আলম হায়দার

নূরে আলম হায়দার-এর কয়েকটি কবিতা

প্রিয়তমা

প্রিয়তমা
তোমার জন্য রেখেছি আমি
মনের দরজা খুলে
যদি তুমি আসো কখনো ভুলে।

তুমি আমার সেই রঙিলা আকাশ
মরুতে হঠাৎ আসা জল,
তুমি আমার সেই চিলেকোঠায়
বৃক্ষহীন মিষ্টি ফল।

বৃক্ষ যেমন টবের মাটিতে
পায় না পরিপূর্ণ শ্বাস,
তেমনি এ হৃদয়ের জমি জুড়ে
তোমার বসবাস!

আসতে বাধা নেই কখনো
যখন টানে মন,
এই হৃদয়ে তুমি বিহীন
আসবে না কোনো জন!

আসতে বাধা নেই কখনো
থাকবে সদাই দরজা খোলা
তোমার শূন্যতা হবে না পূরন
যাবে না কখনো ভোলা

নদী কি কখনো থাকতে পারে
পানি ছাড়া ভালো,
তেমনি তুমি ছাড়া কে পারবে বলো?
জ্বালাতে বেঁচে থাকার আলো!

যেমন মরুভূমি তৃপ্তি পায়
যখন আসে হঠাৎ করে হাওয়া,
চলছিল আমার তরি তোমার ছোঁয়ায়
যায় না এখন ভাওয়া।

প্রিয়তমা তুমি ঝিনুকে মুক্ত
ভাগ্য যাকে চায়,
কি করে বলো ভালো থাকি
হারিয়ে তোমায়।

আর কি হবে না

চৌমহনীর সেই আড্ডাটা
কোথায় হারিয়ে গেল,,
আজ তাগিদের টানে নানা দিকে
সবাই এলো মেলো।

আজ আর হয় না আড্ডা
চৌমহনীর চারিপাশে গিরে
আজ সবাই আছে অনেক দূরে
যার যার কর্মের ভিরে।।

আজ আর হয় না যাওয়া
কলঘরটি পরে আছে একা,
আজ আর দেয় না কেহ
কলঘরে যাওয়ার কারনে বকা।

আর কি পাব না আড্ডার
সেই তাল গাছটি ফিরে?
আর কি হবে না আড্ডা দেওয়া
সেই মাচার চারিদিক গিরে?

আর কি হবে না সেই
রাস্তায় বসে গান গাওয়া?
আর কি দিবে না বাবা এসে
আমাদের সবাইকে দাওয়া?

আর কি হবে না লুডু খেলা
সেই কলঘরে বসে?
আর কি দিবে না তারা
মা কিংবা দাদি লাঠি নিয়ে এসে?

আর কি হবে না সেই
মৌলবী কিংবা গেগার দোকানে বসা?
আর কি হবে না সবাই মিলে
গভীর রাতে বাজার থেকে আসা?

আর কি হবে না মসজিদে সেই
ইটের কনা ছুড়াছুড়ি?
আর কি হবে না দিন শেষে
মসজিদে ইফতারের জুড়ি?
আর কি হবে না তারাবি নামাজে
মাথা থেকে টুপি চুরি?

আর কি হবে না মন খুলে গান
মিলের নিকটে বসে?
আর কি হবে না সেই মুরির পার্টি
অর্ধেক রজনী শেষে?

আর কি আসবে না সেই
সকাল সকাল ফোনে কল?
আর কি বলবে না কেউ?কিরে,
চৌমহনী আসবি কখন বল?

আর কি হবে না বাজারে যাওয়া
সকাল বিকাল দুই ক্ষনে?
আর কি আসবে না বাসার জন্য
বাবার কল ফোনে?

আর কি হবে না চৌমহনী সেই
সকাল বিকাল মিলন মেলা?
আর কি হবে না সেই
সবাই একসাথে ক্রিকেট খেলা?

আর কি দিবে না বিচার
মৌলবী বা ঘেগায় বাবার কাছে?
আর কি হবে না বলা
মৌলবী ঘেগা তোদের খবর আছে?

আর কি হবে না সেই গাছের গোড়ায়
বসে থাকা অনেক ক্ষন?
আর কি হবে না অপেক্ষা করা
আসবে বলে কারো প্রিয় জন?

আর কি হবে না দুটি ঈদ ছাড়া
নিয়মিত মিলন মেলা?
এসব স্মৃতি কাঁদাবে আজীবন
যাবে না কখনো ভূলা।

সেই তুমিটির অভাব

আমার ধোঁয়ার প্রতিটি শীষে
রোজ কারো স্মৃতি পুড়ি
কিসে এতো আপন হলো
হয়েছে যার সাথে তোর ঝুরি,
করেছ নষ্ট প্রেমের ভাব
সেই তুমিটির অভাব

কি পেয়েছি বলো না তুমি
তুমিই তো নেই পাশে,
স্বপ্ন তুমি দিয়ে যাও ফাঁকি
কেন আসো না কাছে,
এটাই কি তোমার স্বাভাব
সেই তুমিটির অভাব।

বাঁশ বাগানে আমায় ডাকে
চলি আমি তার ফাঁকে ফাঁকে
ফুলের মধু ফুরিয়ে গেলে
ভোমর কি তারে মনে রাখে
হয় নষ্ট তার স্বভাব,
সেই তুমিটির অভাব!

অহংকার

অহংকার হলো পতনের মূল
পূর্ণিমাতে ঘ্রাণ,
অর্থের দাপট বড়ই বেজায়
যদিও ঘরে ত্রাণ।

অহংকার দিয়ে ফুটাতে পারেনি
কখনো কেউ হাসি,
তবুও কেন? অহংকার কে
এতো ভালোবাসি।

অহংকার হলো পেট্রোলে আগুন
নীভে না বরং জ্বলে,
কারো অহংকার ফুটে ওঠে
কারো অহংকার তলে।

কেউ আবার দেখতে পায় না
গরিব-দুঃখী স্বজন,
এপার হয়তো তোমার কেনা
ছাড় পাবে ওপারে কজন।

আমিও মানুষ তুমিও মানুষ
এতো কিসের অহংকার,
ঘুম ভাঙলে সজাগ তুমি
না ভাঙলে ওপার।

অহংকার হলো নদীর বুকে
হঠাৎ জাগ্রত চর,
অহংকার হলো রোদেলা দুপুরে
কালবৈশাখী ঝড়।

অহংকার করে কি পেয়েছি
ভেবে দেখি আসো,
তবুও কেন অন্যের দুঃখে
খলখলিয়ে হাসো।

মালিক পারে না এমন কিছু
আছে কি ভবের তরে,
আমার ও তো যেতে হবে
একদিন মাটির ঘরে।

দ্বন্দ্ব ভুলে বিভেদ ছাড়
আমরা মানব জাতি,
প্রতিটি মনে জ্বালিয়ে দাও
ভালোবাসার বাতি।

113 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন