chandpurreport 64

‘হাজীগঞ্জে পূজামন্ডপে হামলার ঘটনা ঘটনার তদন্ত পূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক :
কুমিল্লায় পূজামণ্ডপের ঘটনার জেরে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারে ব্যাপক হামলা- সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হামলার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। ডিসি অঞ্জনা খান মজলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বুধবার রাত ১১টার পর থেকে হাজীগঞ্জে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশের চট্যগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ আনোয়ার হোসেন বিপিএম( বার)পিপিএম বার,কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ এমপি,চাঁদপুরের ডিসি অঞ্জনা খান মজলিশ, পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ,হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার,হাজীগঞ্জ ফরিদগঞ্জ সার্কেল সোহেল মাহমুদ হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হারুন রশিদ সহ জেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

পুলিশের ডিআইজি মোঃ আনোয়ার হোসেন ৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং ঘটনাটি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।

সরেজমিনে জানায়, বুধবার রাত সোয়া ৮টার দিকে একটি মিছিল দুই বার হাজীগঞ্জ বাজার প্রদক্ষিণ শেষে পৌর এলাকার শ্রী শ্রী লক্ষ্মীনারায়ন জিউর আখড়ায় মিছিল থেকে ঢিল ছোড়া হয়। একপর্যায়ে মিছিলকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে ২০ পুলিশ সদস্য, ১ সাংবাদিক ও বিক্ষুব্ধ জনতাসহ প্রায় অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।সংঘর্ষে প্রাণহানির খবর পাওয়া গেলেও পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট এর পাশাপাশি ২প্লাটুন বিজিবি ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা হলেন- হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬নং পূর্ব বড়কুল ইউনিয়নের রায়চোঁ গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে আলামিন (১৮), পৌর এলাকার রান্ধুনীমুড়া সেকান্দর আলী বেপারী বাড়ির প্রবাসী ফজলুল হকের একমাত্র ছেলে ইয়াছিন হোসেন হৃদয় (১৫)চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর থানার সুন্দরপুর গ্রামের শামছল হকের ছেলে বাবলু (৩৫) ও পৌর ১১নং ওয়ার্ডের রান্ধুনীমুড়া গ্রামের আব্বাস মিয়ার ছেলে শামীম হোসেন ( ১৮)

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, বুধবার এশার নামাজের পর হাজীগঞ্জ বিশ্বরোড চৌরাস্তা এলাকা থেকে বিক্ষুব্ধ জনতা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। বিক্ষোভ মিছিলটি হাজীগঞ্জ বাজারের প্রধান সড়কে দু’বার প্রদক্ষিণ শেষে ৩য় বার বাজারের পূর্ব দিকে যাওয়ার পথে হঠাৎ মিছিল থেকে লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়া (ত্রীনয়নী) পূজামণ্ডপে হামলা চালানো হয়। পরে পুলিশ ও মুসল্লিদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।

বিক্ষোভকারীরা পরে প্রায় ৮ টি মন্দিরে হামলা চালায়। জিউর আখড়া, নবদূর্গা, ত্রিশুল, ত্রী নয়নী, জমিদার বাড়ি মন্দির এবং বলাখাল ও রামপুর এলাকার মন্দিরে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।উপজেলার ৮নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বেলঘর সর্বজনীন পূজামন্ডপে ইউপি চেয়ারম্যান মির্জা জলিলুর রহমান দুলালের উপর হামলা করে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা। ভাংচুর করা হয় তাঁর মোটরসাইকেল। পরে পুলিশের সহযোগিতায় ঘটনাস্থল তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দুই প্লাটুন বিজিবি ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।’

আরো পড়ুন : শ্বেতীর সাদা দাগ দূর করার উপায়

আরো পড়ুন : মেহ প্রমেহ ও প্রস্রাবে ক্ষয় রোগের কার্যকরী সমাধানসমূহ

আরো পড়ুন : পাইলস রোগে করণীয়

আরো পড়ুন : জেনে নিন দীর্ঘক্ষণ মিলনের ঔষধ

আরো পড়ুন : একজিমা হলে কী করবেন?

90 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন