chandpurreport 113

মসজিদের কোরআন গেল হনুমানের পায়ে, হায় মুসলমান!

বিশেষ সম্পাদকীয়

হায়, আমাদের কী হয়েছে যে, আমরা আমাদের ধর্মটাকে লেজেগোবরে ফেলে দিয়েছি। আমরা কান খোঁজার জন্য চিলের পেছনে দৌড়াই। নিজের মাথায় কান খুঁজে দেখি না। হায় মুসলমান। তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা কোন সংবাদ পাওয়া মাত্র তা বিচার বিশ্লেষণ করার সময় পাও না? তোমরা যা শুন, তাই বিশ্বাস করো। যাছাই করার প্রয়োজন বোধ কর না?

যদি একটু ধৈর্য ধরে যাছাই করতে তাহলে তোমরা বুঝতে পারতে যে, একজন হিন্দু কখনও কোরআন ছুঁবে না। সে কখনও কোরআন নিয়ে হনুমানের পায়ের কাছে রাখবে না।

কারণ একজন হিন্দু এতো বোকা না। সে জানে এর পরিণতি কী হবে?

তার জন্য এর পরিণতি হিসেবে দুটো সমস্যা। এক. কোরআন হনুমানের পায়ে রাখলে তার পূজা হবে না। আর দুই. এই কাণ্ড ঘটালে সে বিপদে পড়বে। তাই কোন হিন্দু কখনও কোরান তাদের দেবতার পায়ে রাখবে না। এটাই সত্যি। তো এবার সময়ের কথা বলি।

তো এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে বর্তমান সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য। একটি প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী চায় এ সরকারকে যে কোনো প্রকারেই হোক উৎখাত করতে। তারা তাই এমন জঘন্য ঘটনার সৃষ্টি করেছে। যাতে হিন্দু মুসলমান দাঙ্গা লাগে এবং তারা এর সুবিধা নিতে পারে। এই ঘটনার পর পরই ওই গোষ্ঠীগুলো প্রচার শুরু করে সরকারই এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। সরকারের পদত্যাগ করা উচিত। আসলে ওইসব ঘটনা ঘটানোর পর পরই সরকার শক্ত হাতে তা দমন করার ফলে ওই প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী সুবিধা করতে না পেরে আসল কথা মুখ দিয়ে বের করে দিচ্ছে তা স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছে।

ঘটনা ঘটার ক’দিনে  মধ্যেই ইতো মধ্যে কুমিল্লার পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখা ব্যক্তিকে সিসি টিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, ওই ব্যক্তির নাম ইকবাল হোসেন। ইকবাল হোসেন কুমিল্লা মহানগরীর সুজানগর এলাকার নূর আহম্মদ আলমের ছেলে। তাকে গ্রেফতারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট কাজ করছে।

ওই দিন সন্ধ্যার আগপর্যন্ত রাজগঞ্জ, বজ্রপুর সালাহউদ্দিনের মোড়সহ বেশ কিছু এলাকায় মন্দিরে হামলা হয়। সব জায়গায় সনাতন ধর্মের লোকজনের পাশাপাশি স্থানীয় মুসলমানরাও মন্দির ও মণ্ডপ রক্ষায় সাহসী ভূমিকা পালন করেন। তাঁদেরই একজন আরেফিন হক। কীভাবে ছোটবেলার বন্ধুদের ধর্মীয় বিশ্বাস রক্ষার চেষ্টা করছিলেন, তা বলতে গিয়ে গলা ধরে আসে তাঁর। আরিফ নিজেও আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কোনো দিন এমন অসহায় চেহারা দেখিনি আমাদের পাড়ার হিন্দুদের। কোত্থেকে এরা আসল, মনে হচ্ছিল সব ভেঙেচুরে দেবে।’

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা ও ভিক্টোরিয়া কলেজের সাবেক ভিপি নূর উর রহমান মাহমুদ তানিম বলেন, ‘যদি দলীয় সিদ্ধান্তে আমরা সকাল থেকে মাঠে নামতে পারতাম, তাহলে হয়তো হামলা রোধ করা যেত। পরের দিন আমি রামঘাট থেকে নিজ উদ্যোগে সবাইকে নিয়ে শান্তির পদযাত্রা আয়োজন করি। সেখান থেকেই মূলত সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।’

কারা হামলা করল
১৩ অক্টোবর রাত থেকেই পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির সতর্ক নজরদারি ছিল কুমিল্লায়। কিন্তু তার আগেই যা হওয়ার হয়ে গেছে। চানমনি কালীবাড়ি, কাত্যায়নী কালীবাড়ি, আনন্দময়ী কালীবাড়ি, কালীগাছতলা মন্দিরসহ হামলার শিকার হওয়া মন্দিরগুলোতে গিয়ে সে কথাই জানা যায়। ওই এলাকার স্থানীয় কোনো মুসলমান হামলা করেনি। শহরের লাগোয়া এলাকা থেকে এসেছিল হামলাকারীরা। মিছিলের সামনের দিকে দু-একজন বয়স্ক লোক থাকলেও পেছনে ১২ থেকে শুরু করে ১৮-২০ বছরের কিশোর ও তরুণেরা।

গত বুধবারের হামলায় আহত হওয়া ব্যবসায়ী মিঠুন পাল জানান, কুমিল্লা শহরের পাশে মুরাদপুর নামের একটা এলাকা রয়েছে, সেখান থেকেই এসেছিল বেশির ভাগ ছেলেপিলে। তাদের হাত ছিল লাঠি আর বাঁশি। সামনে থাকা লোকজন নারায়ে তকবির বলে স্লোগান দিচ্ছিল।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কুমিল্লার সভাপতি ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি ছিল এটা অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই। রাজনৈতিকভাবে ঘটনাটা মোকাবিলা করার আগে যদি প্রশাসন সংযুক্ত হয়ে যেত, তাহলে ঘটনা এত দূর গড়াত না। হামলার আগে জমায়েত হয়েছে। সেখানে নানা রাজনৈতিক মতের লোকজন ঢুকেছে। আগেই প্রশাসনের উচিত ছিল বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনা। সাধারণত মণ্ডপে দু-তিনজন করে আনসার থাকে। পুলিশ থাকে, এবার তাও চোখে পড়েনি। কেউ কোনো গুরুত্বই দেয়নি।

সময়মতো সাড়া না দেওয়ার বিষয়টি মানতে নারাজ কুমিল্লা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, যতটুকু সামর্থ্য ছিল সব দিয়েই চেষ্টা করেছেন তাঁরা। বলেন, ‘আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পটে চলে গেছি। ফোর্স হাতে যা ছিল, সবাইকে কাজে লাগিয়েছি। কিন্তু উত্তেজিত জনতার কারণে পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি।’

মেয়র সাক্কুর ভাষায়, ‘তারা (প্রশাসন) আরেকটু কঠিন হইলে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত। অন্য মণ্ডপগুলো কী হলো, চকবাজার, ঠাকুরপাড়া, কাপুড়িয়াপট্টি—এসব মন্দিরে কেন হামলা হলো—প্রশাসনের লোক এর উত্তর দিক। উত্তর তাদের দিতে হবে।’

বুধবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গণমাধ্যমকে বলেন, ভিডিওটি আমি দেখেছি। এতে দেখা যাচ্ছে এক যুবক মসজিদ থেকে কোরআন শরিফ নিয়ে রাস্তার দিকে আসছে। কিছুক্ষণ পর (প্রায় এক ঘণ্টা পর) দেখলাম তার হাতে কোরআন শরিফ নেই। হনুমান ঠাকুরের গদা হাতে নিয়ে তিনি ঘোরাঘুরি করছেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমি গতকালও বলেছি তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ওই যুবক মোবাইল ব্যবহার না করার কারণে তাকে ট্র্যাক করা যাচ্ছিল না। এখন পর্যন্ত তিনি ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করছেন। আমরা তাকে নজরদারিতে রেখেছি। যে কোনো সময় তাকে গ্রেফতার করা হবে।

এদিকে কুমিল্লা জেলা পুলিশের ডিআইও-১ মনির আহমেদ বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় নানুয়ার দিঘির উত্তর-পূর্বদিকে সড়কে রাত সোয়া ৩টার দিকে এক যুবক হনুমান ঠাকুরের গদা হাতে নিয়ে ঘোরাঘুরি করছেন। ওই যুবককে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি যে মণ্ডপে কোরআন শরিফ রেখেছেন সে বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চিত হয়েছে। তাকে এখনো গ্রেফতার করা যায়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৩ অক্টোবর রাত ২টা ১০ মিনিটের দিকে মসজিদ থেকে ওই যুবক কোরআন শরিফ হাতে নিয়ে বের হয়ে আসছেন। এরপর রাত ২টা ১১ মিনিটে তিনি মসজিদ থেকে মূল সড়কে উঠে মন্দিরের দিকে হেঁটে যান।

আরেকটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাত ৩টা ১২ মিনিটে যুবকটির হাতে কোরআন শরিফ নেই। তিনি এসময় গদা কাঁধে নিয়ে মন্দিরের পাশে পুকুরপাড়ের রাস্তায় হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এসময় তিনি চারপাশে তাকিয়ে দেখছিলেন কেউ তাকে দেখছে কি-না।

গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লা মহানগরীর নানুয়া দিঘিরপাড় পূজামণ্ডপে কোরআন রাখা নিয়ে মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিভিন্ন থানায় আট মামলায় ৭৯১ জনকে আসামি করা হয়ে। এরমধ্যে কোতোয়ালী মডেল থানায় পাঁচটি, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় দুটি ও দাউদকান্দি থানায় একটি মামলা হয়েছে। ৯১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলায় ৭০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

কুমিল্লার ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই চাঁদপুর, চট্টগ্রামসহ কয়েকটি জেলায় উপাসনালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। চাঁদপুরে পুলিশের সঙ্গে মিছিলকারীদের সংঘর্ষে ৪ জনের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

আরো পড়ুন : শ্বেতী রোগের কারণ, লক্ষ্মণ ও চিকিৎসা

আরো পড়ুন : যৌন রোগের কারণ ও প্রতিকার

আরো পড়ুন : ডায়াবেটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে শক্তিশালী ঔষধ

আরো পড়ুন : মেহ প্রমেহ ও প্রস্রাবে ক্ষয় রোগের কার্যকরী সমাধানসমূহ

আরো পড়ুন : গেজ, অশ্ব,পাইলসের সহজ চিকিৎসা

আরো পড়ুন : মলদ্বার দিয়ে রক্ত পড়ার হোমিও চিকিৎসা

346 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন