সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট

স্বর্ণের দুলের লোভেই ৭ বছরের শিশুকে হত্যা করে রুমা

নিউজ ডেস্ক : চাঁদপুর রিপোর্ট

মাত্র তিন আনা স্বর্ণের কানের দুলের লোভেই শিশু পপি সাহা (৭) কে গলাটিপে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে হত্যা মামলার প্রধান আসামি রুমা
শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গ্রেপ্তারকৃত আসামি রুমা ও তার স্বামী এমরানকে লক্ষীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-২ রায়পুরে হাজির করা হলে এ জবানবন্দি দেয় সে।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের পর তাদের দু’জনকেই জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন অত্র আদালতের বিচারক মো. তারেক আজিজ।

শুক্রবার সন্ধ্যার পর বিষয়টি নিশ্চিত করেন রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল জলিল। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বিষয় উল্লেখ করে ওসি বলেন, ৭ বছর বয়সী শিশু পপি সাহাকে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া রুমা আক্তার সকলের অগোচরে কৌশলে নিজের ঘরে নিয়ে প্রথমে বিস্কুট খেতে দেয়।

আরো পড়ুন : জেনে নিন যৌন রোগের লক্ষণ ও প্রতিকার

তিনি জানান, এসময় শিশুটির কানে তিন আনা ওজনের স্বর্ণের দুল দেখে লোভ সামলাতে না পেরে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে খাটের নিচে ফেলে রাখে রুমা। রাত নামলে কোন এক সময় লাশ সরিয়ে ফেলার ইচ্ছে ছিল তার।

ওসি আরও বলেন, মামলার অপর আসামি রুমার স্বামী এমরান হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এখন পর্যন্ত মুখ না খোলায় ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রায়পুর থানার উপ-পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম।

আরো পড়ুন : শ্বেতির সাদা দাগ দূর করার সহজ কিছু উপায়

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে লক্ষীপুরের রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নের সাগরদী গ্রামের নেপাল সাহার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় ৭ বছর বয়সী শিশু পপি সাহা। পরে দিনভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির সন্ধান পায়নি স্বজনরা। বিকেলে প্রতিবেশী আবুল কাশেমের বাড়ির ভাড়াটিয়া রুমা আক্তারের ঘরে তালা বন্ধ অবস্থায় দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের।

আরো পড়ুন : মেহ প্রমেহ ও প্রস্রাবে ক্ষয় রোগের কার্যকরী সমাধানসমূহ

এক পর্যায়ে তালা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করতেই খাটের নিচে দেয়ালে হেলান দেয়া অবস্থায় শিশু পপির লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ঘর থেকে শিশু পপির মরদেহ উদ্ধার করে লক্ষীপুর জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এসময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত রুমা ও তার স্বামী এমরানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে রাতেই নিহত পপির মা ববিতা সাহা বাদী হয়ে তাদের দু’জনকে আসামি করে রায়পুর থানায় হত্যা মামলা রুজু করেন।

ওই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের শুক্রবার বিকেলে আদালতে হাজির করা হলে আসামি রুমা আক্তার হত্যাকাণ্ডের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।

নিহত শিশু পপি সাহা একই গ্রামের নেপাল সাহা বাড়ির সৌদি প্রবাসী নির্মল সাহার মেয়ে। সে স্থানীয় সাগরদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

 

68 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন