দিবস

আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক
আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির উৎসবের দিন, আনন্দের দিন। বাঙালি জাতির হাজার বছরের বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিবস। একই সঙ্গে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরাজয়ের দিন। তাদের মাথা অবনত করার দিন। যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের দিন। আজকের দিনটি প্রতিটি বাঙালির কাছে বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন।

যে অস্ত্র দিয়ে বর্বর পাকবাহিনী দীর্ঘ নয় মাস ত্রিশ লাখ বাঙালিকে হত্যা করেছে, দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম কেড়ে নিয়েছে সেই অস্ত্র পায়ের কাছে নামিয়ে রেখে এক রাশ হতাশা এবং অপমানের গ্লানি মাথায় নিয়ে লড়াকু বাঙালির কাছে পরাজয় মেনে নেয় হানাদাররা। সেই থেকে ১৬ ডিসেম্বর দিনটি বিজয় দিবস পালিত হয়ে আসছে।

এবারের বিজয় দিবস বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বিজয়ের ৫০ বছরে বাংলাদেশ। মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার ৫০ বছরে শত বাধা পেড়িয়ে গৌরবের ৫০ বছরে পদার্পণ তাই বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রাখার প্রস্তুতি নিয়েছে গোটা জাতি। বাঙালির এই গৌরবজ্জ্বল অর্জন বিজয় দিবসে তাই ভিন্নভাবে সেজেছে পুরো জাতি।

এ বছর বিজয় দিবসের আয়োজনে অংশ নেবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রী রামনাথ কোবিন্দসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে এদিন সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। এ উপলক্ষে ইলেকট্রনিক মিডিয়া মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে।

এ বছর বিজয় দিবসের আয়োজনে অংশ নেবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রী রামনাথ কোবিন্দ।

দিনটি সরকারি ছুটির দিন। সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাসমূহ আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ দ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সজ্জিত করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙালিরা অস্ত্র হাতে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই মুক্তিযুদ্ধে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, ভুটান, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সাহায্য-সহযোগিতা করে। অবশেষে বাঙালি দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে বুকের উষ্ণ রক্তে রাঙিয়ে রাত্রীর বৃন্ত থেকে ছিনিয়ে আনে ফুটন্ত সকাল।

115 জন পড়েছেন
শেয়ার করুন