চলছে রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার ও গুজব

লাগামহীনভাবে চলছে রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার ও গুজব

নিউজ ডেস্ক :

নাগরিক টিভি বলে একটি আইপি টিভি কানাডা থেকে প্রচারিত হয়। এই চ্যানেলটি আইপিটিভি ক্যাটাগরিতে কানাডায় নিবন্ধিত। এই চ্যানেলটিতে গত ৫ দিন ধরে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী নানা রকম কুৎসিত, নোংরা এবং অকথ্য ভাষায় আক্রমণ চলছে। অথচ বিটিআরসি বা সরকারের পক্ষ থেকে এই নাগরিক টেলিভিশনকে নিয়ন্ত্রণের কোনো উদ্যোগ নেই। বরং অবাধে এটি বাংলাদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।

মানুষ এই সমস্ত গুজব ও অপপ্রচারে কিছুটা হলেও বিভ্রান্ত হচ্ছেন, নাগরিক টিভিতে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে যেসব আপত্তিকর কথাবার্তা বলা হয়েছে তা শুধুমাত্র গর্হিত নয় বরং রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক অপরাধও বটে।

শুধু নাগরিক টিভি নয়, এই সময় বিএনপি এবং জামায়াত এর অর্থ নিয়ে কাজ করা জনৈক কনক সরওয়ার নামে একজন তথাকথিত সাংবাদিক নামধারী ইউটিউবার তার চ্যানেলে একের পর এক মিথ্যাচার করছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে নানা রকম বা আক্রমণাত্মক এবং মিথ্যাচারের ডালা সাজিয়ে বসেছেন কনক সারোয়ার। সেটিও বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করা হয়েছে অর্থের বিনিময়ে।

এভাবে যুক্তরাজ্য, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে রাষ্ট্রবিরোধী লাগামহীন প্রচারণা তীব্রতর হয়েছে। বিশেষ করে গত কয়েকদিনে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে যে সমস্ত নোংরা, মিথ্যা, আপত্তিকর ব্যাখ্যা ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানো হয়েছে তা শিষ্টাচার এর সমস্ত সীমা-পরিসীমাকে অতিক্রম করেছে বলেই সাধারণ মানুষ মনে করেন।

অথচ সেসব মিডিয়া থেকে অর্থের বিনিময়ে বিজ্ঞাপন আকারে পোস্টগুলো বাংলাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু এসব কনটেন্ট বন্ধের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকার বিভিন্নভাবে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে যদি সদিচ্ছা থাকে। যেমন-

১. সরকার সেই কনটেন্টগুলো প্রত্যাহার করার জন্য ফেসবুক এবং ইউটিউবকে অফিসিয়ালি চিঠি ইস্যু করতে পারে। একইসাথে বাংলাদেশের প্রচলিত আইন লঙ্ঘিত হচ্ছে মর্মে তাদেরকে আইনি নোটিশ দিতে পারে। আর কর্তৃপক্ষ যদি কনটেন্টগুলো না সরায়, সে ক্ষেত্রে ফেসবুক ও ইউটিউব বাংলাদেশে বন্ধ করার মত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ ধরনের কোনো আপত্তি জানিয়েছে বলে এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

২. যুক্তরাজ্য, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচারিত এসব নোংরা ও কুৎসিত মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে সেসব দেশের প্রচলিত আইনের আশ্রয় নেয়ার জন্য সরকার বাংলাদেশি দূতাবাসগুলো যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারে। সেসব দেশের প্রচলিত আইনেই এই ধরনের মিথ্যাচার এবং লাগামহীন বক্তব্যকে মানহানিকর এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে সেখানেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো উদ্যোগও লক্ষ্য করা যায়নি।

৩. সরকার দেশের আদালতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সেইসব অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করে রাখতে পারে। সেই মামলার নথিপত্র দিয়ে ফেসবুক এবং ইউটিউব কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানাতে পারে। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আইনি সংস্থার সাথে মিলে পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ধরনের নোংরামির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে সরকার কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি।

আর এ নিয়েই সাধারণ মানুষ এবং আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে নানারকম অস্বস্তি। লাগামহীন রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার কেন চলতে দেওয়া হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সাধারণ মানুষ মনে করেন, অবিলম্বে এ ধরনের নোংরা মিথ্যাচার, গুজব ও অপপ্রচুর বন্ধ করা উচিত রাষ্ট্রের জন্য দেশের মানুষের মঙ্গলের স্বার্থেই। তা না হলে এ ধরনের উস্কানিমূলক অপ-তথ্য ও গুজব ক্রমাগত প্রচার হতে থাকলে এক সময় সাধারণ স্বল্প শিক্ষিত মানুষের কাছে তা বিশ্বাসযোগ্য মনে হবে। গোয়েবলসীয় ফর্মূলা অনুযায়ী, মিথ্যাকে দশবার প্রচার করলে তা লোকে সত্য ভাবতে শুরু করে।

কাজেই সংশ্লিষ্ট সকলকে এখনই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন বিশ্লেষকরা। বাংলাইনসাইডার।

আরো পড়ুন : শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

আরো পড়ুন : যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার

আরো পড়ুন : ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

আরো পড়ুন : মেহ প্রমেহ ও প্রস্রাবে ক্ষয় রোগের কার্যকরী সমাধানসমূহ

আরো পড়ুন : গেজ, অশ্ব,পাইলসের সহজ চিকিৎসা

আরো পড়ুন : মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়ার হোমিও চিকিৎসা

193 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন