জাল

হাজীগঞ্জে অবৈধ কোটি টাকার কারেন্টজালের ব্যবসা!

হাজীগঞ্জ প্রতিনিধি :

হাজীগঞ্জে বর্ষা মৌসুমে প্রায় শত কোটি টাকার অবৈধ কারেন্টজালের অবৈধ বাণিজ্য রমরমা হয়ে উঠে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কারেন্টজাল বাণিজ্য প্রকাশ্যে চলে আসে। হাজীগঞ্জ বাজারস্থ বনিক পট্টি তথা বাইন্না পট্রির অধিকাংশ জাল ব্যবসায়ী অবৈধ কারেন্টজাল ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত এবং অনেকটাই বেপরোয়া।

সর্বশেষ ১২ আগস্ট বৃহস্পতিবার জেলা কোস্টগার্ড মাত্র ৪টি গুদামে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১২ কোটি টাকার কারেন্ট জাল জব্দ করে।

এ সময় অন্য গুদামের মালিকরা কোস্টগার্ড সদস্যদের দেখে সটকে পড়ে। বাইন্না পট্টির অন্য কারেন্টজালের গোডাউনে অভিযান চালালে হয়তো কমপক্ষে অর্ধশত কোটি টাকার কারেন্ট জাল পাওয়া যেতো বলে মনে করছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। হাজীগঞ্জ বাজারের কারেন্ট জাল ব্যবসায়ীরা হাজীগঞ্জ বাজারেই তাদের অবৈধ জালের ব্যবসা সীমাবদ্ধ রাখেনি, বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী আশপাশে বিভিন্ন বাজারে পাইকারী কারেন্টজালের বিশাল মার্কেট তৈরি করে নিয়েছে বলে বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাজীগঞ্জ বাজারের বণিক পট্টি একটি নামকরা বানিজ্যিক ব্যবসা প্রসার কেন্দ্র। এই পট্টি তথা গলিতে রয়েছে হার্ডওয়ার, মুদি পাইকারি, সিরামিক, সিলভার সামগ্রী, কাপড়ের পাইকারী মার্কেট, মাটির তৈজসপত্রের পাইকারী দোকান, মাছ শিকারের দেশীয় জালের পাইকারী বাজার।

এই গলিতেই প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার বানিজ্য হয়ে থাকে। একই গলিতে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় অর্ধশত দেশীয় জালের দোকান রয়েছে। এই সকল দোকানে মাছ ধরার যত ধরনের জাল রয়েছে তার সবই পাইকারী ও খুচরাভাবে বিক্রি হয়ে থাকে। কিন্তু এই গলির প্রায় অর্ধশত জাল ব্যবসায়ীদের মধ্যে ১০/১২ জন তাদের বৈধ জালের ব্যবসা থেকে অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবসার পিছনে লগ্নি করেছেন কয়েকগুন বেশি।

জানা যায়, স্থলপথের চেয়ে নদীপথে হাজীগঞ্জে সবচেয়ে বেশি কারেন্টজাল আসে। বিশেষ করে ঢাকার পাইকারী বাজার কিংবা ঢাকার আশপাশের কারেন্টজালের ফ্যাক্টরী থেকে সরাসরি বড় নৌকায় করে অন্য সকল মালামালের সাখে কারেন্টজালের চালান চলে আসে।

হাজীগঞ্জ বাজারস্থ ট্রাকরোডের শেষ মাথায় জাল নিয়ে আসা নৌকা ভিড়লেই নৌকা ঘাট থেকে মাত্র ৩০/৪০ হাত হাটলেই অধিকাংশ জাল ব্যবসায়ীর গুদার রয়েছে। বনিক পট্টির শেষ মাথাসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি অবৈধ কারেন্ট জালের গুদাম রয়েছে। জাল ব্যবসায়ীদের ব্যবসাই বর্ষা মৌসুম কেন্দ্রিক হওয়ায় বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই এই সকল জাল ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকার কারেন্ট জাল কিনে গুদামজাত শুরু করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বনিক পট্রির একজন জাল ব্যবসায়ী জানান, বাবা আমি কারেন্টজাল বিক্রি করি না এজন্য আমার বেচাকেনা যৎসামান্য। প্রথমত এটা অবৈধ ব্যবসা আর দ্বিতীয়ত কারেন্টজালের ব্যবসা করতে হলে ভারী ক্যাশ টাকার দরকার হয়। এই যে যাদের জাল কোস্টগার্ড নিয়ে গেছে তারা বেশিরভাগ ব্যবসায়ী দায় দেনা করে মোকাম করেছে। তারা এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগবে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, প্রতি বর্ষা মৌসুমে শুধু হাজীগঞ্জ বাজারে শতকোটি টাকার কারেন্ট জালের ব্যবসা হয়। তবে এতো বিশাল পরিমান টাকার জাল হাজীগঞ্জে চলে না। হাজীগঞ্জের অবৈধ কারেন্ট জাল আশপাশের অন্য সকল উপজেলায় পাইকারী বিক্রি হয় বিধায় এখানের ব্যবসায়ীক রুলিংটা এতো উচু মাত্রার হয়ে থাকে। আবার কিছু ব্যবসায়ী সব দিক ম্যানেজ করে তাদের অবৈধ জাতি ব্যবসা বছরের পর বছর চালিয়ে আসছেন।

খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, হাজীগঞ্জ বাজারের পাইকারী কারেন্ট জাল উপজেলা ও উপজেলার বাইরের খুচরা বাজারে দেদারছে বিক্রি হয়ে থাকে। বিশেষ করে রাজারগাঁও, বাকিলা, রামপুর, ওয়ারুক বাজারে গ্রাম হিসেবে কারেন্ট জাল বিক্রি হয়।

এদিকে হাজীগঞ্জ বাজারের অবৈধ কারেন্টজাল ব্যবসার খবর বেশ পরিচিত হওয়ার কারনে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে কারেন্ট জালের জন্য অভিযান পরিচালনা করা হয়। গত বছর কয়েক কোটি টাকার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করছে কোষ্টগার্ড। চলিত বছর তথা গত বৃহস্পতিবার মাত্র ৪ ঘন্টার অভিযানে ৪ টি গুদামে অভিযান চালিয়ে ৩৩ লাখ মিটার কারেন্ট জাল, ৪৭০ টি চায়না চাই জাল জব্দ করা হয় যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১২ কোটি টাকা।

ৎএদিন যে কয়েকটি গুদামের মালিক কোষ্টগার্ডের অভিযান দেখে পালিয়েছে তাদের গুদামগুলোতে অভিযান চালালে সব মিলিয়ে অর্ধশত কোটি টাকার কারেন্ট জাল পাওয়া যেতো বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

১২ আগস্ট বৃহম্পতিবারের অভিযান পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা কোস্টগার্ডের কর্মকর্তা লেঃ সামছ্, হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আশফ্কাুল আলম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হায়দার পারভেজ সুজন।

বৃহস্পতিবারের কোস্টগার্ড অভিযানের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এনামুল হাছান জানান, আজকে আমরা প্রায় ১২ কোটি টাকা মূল্যের কারেন্টজাল ও চায়না চাঁই জাল জব্দ করেছি। অপরদিকে অপরাধ স্বীকার করায় দুই জাল ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা করে ১০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

50 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন