নজরুল

নজরুলের গানে মানুষের চির-দাসত্বের মুক্তির বাণী

মিজানুর রহমান রানা :

কাজী নজরুল ইসলামের প্রধান পরিচয় তিনি কালোতীর্ণ একজন বিদ্রোহী কবি। তাঁর গদ্যে, পদ্যে, গান রচনায় সর্বত্রই আগুনঝরানো বিদ্রোহের একটি প্রচ্ছন্ন রূপরেখা পাওয়া যায়। তবে সেটাই তাঁর একমাত্র পরিচয় বহন করে না। তাঁর ছিলো বহুমুখী প্রতিভা; যা শুধু বর্তমান যুগেই নয় বরং ভবিষ্যতেও এমন গুণের অধিকারী মানুষ পাওয়া যাবে কি-না তা’ নিয়ে রয়েছে যথেষ্ঠ সংশয়। অমিত সম্ভবনাময় শক্তির অধিকারী নিয়ে জন্মেছিলেন তিনি। ফলে তিনি কালজয়ী সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হননি। বরং তিনি আমাদের শিল্প, সাহিত্য-সংস্কৃতি সর্বক্ষেত্রকেই করেছিলেন পরিপূর্ণ।

কারণ তিনি যখন বলেন, “আমি ‘লীগ’ ‘কংগ্রেস’ কিছুই মানি না, মানি শুধু সত্যকে, মানি সার্বজনীন ভ্রাতৃত্বকে, মানি সর্বজনগণের মুক্তিকে।”

তখন বুঝা যায় যে, তিনি সত্যকে, সার্বজনীন ভাতৃত্বকে জনগণের মুক্তিকে প্রষ্ফুটিত করার জন্যে তিনি যা প্রয়োজন এইসব প্রয়োজনীয় কার্যাবলী সম্পাদনেও ছিলেন সিদ্ধহস্ত। একজন বিদ্রোহী কবি ও বাংলার চিরন্তন মুক্তির অনবদ্য গানের পাখির কণ্ঠস্বর এমনই হবেÑ এটাই স্বাভাবিক। তাই মহাকাশের মহাবিস্ফোরণ, ভাঙাগড়া ও বিপুল শক্তির আনাগোনা সাধারণ মানুষের স্থুল চোখে ধরা না পড়লেও ঠিকই দূরদর্শী নজরুলের চোখে পড়েছিলো। নজরুল তার কবিতায়, গানে সেসব অসীম ক্ষমতা ও শক্তিমত্তার কথা বলেছেন একাধিকবার।

বাঙালি সংস্কৃতিতে যদিও গান একটি বহুমাত্রিক প্রেরণার উৎস তবুও একশ্রেণীর মানুষের চরম ধর্মীয় গোঁড়ামীর কারণে এক্ষেত্রটি এক সময় ছিলো পিছিয়ে। কারণ সঙ্গীতচর্চাকে কিছু ধর্মীয় গোঁড়ামনষ্ক প্রায়ান্ধ মানুষ সু-নজরে দেখতো না। তাই বাঙালি সংস্কৃতিতে সঙ্গীতচর্চা, গান রচনা ক্রমে ক্রমে অবহেলিত হতে থাকে। কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এ ক্ষেত্রে আমাদের সংস্কৃতিকে পরিপূর্ণ করতে এগিয়ে এলেন। গান যে শুধুমাত্র গান-ই নয়, তা’ যে আমাদেরকে তার মিষ্টিরসে পরিপূর্ণ করে দিতে পারে অনাদিকাল ধরে তা’ নজরুলের অমর সৃষ্টিতে পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। চলতে থাকে তাঁর গান রচনার সাধনা। ফলে যে মোল­া সমাজ তাঁকে মেরেছিলো বাক্-বল­মের সুতী² বান সেই অজ্ঞÑঠুলিপরা মোল­ারা থেমে গিয়েছিলো নজরুলের গান ও গজল শুনে।

‘দিকে দিকে পুন জ্বলিয়া উঠেছে দীন-ই-ইস্লামী লাল মশাল।
ওরে বেÑখবর, তুইও ওঠ জেগে তুইও তোর প্রাণ-প্রদীপ জ্বাল \’ (দিকে দিকে পুন, মার্চের সুর)

কাজী নজরুল ইসলামের এ পর্যন্ত উদ্ধারকৃত গানের সংখ্যা ৩১৬৩টি। যা তিনি তাঁর স্বল্প জীবনক্ষণে রচনা করেছিলেন। এ ছাড়াও তাঁর অসংখ্য গানের পাণ্ডুলিপি হারিয়ে গেছে। আর বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথের রচিত ২২৩২টি গান এ পর্যন্ত পাওয়া গেছে। কাজী নজরুল ইসলামের সর্বপ্রথম প্রকাশিত গানের শিরোনাম ছিলো ‘উদ্বোধন।’

এর ক’টি চরণ:
‘বাজাও প্রভু বাজাও ঘন বাজাও
ভীম বজ্র-বিষাণে দুর্জয় মহাআহŸান তব বাজাও!
অগ্নিতূর্য্য কাঁপাক সূর্য্য
বাজুক রুদ্রতালে ভৈরব,Ñ
দুর্জ্জয় মহাআহŸান তব বাজাও \’

এই গানটি বসন্তমোহিনী দাদরা তালে রচিত ছিলো। গানটিতে ছিলো সম্পূর্ণ বিদ্রোহের বাণী। সত্যিকার অর্থে নজরুলের মন-মননে সবখানে ছিলো বিদ্রোহেরই আগুন প্রজ্জ্বলিত। শুধু তাই নয় তিনি যখন রচনা করেন:

‘কারার ঐ লোহÑকপাট
ভেঙ্গে ফেল্, র্ক রে লোপাট
রক্তÑজমাট
শিকলÑপূজোর পাষাণÑবেদী!
ওরে ও তরুণ ঈশান!
বাজা তোর প্রলয়Ñবিষাণ!
ধ্বংসÑনিশান
উড়–ক প্রাচী’র প্রাচীর ভেদি।’

তখন সত্যি সত্যিই চির-তরুণের মনে বিদ্রোহের আগুন উস্কে দেয়। পৃথিবীতে এমন বিদ্রোহী ভাবাচ্ছন্ন কবি-গীতিকার শুধুমাত্র নজরুল-একথা চোখ বন্ধ করেও তাই বলা যায়। নিজ দেশের প্রতিকণা মাটির জন্যে কবি তার কবিতা-গান উৎসর্গ করেছেন দেশের আপামর মানুষকে। তেমনিভাবে ‘উদ্বোধন’ও করেছিলেন এমন গানের, যাতে ছিলো প্রজ্জ্বলিত সূর্যের প্রখর তেজ, সুবিশাল বজ্র-ধ্বনি এবং প্রচণ্ডভাবে কালবৈশাখীর ঝড়ের গতিবেগ। ওই গানের মাধ্যমে কবি মানুষের চির-দাসত্বের মুক্তির বাণী ফুটিয়ে তুলেছেন:

‘গাজনের বাজ্না বাজা!
কে মালিক? কে সে রাজা?
কে দ্যায় সাজা
মুক্তÑস্বাধীন সত্যকে রে?
হা হা হা পায় যে হাসি
ভগবান র্পবে ফাঁসি?
সর্বনাশী
শিখায় এ হীন্ তথ্য কে রে?’

এরপর নজরুল প্রায় এক বছর গান রচনায় বিরতি দেন। দীর্ঘ প্রায় এক বছর পর প্রকাশিত হয় আর একটি গান ‘কলঙ্কী প্রিয়।’ এই গানটি রচিত হয়েছিলো বাউলের সুরে। গানটি ‘সওগাত’ পত্রিকার তৃতীয় বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যা/পৌষ ১৩২৬-এ প্রকাশিত হয়।

কবি নজরুল রবীন্দ্রনাথের গান পছন্দ করতেন এবং তা’ নিজেও গাইতেন। কারণ রবীন্দ্রনাথের বহু গান মুখস্ত ছিলো নজরুলের। তাই সত্যিকার অর্থে নজরুল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল ধরনের মানুষের কাছে প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন। নজরুলই সেই গানের পাখি যিনি তাঁর গানে গানে বাংলার মানুষের মুক্তির উপায় বাতলে দিয়েছেন। দেশের মানুষের সর্বপ্রকার মুক্তির জন্যে হারমোনিয়াম কাঁধে ঝুলিয়ে গান গেয়ে ভিক্ষা করেছেন:

‘ভিক্ষা দাও! ভিক্ষা দাও!
ফিরে চাও ওগো পুরবাসী
সন্তান দ্বারে উপবাসী
দাও মানবতা ভিক্ষা দাও।’

নজরুলের বিস্ময়কর সৃষ্টি: গানÑ তা’ শুধু আপামর মানুষেরই জন্যে। তিনি ছিলেন অন্ধকার ভেদ করে আলোর সুবিশাল একটি মিছিল। সমাজের অবহেলিত, লাঞ্ছিত, ভাগ্যহত মানুষের মুক্তির জন্যে, নিপীড়িত মানুষের মর্মজ্বালায় তিনি রচনা করেন:
‘জাগো অনশনÑবন্দী, ওঠ রে যত
জগতের লাঞ্ছিত ভাগ্যহত!
যত অত্যাচারে আজি বজ্র হানি
হাঁকে নিপীড়িতÑজনÑমনÑমথিত বাণী,
নব জনম লভি অভিনব ধরণী
ওরে ওই আগত \’

রবীন্দ্রনাথ বিশ্বজগতের গোপন সম্পর্ক নিয়ে ভাবতে গিয়ে বেদ-উপনিষদের কাছে আশ্রয় নেন। অথচ নজরুল প্রেমের সঙ্গে দ্রোহের এক অপূর্ব মিশ্রণ ঘটান। সেজন্যেই অন্ধকারাচ্ছন্ন গোপন মনের রহস্য-কক্ষের কপাট খুলে গিয়েছিলো তাঁর। ফলে তিনি মনের মাধুরী মিশিয়ে একের পর এক গান রচনা করতে পেরেছিলেন অতি সযতনে। অপরদিকে হুগলী জেলে কারারুদ্ধ থাকাকালীন সময়ে জেলের সকল প্রকার জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে জেলের ‘জুলুম’ বড়কর্তাকে দেখে কবি নিম্নোক্ত গানটি গেয়ে অভিনন্দন জানাতেন:

“তোমারি জেলে পালিছ ঠেলে, তুমি ধন্য ধন্য হে।
আমারি এ গান তোমার ধ্যান, তুমি ধন্য ধন্য হে \
রেখেছ সান্ত্রী পাহারা দোরে
আঁধার কক্ষে জামাই আদরে
বেঁধেছ শিকল প্রণয় ডোরে
তুমি ধন্য ধন্য হে \”

নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গজল-গান ‘আসে বসন্ত ফুলবনে।’ তবে ‘আসে বসন্ত ফুলবনে কবির প্রথম প্রকাশিত গজল হলেও ‘বাগিচায় বুলবুলি তুই’ গজল গানটিই তার প্রথম রচনা। নজরুলের গান নিয়ে গবেষণায় আমরা দেখতে পাই, গ্রীষ্ম নিয়ে লেখা নজরুলের গানের সংখ্যা ২৬টি, বর্ষার গান ১৫৫টি, শরৎ নিয়ে ২৩টি, হেমন্তের গান ৫টি, শীত নিয়ে ৭টি আর বসন্ত নিয়ে রচিত হয়েছে ১৭১টি গান, নার্গিসকে নিয়ে রচিত ৪০/৫০টি গান। এর বাইরেও তিনি অসংখ্য গান রচনা করেছেন। যেমন গান্ধীজীকে লক্ষ্য করে তিনি গেয়েছেন:

‘এ কোন পাগল পথিক ছুটে এলো বন্দিনীর মা’র আঙিনায়।
ত্রিশ কোটি ভাই মরণ-হরণ গান গেয়ে তাঁর সঙ্গে যায়।
অধীন দেশের বাঁধন বেদন
কে এলোরে করতে ছেদন?
শিকল দেবীর বেদীর বুকে মুক্তি শঙ্খ কে বাজায়।’

নজরুলের সাধনা ছিলো বহুমুখী। তিনি দেশাত্মবোধক গানই লিখেননি। তিনি প্রচুর পরিমাণে লিখেছেন ইসলামী সঙ্গীত ও গজল। এ প্রসঙ্গে আব্বাসউদ্দীন আহমদ বলেন, ‘একদিন কাজীদাকে বললামÑ আপনি তো জানেন কীভাবে কাফেরকুফর ইত্যাদি বলে বাংলার মুসলমান সমাজের কাছে আপনাকে অপাঙ্ক্তেয় করে রাখার জন্যে আদাজল খেয়ে লেগেছে একদল ধর্মান্ধ। আপনি যদি ইসলামী গান লেখেন তাহলে মুসলমানদের ঘরে ঘরে উঠবে আপনার জয়গান।….এরপরই দরজা বন্ধ করে আধঘণ্টার ভেতরেই লিখে ফেললেন।, ‘ও মন রমজানেরই ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ (পিলু- কার্ফা)’ গানটি।’ পরবর্তীতে এ গানটি খুবই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলো, যা আজও একমাত্র ঈদের গান বলে বেশিরভাগ সময়ই গীত ও প্রচারিত হচ্ছে। নজরুল পরবর্তীতে এ ধরনের আরও বহু ইসলামী গান লিখেছিলেন। তার মধ্যে এই সুন্দর ফুল (হামদ), খোদার প্রেমের শারাব (মাঢ় মিশ্রÑকার্ফা), রোজ হাশরে আল­াহ্, শোনো শোনো য়্যা ইলাহী (মুনাজাত), খোদা এই গরিবের এবং নাত ইসলামের ঐ সওদা (ভৈরবীÑকার্ফা), এ কোন মধুর শরাব, তৌহিদের মুর্শিদ আমার, মোহাম্মদ নাম যতই জপি, ইয়া মোহাম্মদ, ঈদ মোবারক, মোহররমের চাঁদ (মর্সিয়া জয়জয়ন্তী মিশ্রÑসাদ্রা) উলে­খযোগ্য।

নজরুল শুধুমাত্র মুসলমানদের জন্যেই গান রচনা করেননি। তিনি বরং হিন্দুধর্ম সঙ্গীতও রচনা করেছেন। তার মধ্যে অনাদিকাল হতে, খেলিছ বিশ্ব লয়ে, ওমা তোর চরণে, এবার নবীন মন্ত্রে, এল নন্দের নন্দন, তিমির বিদারী অলখ, ফিরে আয় ভাই (কীর্তনÑভাঙা), ওমা ফিরে এল উলে­খযোগ্য।
নজরুল রচিত অন্যান্য গানগুলো যেমন-প্রজাপতি প্রজাপতি, চমকে চমকে (আরবি (নৃত্যের সুরÑকার্ফা), মোমের পুতুল (ইজিপ্সিয়ান ডান্সের সুর), শুকনো পাতার (আরবি সুরÑকাহারবা (তাল), পউষ এলো (বাউলÑলোফা), শিকল পরার গান, ভাঙার গান, পাহাড়ী গান (ব্যান্ডের সুর), ছাত্রদলের গান (কীর্তনÑবাউল-লোফা), কাণ্ডারী হুশিয়ার (কোরাস), অন্তর-ন্যাশনাল সঙ্গীত, চল্ চল্ চল্ (কোরাস), ভোরের সানাই, সমর-সঙ্গীত (মার্চের সুর), দিকে দিকে পুন (মার্চের সুর), একি অপরূপ রূপে মা তোমায় (বেহাগ মিশÑকাওয়ালী), নমঃ নমঃ নমো (স্বদেশী গান), আমার দেশের মাটি (বাউলÑলোফা), আমার শ্যামলা বরণ বাঙলা (খাম্বাজ মিশ্রÑদাদরা), মেঘ-বিহীন খর-বৈশাখে (সাবন্তী সারংÑতেতালা), তৃষিত আকাশ কাঁপে, মেঘের ডমরু ঘন বাজে, হে সজল শ্যাম, এস শারদ প্রাতের পথিক, হৈমন্তিকা, বসন্ত মুখর আজি, আসে বসন্ত ফুলবনে (ভীমপলশ্রীÑদাদ্রা), খেলিছে জলদেবী, মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম (ভৈরবীÑএকতালা), রুমুঝুমু রুমুঝুমু (পিলুÑদাদরা) প্রভৃতি আমাদের সংস্কৃতি অঙ্গনে বিরাট শূন্যতাকে করেছে পরিপূর্ণ।

নজরুলের গান নিয়ে আমরা পর্যবেক্ষণ করলে দেখতে পাই, তাঁর গান সেই বিশের দশক থেকেই জনপ্রিয় ছিলো সেই আমলের শিল্পী, তথা আঙুরবালা, ইন্দুবালা, ধীরেন মিত্র, কাশেম মলি­ক, আব্বাস উদ্দীনসহ আরও অনেক শিল্পীর কণ্ঠে গীত হবার কল্যাণে। এর পরবর্তীকালে নজরুল সঙ্গীতের হাল ধরেন ফিরোজা বেগম। বর্তমান কালের মধ্যে পূরবী দত্ত, অঞ্জলি মুখোপাধ্যায়, ধীরেন বোস এবং আরও অনেকে। তবে আধুনিক সময়ের রূপকারদের মধ্যে আরও ছিলেন পূরবী দত্ত, অঞ্জলি মুখোপাধ্যায়, ধীরেন বোস এবং আরো অনেকে।

নজরুল ইসলামের গান প্রসঙ্গে আলোচনায় আরও কিছু কথা চলে আসে। যা এখন সুজিত মোস্তফার লেখনি থেকে সামান্য কিছু তুলে ধরছি। তিনি নজরুল সংগীত প্রসঙ্গে উলে­খ করেন, “আমরা লক্ষ্য করেছি, আমাদের গবেষণার ধারাটি বেশ সহজ। রেকর্ড পাওয়া গেল, সুর শুনে একটি স্বরলিপি করে ফেলা। কিন্তু প্রকৃত গবেষণা হবে ওই গানগুলোর উৎস অনুসন্ধান করা যেগুলো রেকর্ডে নেই অথচ প্রচলিত এবং জনপ্রিয়। এমনকি খুব জনপ্রিয় না হলেও সেগুলোর উৎস অনুসন্ধান জরুরি।”

পরিশেষে বলতে চাই, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো নজরুলও শুধুমাত্র ১১ জ্যৈষ্ঠ ও ১২ ভাদ্রের আনুষ্ঠানিকতায় যেন বন্দী হয়ে না যায়। কারণ, আমাদের দেশের মানুষের জন্যে সকল প্রকার দাসত্বের চিরমুক্তির পাথেয় প্রতিফলিত হয়েছে নজরুল ইসলাম রচিত গানগুলো। তাই প্রকৃত লক্ষ্য-রহস্যের দ্বার উদ্ঘাটন এবং দাসত্বের শৃঙ্খল মুক্ত হতে হলে আমাদেরকে সবসময়ের জন্যে নজরুলের গানের চর্চা তথা সঙ্গীতচর্চা করতে হবে।

46 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন