ambulance

চাঁদপুরে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত রোগী নিয়ে ছুটছেন অ্যাম্বুলেন্স চালকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চাঁদপুরে করোনাকালীন সময়ের প্রথম ধাপ থেকেই প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন রোগী নিয়ে ছুটে চলছেন অ্যাম্বুলেন্স চালকরা। নিজেদের নিরাপত্তার কথা না ভেবেই রাত দিন মাঠে রয়েছেন প্রাইভেট এ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ী ও চালকরা। কখনো মৃত ব্যাক্তির লাশ, কখনো মুর্মুষ রোগী কখনো বা বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত হওয়া আশংকাজনক রোগীদের নিয়ে চাঁদপুর থেকে ঢাকা কিংবা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন। যদিও মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমের ঝুঁকি থেকে যায়, তবুও তারা এমন সেবা থেকে পিছু না হটে প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত মাঠে রয়েছেন।

সরজমিনে দেখা গেছে, চাঁদপুরে গত বছর প্রথম করোনা সংক্রমনের সময় থেকে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের সামনে বিভিন্ন প্রাইভেট এ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ী ও চালকরা তাদের এ্যাম্বুলেন্স দাঁড় করিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকেন। এই অপেক্ষার মাঝে কখনো করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তির লাশ, কখনো করোনা আক্রান্ত রোগী, কখনো বা দুর্ঘটনায় আহত রোগীদেরকে ঢাকা কিংবা কুমিল্লা হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিতে তাদের ডাক পড়েন। রোগীর স্বজনদের সাথে তাদের নিদিষ্ট ভাড়ার মিল হলে কিংবা কখনো কিছু ভাড়া কম হলেও রোগীকে এ্যাম্বলেন্সে তোলে যার, যার গন্তব্যস্থানে ছুটে যেতে দেখা যায়। এছাড়াও চাঁদপুর শহরতলীর বিভিন্নস্থান এবং বিভিন্ন উপজেলার গ্রাম অঞ্চলেও তারা প্রতিনিয়ত রোগী নিয়ে ছুটছেন। বিশেষ করে চাঁদপুরে করোনা,র ২য় ধাপে তাদেরকে সার্বক্ষনিক মাঠে কাজ করতে দেখা যায়।

গত কয়েক মাসে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে কয়েক,শ রোগী করোনায় আক্রান্ত হয়ে এবং উপসর্গে মৃত্যুবরণ করার খবর পাওয়া গেছে। আর এসব মৃত ব্যক্তির লাশ সরকারি এ্যাম্বলেন্সের পাশাপাশি এসব এ্যাম্বলেন্স ব্যবসায়ী ও চালকরাই হাসপাতাল থেকে নিজ নিজ স্থানে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমন আক্রান্তে যখন সবাই আতংকে ঘরে বসে রয়েছে, কিংবা স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোমকোয়ারেন্টানে রয়েছেন তখন তারা কোন প্রকার ভয় ভীতি না করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করে চলেছেন। যখন কোন করোনায় আক্রান্ত অথবা করোনা উপসর্গে মৃত ব্যক্তির লাশ স্বজনরা এ্যাম্বলেন্সে তোলেন, তখনো তাদেরকে পিছ পা না হয়ে স্বজনদের সাথে রোগীকে গাড়ি তোরতে সহযোগিতা করতে দেখা যায়। এতে তারা বিন্দু পরিমানও নিজেদের এবং পরিবার পরিজনের কথা না ভেবে নিরবেই কাজ করে চলছেন।

এছাড়াও গত কয়েক বছরে প্রায়ই লক্ষ্য করা গেছে যে, যখন হাসপাতালে কোন অসহায় রোগী কিংবা অজ্ঞাত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন। তখন হাসপাতাল প্রাঙ্গনে থাকা এসকল এ্যাম্বলেন্স ব্যবসায়ী ও চালকরা বিভিন্ন জনের কাছে টাকা উঠিয়ে ওই অসহায় ব্যক্তিদের সহযোগিতা করে থাকেন।

চাঁদপুরের সর্বপ্রথম প্রাইভেট এ্যাম্বলেন্স ব্যবসায়ী মাসুদ হোসেন, এ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন, সফিক গাজী, সুমন, কাকন, কবির, মিন্টু, বিশ্বনাথ বিষু সহ একাধিক ব্যবসায়ী ও চালকরা জানান, আমাদের কাজই হচ্ছে রোগীদের সেবা করা। বিশেষ করে দেশের এই কঠিন সময়ে যদি আমরা মাঠে না থাকি তাহলে ভুক্তভোগী রোগীর স্বজনরা অনেক বিপাকে পড়বে। আমরাও তো মানুষ, সে মানুষ হিসেবে সেই বিপদ তো আমাদেরও আসতে পারে। বাচা-মারার মালিক আল্লাহ। তাই আমরা মহান আল্লাহর উপর ভরসা রেখেই করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত মাঠে কাজ করছি।

বর্তমানে চাঁদপুরে করোনা,র ভয়াবহতা রূপ ধারণ করেছে। প্রতিদিনই শত, শত মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। আবার আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীদের মধ্যে অনেকে মারা যাচ্ছেন। এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও থেমে নেই প্রাইভেট এ্যাম্বলেন্স চালকরা। করোনা সংক্রমনের ভয় না করেই প্রতিদিন, প্রতিরাত, প্রতিনিয়ত রোগী নিয়ে বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে চলেছেন তারা।

এবিষয়ে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের বেশ ক’জন চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা বলেন, এই মহামারী করোনাকালীন সময়ে তারা যে, নিজেদের নিরাপত্তার কথা না ভেবে প্রতি নিয়মিত নিরবেই মাঠে কাজ করছেন। প্রতিদিন রোগী এবং লাশ নিয়ে বিভিন্নস্থানে ছুটছেন এটিও একটি বড় অবদান। যদিও তারা তাদের ব্যবসার খাতিরে মাঠে রয়েছেন, কিন্তু এক হিসেবে তারাও কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীদের মতো করোনার সম্মুখ যোদ্ধা।

26 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন