কারণ ও প্রতিকার

অনিদ্রার কারণ ও প্রতিকার

হাকীম মিজানুর রহমান :
অনিদ্রা একটি রোগ, এটি হয়তো সবাই জানেন না। অনিদ্রা থেকে আরো অনেক রোগের সৃষ্টি হয়। এমনকি প্রাণনাশও হতে পারে। কিন্তু কীভাবে? জেনে নিন।

দেহের স্বাভাবিক ক্রিয়া ও কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে একজন সুস্থ মানুষের দৈনিক কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর প্রয়োজন হয়। এ অবস্থায় কোনো কারণে যদি নিদ্রা একেবারেই না আসে অথবা নির্দিষ্ট সময়ের তুলনায় কম নিদ্রা হয় বা কিছুক্ষণ পর নিদ্রা ভেঙ্গে যায়। তারপর রাত্রিকালীন দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এ পাশ ও পাশ করতে থাকে। এ অবস্থাকেই সাহার বা অনিদ্রা বলা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলে এর দ্বারা মারাত্মক ধরনের রোগসমূহের সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে জুনুন বা মস্তিস্ক বিকৃতি, মালিখুলিয়া বা উন্মাদ ইত্যাদি।

অনিদ্রার কারণ : এ রোগের প্রধান কারণ হলো মস্তিস্কের দিকে রক্ত আসা হ্রাস পেয়ে যাওয়া। যে কারণে মস্তিস্কের মধ্যে শুষ্কতার সৃষ্টি হয়ে নিদ্রার নিয়মনীতির মধ্যে ব্যঘাত সৃষ্টি হয়ে যায়। উষ্ণ প্রকৃতির খাদ্যদ্রব্যাদির অধিক ব্যবহার, তীব্র জ¦রসমূহ এর মধ্যে অন্যতম। তাছাড়া মদ, তামাক, চা, ভাং, চরস, চান্ডু, কোকেন এবং আফিম ইত্যাদির অধিক ব্যবহার এ রোগের প্রধান কারণ।

এ ছাড়াও হস্তমৈথুন, অধিক সহবাস এবং দীর্ঘদিন পর্যন্ত মানসিক দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকা অথবা অধিক রাগ ও অধিক চিন্তা-ভাবনা, যার কারণে রক্ত সৃষ্টির প্রবণতা হ্রাস পেয়ে যায়। এভাবে মস্তিস্কের মধ্যে শুস্কতা সৃষ্টির ফলে নিদ্রা হ্রাস পায়। অনেক মানুষের মধ্যে হজমের ত্রæটির জন্যে এ রোগ হতে পারে। অনেক সময় জ¦র বা শ^াসকষ্ট’র কারণেও এ রোগ হয়। মানসিক বিকৃতিজনিত ও মানসিক পরিশ্রমকারীরাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ রোগে আক্রান্ত হয়।

লক্ষণসমূহ : রাতে নিদ্রা আসে না, অনেক সময় ঝিমানির মতো হয় আবার হঠাৎ করে ঘুম ছুটে যায়। নাকের নাসারন্দ্র শুস্ক হয়। পিপাসা অধিক হয়। মাথায় গরম অনুভ‚ত হয়। হৃদকম্পণ বেড়ে যায় এবং স্বভাব অস্থির এবং বিপদগ্রস্ত হয়ে যায়।

পরিণাম : পরিপূর্ণ চিকিৎসা দ্বারা এ রোগ আরোগ্য হয়ে যায়। কিন্তু যদি এ সমস্যা দীর্ঘদিন পর্যন্ত চলতে থাকে এবং উপযুক্ত চিকিৎসা করা না হয় তাহলে এর প্রভাবে অনেক সময় উন্মাদ বা মানসিক বিকৃতিজনিত রোগ, হৃদফড়কন ইত্যাদি রোগসমূহ সৃষ্টি হতে পারে।

চিকিৎসা (ইউনানী) : যদি জ¦রের কারণে ঘুম না আসে তাহলে জ¦রের উপশমের ব্যবস্থা করতে হবে। জ¦র এর উপশমক ও নিদ্রাকারক হিসেবে পাশুয়া বা হাঁটু থেকে পা পর্যন্ত ধৌত করা উত্তম পন্থা। পাশুয়ার এ পদ্ধতি দ্বারা দ্রæত জ¦রের উপশম হয় এবং নিদ্রা আসে। পাশুয়া ছাড়াও হাত ও পায়ের তালুতে কাশাকন্ড দিয়ে মর্দন করার দ্বারাও জ¦রের তীব্রতা হ্রাস পায় এবং নিদ্রা আসে। জ¦রের এ অবস্থায় নিদ্রাকারণ কোনোপ্রকার তেল মাথায় ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ভেষজ নির্দেশনা : সর্পগন্ধা। বংশলোচন। শরবত নীলূফর ২৪ মিলিলিটার সাথে ছাগলের দুধ ৮৪ মিলিলিটার যোগ করে এক মাস পর্যন্ত সেবন করতে হবে।

যদি কোনো কারণে অঙ্গের ব্যথার কারণে নিদ্রা না আসে তাহলে ব্যথা প্রশমনের ব্যবস্থা করতে হবে। যদি রক্তস্বল্পতা অর্থাৎ শুষ্কতাজনিত কারণে নিদ্রা না আসে তাহলে দেহ ও মস্তিস্কের আর্দ্রতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে হবে। এ উদ্দেশ্যে লূবুব সাবআ মাথায় লাগাতে হবে এবং তাজা ধনিয়া নিংড়ানো রস অথবা পানির সাহায্যে পিষে কপালের ওপর প্রলেপ আকারে লাগানো যেতে পারে।

বর্জনীয় : উষ্ণ এবং টক দ্রব্যাদি। যেমন- লাল মরিচ, গরম মসলা, বেগুন, সিরকা, আচার ইত্যাদি। মাছ, কফি, আলু ইত্যাদি গুরুপাক খাদ্য বর্জন করতে হবে। ক্ষুধার তুলনায় অল্প খেতে হবে। অধিক অধ্যয়ন, রোদে চলাফেরা এবং অধিক চিন্তাভাবনার কাজ কর্মও পরিহার করতে হবে। অবস্থার উত্তরণ না ঘটা পর্যন্ত যৌন মিলন থেকে বিরত থাকতে হবে।

পথ্য : লঘুপাক : যেমন- খিচুড়ি ঝোল, দুধ, সাগুদানা, মাখন, যব সেদ্ধ পানি এবং সবুজ তরিতরকারীর মধ্যে লাউ, লুনিয়া ও পালং শাক, ঝিঙ্গা খাবেন। যদি পরিপাকের গোলযোগ থাকে তাহলে মাখন, মালাই, দুধ ইত্যাদি পরিত্যাগ করবেন। তাজা ফলমূলের মধ্যে ডালিম, আঙ্গুর, আপেল, পেয়ারা, আম, বাঙ্গী খাওয়া উপকারী। দীর্ঘদিন এ সমস্যা থেকে গেলে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন। (সূত্র : হাযিক)

লেখক পরিচিতি : হাকীম মিজানুর রহমান (ডিইউএমএস), চাঁদপুর ইউনানী তিব্বিয়া (মেডিকেল) কলেজ।

আরো পড়ুন : শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

আরও পড়ুন: বীর্যমনি ফল বা মিরছিদানার উপকারিতা

আরো পড়ুন : অর্শ গেজ পাইলস বা ফিস্টুলা রোগের চিকিৎসা

আরো পড়ুন :  নারী-পুরুষের যৌন দুর্বলতা এবং চিকিৎসা

আরো পড়ুন : ডায়াবেটিস প্রতিকারে শক্তিশালী ভেষজ ঔষধ

আরো পড়ুন : দীর্ঘস্থায়ী সহবাস করার উপায়

135 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন