chandpurreport 114

নানুয়ারদীঘির পাড়ের মন্দিরেই নয়, আরও একটি মন্দিরের ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন ইকবাল

নিউজ ডেস্ক : কুমিল্লার ঘটনায় ধর্ম অবমাননা মামলার প্রধান আসামি ইকবাল হোসেনকে শনিবার (২৩ অক্টোবর) আদালতে তোলা হয়েছে।

ইকবালকে শুক্রবার কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার হয়। এরপর তাকে কুমিল্লার পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়। শনিবার দুপুর নাগাদ ইকবালকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়েছে।

এ মামলায় আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে। ট্রিপল নাইনে ফোন দেয়া ইকরাম, ঘটনাস্থল থেকে লাইভ দেয়া ফয়েজ, সিসিটিভির ফুটেজে শনাক্ত হওয়া মাজারের আরও দুই ব্যক্তি- সবাই এখন পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।

আরো পড়ুন : শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, শুধু নানুয়ারদীঘির পাড়ের মন্দিরেই নয়, আরও একটি মন্দিরের ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন ইকবাল।

তদন্ত সূত্র বলছে, নানুয়ারদীঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে শুরুতে ঢুকতে ব্যর্থ হয়েছিলেন ইকবাল হোসেন। পূজামণ্ডপটিতে শুরুতে ইকবাল লোকজন দেখে মিশন সফল না করে ফিরে আসেন।

এরপর তিনি গিয়েছিলেন ওই মণ্ডপের অদূরে দিগম্বরীতলার গুপ্ত জগন্নাথ মন্দিরে। সেখানে গেটের তালা ভাঙতে ব্যর্থ হন ইকবাল। এরপর আবার ফিরে আসেন নানুয়ারদীঘির পাড়ের পূজামণ্ডপে। সেখানে ওই সময় লোকজন না থাকার সুযোগ নিয়ে তিনি কোরআন শরিফ রেখে যান।

আরো পড়ুন : দীর্ঘস্থায়ী সহবাস করার উপায়

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম তানভীর আহমেদ বলেন, ‘পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল মণ্ডপে কোরআন রাখার কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার বিস্তারিত জানতে ইকবালসহ চার জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মণ্ডপে কোরআন রাখার পর হনুমানের গদা নিয়ে ইকবালের চলে যাওয়ার দৃশ্য এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। ইকবাল গদাটি পরে একটি পুকুরে ফেলে দেন।’ তবে পুকুরটির অবস্থান সুনির্দিষ্ট করে জানাননি পুলিশের এ কর্মকর্তা।

আরো পড়ুন : অর্শ গেজ পাইলস বা ফিস্টুলা রোগের চিকিৎসা

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোরআন রাখার পর এ নিয়ে হওয়া সহিংসতার সময়ও ইকবাল সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তার পেছনে আরও কারা আছে, আমরা খতিয়ে দেখছি। সহিংসতার পর ইকবাল প্রথমে কুমিল্লা থেকে ট্রেনে করে চট্টগ্রাম পৌঁছান। সেখান থেকে বিভিন্ন বাহনে করে কক্সবাজারে যান।’

ইকবালকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) রাতে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তাকে কুমিল্লায় আনা হয় এবং সেখানে পুলিশ লাইন্সে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

আরো পড়ুন :  নারী-পুরুষের যৌন দুর্বলতা এবং চিকিৎসা

জানা গেছে, ইকবাল হোসেন কুমিল্লা নগরীর পার্শ্ববর্তী একটি মসজিদ থেকে পবিত্র কোরআন শরিফ সংগ্রহ করে নানুয়াদিঘির পাড় পূজামণ্ডপের হনুমানের কোলে রাখেন। বিষয়টি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত হয়।

এ ঘটনায় ১৭ মিনিটের এক সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন রাতে ইকবাল হোসেন মাজার সংলগ্ন মসজিদে রাত ১০টা ৫৮ মিনিটে প্রবেশ করেন। পরে সেখান থেকে বের হয়ে আসেন। এ সময় মসজিদে দুই জন মুসল্লি ছিলেন। আবার রাত ২টা ১২ মিনিটে মসজিদের একটি বাক্স থেকে কোরআন নামিয়ে ফ্লোরে রেখে বের হয়ে যান। সর্বশেষ রাত ২টা ১৭ মিনিটে আবারও মসজিদে গিয়ে কোরআন হাতে বের হয়ে আসেন ইকবাল।

ঘটনাস্থলের আশপাশের অন্তত ১২টি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে মণ্ডপে কোরআন রাখা যুবক ইকবাল হোসেন বলে নিশ্চিত হলেও এর নেপথ্যে কে বা কারা- সে বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: বীর্যমনি ফল বা মিরছিদানার উপকারিতা

পুলিশ জানায়, ইকবাল সুজানগরের নুর আহমেদ আলমের বড় ছেলে। বাবা-মায়ের তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে ইকবাল সবার বড়। এলাকায় ‘ভবঘুরে’ হিসেবে পরিচিত এ যুবক প্রায়ই নেশা করতেন। নেশার টাকার জন্য পরিবারের লোকজনের ওপর ক্ষিপ্ত হতেন। কখনও বাস চালকের সহকারী, কখনও রঙ মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করলেও নেশা করায় তাকে কেউ কাজে রাখতে চাইতো না। প্রথম বিয়ে করেন বরুড়ায়। পাঁচ বছর আগে সেটি বিচ্ছেদ হয়। সেই সংসারে তার এক ছেলে রয়েছে। দ্বিতীয় বিয়ে করেন চৌদ্দগ্রামের কাদৈ গ্রামে। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় দ্বিতীয় স্ত্রীও তাকে ছেড়ে গেছেন। আদালতে ইকবালের বিরুদ্ধে মামলাও করেছেন। সেই সংসারে তার একটি মেয়ে আছে।

গত ১৩ অক্টোবর নানুয়াদিঘির পাড় পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনায় কুমিল্লা নগরের কয়েকটি পূজামণ্ডপে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এছাড়া জেলার সদর দক্ষিণ ও দাউদকান্দির দুটি মণ্ডপে হামলা হয়।

আরো পড়ুন : ডায়াবেটিস প্রতিকারে শক্তিশালী ভেষজ ঔষধ

এর জেরে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, নোয়াখালীর চৌমুহনী, রংপুরের পীরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় পাঁচটি, সদর দক্ষিণ মডেল থানায় দুইটি, দাউদকান্দি ও দেবিদ্বার থানায় একটি মামলা হয়। এসব মামলায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৪৮ জনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

237 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন