ঘােষ

চাঁদপুরে নারায়ণ হত্যাকাণ্ড : রাজুকে গ্রেফতারে মরিয়া পুলিশ, আটক ২

নিউজ ডেস্ক :

চাঁদপুর শহরের দধি ব্যবসায়ী নারায়ণ ঘোষকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগে সেলুন কর্মচারী ঘাতক রাজুকে আটকের জন্য মরিয়া হয়ে অভিযান অব্যাহত রেখেছে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, ঘাতক রাজু ঘটনা ঘটিয়ে কেউ কোনো কিছু বুঝে উঠার পূর্বেই তাৎক্ষণিক কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

এদিকে বাজারের নাইটগার্ড ও অন্যান্যদের বক্তব্যে পুলিশ নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই তথ্য প্রযুক্তিসহ নানাভাবে ঘাতক রাজুকে আটকের জন্য মরিয়া হয়ে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। পুলিশ নানাভাবে সংগ্রহকৃত তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদপুরে আত্মগোপনে থাকতে পারে ঘাতক রাজু এমন স্থানগুলোতে অভিযান এবং নজরদারি রেখেছে।

এই অবস্থায় রাজুকে আটকের জন্য পুলিশ চাঁদপুর সদর উপজেলার দেবপুর এলাকার শীল বাড়ি থেকে ঘাতক রাজুর স্ত্রী ও শ্যালককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। যদিও পুলিশ আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ বা তথ্য কী কারণে তাদেরকে থানায় আনা হয়েছে, এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাননি।

শহরের বেশ কজন সেলুন মালিকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঘাতক রাজুর পৈত্রিক বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। গত কয়েক বছর পূর্বে সেলুন কর্মচারী হিসেবে চাঁদপুরে এসে শহরের পালবাজার ব্রীজ সংলগ্ন পৌরসভার মার্কেটের ২য় তলার সেলুনে কাজ নেয়। এই সেলুনে প্রায় ২ বছরের মতো কাজ করে বিপনীবাগ টিপটপ সেলুনে বেশি বেতনে চাকুরি নেয়। সেখানে মালিক কৃষ্ণার সাথে সুসম্পর্কের কারণে এবং নিয়মিত আসা যাওয়ার সূত্র ধরে পরিচয় হয় নারায়ণ ঘোষের সাথে। ঘাতক রাজু নারায়ণ ঘোষকে চাচা বলে ডাকতো এবং সুখ দুঃখে সহযোগিতা নিতো। সেই চাচাকে খুন করে পলাতক রাজু।

উল্লেখ্য, চাঁদপুর শহরের নতুনবাজার এলাকার ঘোষপাড়ার বাসিন্দা দধি ব্যবসায়ী নারায়ণ ঘোষকে জবাই করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর শহরের নতুনবাজার এলাকার ঘোষপাড়ার বাসিন্দা নারায়ণ ঘোষ (৬০)কে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দী অবস্থায় বিপনীবাগ বাজারের পাবলিক টয়লেটের কাছে ফেলে রেখে যায়। পরে বিপণীবাগ বাজারের ব্যবসায়ী মেসার্স শরীফ স্টীল ওয়ার্কস মালিক ১৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে দোকান খুলতে গিয়ে বস্তা দেখে সন্দেহ হলে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশকে জানায়। তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর শহরের নতুন বাজার ৮নং ওয়ার্ডের ঘোষপাড়ার ঘোষ বাড়ির বাসিন্দা নারায়ণ ঘোষ (৬০) বংশগতভাবে দধি ব্যবসা করে আসছে। চাঁদপুর শহরে একজন দধি ব্যবসায়ী হিসেবে বেশ পরিচিত। তিনি শহর ও শহরতলীতে বিভিন্ন দোকানে পাইকারি দধি সরবরাহ করতেন। বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে দধি দিয়ে তাগাদা করে আসতে অনেক সময় সন্ধ্যা হয়ে যেতো। ফলে সামান্য কিছুটা সময় চাঁদপুর শহরের বিপনীবাগ বাজারের পৌর সুপার মার্কেটের নীচে জনৈক সেলুন ব্যবসায়ী কৃষ্ণার মালিকানাধীন টিপটপ সেলুনে সময় কাটাতেন। এভাবে সেলুন মালিক ও কর্মচারীদের সাথে নিহত নারায়ণ ঘোষের সখ্যতা গড়ে উঠে।

এ অবস্থায় উক্ত টিপটপ সেলুনে গত দুবছর পূর্বে কুমিল্লার রাজু নামে কর্মচারী চাকুরি নিয়ে এই সেলুনে কাজ করে। নারায়ণ ঘোষ সেলুনে আসা যাওয়ার ফলে তার সাথে চাচা ভাতিজা হিসেবে বেশ সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। জানা যায়, রাজু এই সম্পর্কের কারণে প্রায়ই অর্থনৈতিক সংকটে পড়লে দধি ব্যবসায়ী নারায়ণ ঘোষ থেকে টাকা ধার নিতো। ফলে সম্পর্কের গভীরতায় সেলুন মালিক কৃষ্ণার চেয়ে কর্মচারী রাজুর সাথে ঘনিষ্ঠতায় রুপ নেয়। ফলে নারায়ণ ঘোষ শহরের আর কোথায় ও আড্ডা বা সময় কাটাতো না, শুধু মাত্র বিপনীবাগ টিপটপ সেলুন ব্যতিত।

এদিকে নিহতের ছেলে সুমন ও রাজু ঘোষ জানান, তাদের বাবা কখোনই রাত সর্বোচ্চ ১০টার পর বাইরে থাকেনি। যতো সমস্যা হোক না কেনো ১০টার মধ্যে বাসায় ফিরেন। কিন্তু গতকাল ১৫ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকেলে ব্যবসার কাজে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিদিষ্ট সময় পার হয় যাওয়ার পর দু’ছেলেই নারায়ণ ঘোষকে নানা স্থানে খুঁজতে থাকে। এমনকি তার একমাত্র অবসর সময় কাটানো টিপটপ সেলুনে একাধিক বার খোঁজ খবর নিয়েও কোনো খোঁজ পায়নি। এক পর্যায়ে সেলুন মালিক কৃষ্ণাকে বিষয়টি অবহিত করা হলে তিনি বলেন, চাচার সাথে আজ আমার দেখা হয়নি। এই অবস্থায় নিহত নারায়ণ ঘোষের ছোট ছেলে বাবাকে না পেয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় অভিযোগ করার জন্য দুবার গিয়ে আত্মেীয়-স্বজনদের পরামর্শে ফিরে আসেন। সকলের একটাই কথা ছিলো রাত পর্যন্ত দেখি, সকালে না হয় আইনগত ব্যবস্থা নেবো। এমন কথায় তারা আর আইনগত ব্যবস্থা বা থানায় অভিযোগ বা জিডি করেননি বলে এ প্রতিনিধিকে জানান।

অপরদিকে সেলুন মালিক কৃষ্ণা সব সময় রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে বাসায় চলে যান। তাই অন্যান্য দিনের ন্যায় সেলুন ব্যব একই সময়ে চলে যাওয়ায় সেও বিষয়টি জানে না বলে জানান। কিন্তু দোকানের কর্মচারীরা কাস্টমার থাকলে দেরী বা অধিক দেরীতে দোকান বন্ধ করেন। অনেক সময় দোকানে কর্মচারীরা রাতে ঘুমানোর কারণে দোকান অধিক সময় বন্ধ করা হয় বলে জানান দোকান মালিক কৃষ্ণা।

রাজুই হত্যাকারী, নিশ্চিত হয় যেভাবে : নারায়ণ ঘোষের হত্যাকারী রাজুই, এটিই নিশ্চিত তা পরিস্কার জানা গেছে। রাত যখন গভীরে যাচ্ছে নারায়ণ ঘোষ বাসায় ফিরছে না। তখন তার স্বজনরা টিপটপ সেলুনসহ নানা স্থানে খুজতে থাকে। নিহতের ছেলেরা কয়েকবার হত্যাকারী রাজুকে নারায়ণ ঘোষ সেলুনে আসছে কি না যতবার জানতে চেয়েছে ততবারই উত্তর ছিলো একটাই। চাচা আসছিলো সেভ করে আমার কাছ থেকে চলে গেছে। নিহতের ছেলেরা জানান, এই কথাগুলো বলার সময় হত্যাকারী রাজুর চোখ মুখে ছিলো একটা আতঙ্কের ছাপ। এভাবেই হত্যাকারী গভীর রাত পর্যন্ত সময় কাটিয়ে বিশেষ করে রাত ১টার দিকে শুরু হয় লাশ গুম করার কাজ।

এদিকে বিপণীবাগ বাজারের পশ্চিমাংশের নাইটগার্ড মোঃ ইসমাইল জানান, রাত ১টা বা দেড়টার দিকে টিপটপ সেলুন কর্মচারী রাজু সেলুনের ফ্লোরসহ পুরো সেলুন একাই পরিস্কার করছে। এ তাও পুরো সার্টার বন্ধ করে। তখন সেলুনের লাইট জ্বলছে এবং ফ্যান চলছে।

আরো পড়ুন : অর্শ বা পাইলস হলে কী করবেন ?

আরো পড়ুন : অ্যালার্জি দূর করবে ৫টি খাবার

আরো পড়ুন : শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

আরো পড়ুন : যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার

আরো পড়ুন : ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

আরো পড়ুন : মেহ প্রমেহ ও প্রস্রাবে ক্ষয় রোগের কার্যকরী সমাধানসমূহ

আরো পড়ুন : গেজ, অশ্ব,পাইলসের সহজ চিকিৎসা

আরো পড়ুন : মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়ার হোমিও চিকিৎসা

52 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন