ন্যাড়া

পরকীয়ার অভিযোগে নারীর মাথা ন্যাড়া করার ভিডিও ভাইরাল, গ্রেপ্তার ৪

নিউজ ডেস্ক :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পরকীয়ার অভিযোগে ৪৪ বছর বয়সী এক বিধবা নারীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে মারধর করে মাথা ন্যাড়া করে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় সরাইল থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ইতিপূর্বে আটক চারজনকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) রাতে ওই বিধবা নারী ৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ ইতিপূর্বে আটককৃত চারজনকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- সরাইল উপজেলার তেরকান্দা গ্রামের মহালদারপাড়ার জাহের আলীর ছেলে মেরাজুল (২৪), মেরাজুলের স্ত্রী তানজিনা আক্তার (২০), মেরাজুলের স্ত্রীর বড় বোন উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের বেড়তলা গ্রামের রাশেদ মিয়ার স্ত্রী রাশেদা বেগম (৩৫) এবং একই এলাকার আবদুর রাহিমের স্ত্রী ফেরদৌসা আক্তার (২১)।

মামলায় নাম উল্লেখ করা অপর দুই আসামি হলেন- বেড়তলা গ্রামের মিজান মিয়ার ছেলে ইউসুফ আলী (২৪) ও আলকাছ মিয়ার ছেলে মনা মিয়া ওরফে পিচ্ছি মনা (২২) ও অজ্ঞাতনারা আরও ২/৩ জন রয়েছেন। অজ্ঞাত নামা আসামিরা পলাতক রয়েছেন।

মামলায় নির্যাতিতা নারী অভিযোগ করে বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি নির্মাণাধীন বিভিন্ন বিল্ডিংয়ে শ্রমিকের কাজ করেন। তার সঙ্গে শ্রমিকের কাজ করেন মেরাজুল। একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে মেরাজুল ওই নারীর কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা ধার নেন। পাওনা টাকা দিতে মেরাজুল তালবাহানা শুরু করায় টাকা আদায় করতে ওই নারী বিভিন্ন সময় মেরাজুলের বাড়ি ও তার শ্বশুর বাড়িতে যেতেন।

night king new 01762240650
বিজ্ঞাপণ

একপর্যায়ে টাকা ফেরত দিতে ওই নারী বিভিন্নভাবে চাপ দিতে থাকলে গত ২২ জুলাই সকালে মেরাজুল মোবাইল ফোনে ওই নারীকে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে তার শ্বশুর বাড়ি উপজেলার বেড়তলা গ্রামে যেতে বলেন। মেরাজুলের কথামতো ওই নারী ২২ জুলাই সকাল ৮টায় মেরাজুলের শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার পর মেরাজুলের স্ত্রীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকেরা মেরাজুলের সঙ্গে ওই নারীর পরকীয়া প্রেম আছে বলে অভিযোগ তুলে তাকে একটি ঘরে আটকে রেখে মারধর শুরু করেন। দুপুর ১২টার দিকে মেরাজুলের নির্দেশে তার স্ত্রীর বড় বোন রাশেদা বেগম একটি ব্লেড দিয়ে তার মাথা ন্যাড়া করে দেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই সময় অন্য আসামিরা ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। মাথা ন্যাড়া করার পর আসামিরা জোরপূর্বক তার কাছ থেকে ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার ও নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আসামিরা ওই নারীর বাড়িতে ফোন দিলে তার আত্মীয়-স্বজন ঘটনাস্থলে গেলে ওই নারীর কাছ থেকে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে ওই নারী লোকলজ্জায় ও অপমানে ঢাকায় তার মেয়ের বাসায় চলে যান। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মাথা ন্যাড়ার ভিডিওটি ভাইরাল হলে তার বাড়ির লোকজনের কাছ থেকে ফোন পেয়ে তিনি ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চলে আসেন ও পরে থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে সরাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কবির হোসেন বলেন, আমরা মামলার চার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। আসামিদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন, ভিডিওটি দেখার পরপরই আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান শুরু করে। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকিদেরকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

118 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন