মীকে ম্যানেজ করেই এখন পর্যন্ত ড্রেজারে বালি উত্তোলন বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছেন।

প্রচ্ছদের ছবি : হাজীগঞ্জ ৩নং কালোচোঁ ইউনিয়নের খোদাই বিল হতে জব্দ করা ড্রেজার।

41 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন