islam ইসলাম

তাওবাহ কবুল হলো কি না বুঝবেন কিভাবে?

ইসলাম ডেস্ক
তাওবাহর অর্থ হচ্ছে- (গুনাহ থেকে) ফিরে আসা। গুনাহ করার কেউ তাওবাহ করলে তার তাওবাহ কবুল হলো কিনা তা বুঝা যাবে কিভাবে? এ সম্পর্কে ইসলামের দিকনির্দেশনাই বা কী?

কারো তাওবাহ কবুল হয়েছে কিনা এটা বুঝার কিছু উপায় ও আলামত আছে। তাওবাহ কবুলের জন্য যেসব শর্ত রয়েছে, তা পালন করে প্রিয় নবির শেখানো ইসতেগফারে তাওবাহ করলে মহান আল্লাহ বান্দার তাওবাহ কবুল করবেন। তাওবাহ কবুল হয়েছে এরকম কোনো আলামত বা চিহ্ন আছে কি যা দেখে বুঝা যাবে যে তাওবাহ কবুল হয়েছে। তাহলো-

‘গুনাহ করে তাওবাহ করার পর যদি তাওবাহ পরবর্তী জীবন আগের পাপাচারের জীবনের চেয়ে ভালো হয় অর্থাৎ পাপকাজ অনেক কমে যায় ও ভালো কাজের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়; তাহলে আশা করা যেতে পারে যে, তার তাওবাহ মহান আল্লাহর দরবারে কবুল হয়েছে।’

কিন্তু কারো যদি এমন না হয় অর্থাৎ তাওবাহ করার আগের ও পরের জীবনের মাঝে কোনো পার্থক্য না থাকে, তাহলে বুঝতে হবে তার তাওবাহতে ত্রুটি রয়েছে।

এরকম ব্যক্তিদের করণীয় হলো- এজন্য হতাশ না হওয়া। কেউ হতাশ হলেই শয়তান খুশী হয়ে যায়। তাই বার বার আন্তরিকতার সঙ্গে একনিষ্ঠ নিয়তে তাওবাহ করা অব্যাহত রাখা। তাওবাহ কবুলের ব্যপারে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া।

তাওবাহ কবুলের আলামাত

প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তার সংকলিত ‘আল-ইসতিদাদ লি-ইয়াওমিল মাআদ অর্থাৎ পরকালের পাথেয়’কিতাবে তাওবাহ কবুলের কিছু আলামত এভাবে ওঠে এসেছে-

একজন আলেমকে (জ্ঞানী ব্যক্তি) প্রশ্ন করা হয়েছিলো- ‘বান্দা যখন তাওবাহ করে, সে কি বুঝতে পারে যে, তার তাওবা কবুল হয়েছে কিনা?’

তিনি বললেন, ‘এ সম্পর্কে আমি তোমাকে কোনো সমাধান দেব না; তবে যার তাওবাহ কবুল হয়েছে বলে আশা করা যায়; এর কয়েকটি আলামত আছে। তাহলো-

১. সে নিজেকে গুনাহমুক্ত (মানুষ) বলে মনে করবে না;

২. তার অন্তর থেকে আনন্দ উঠে যাবে এবং সে (নিজেকে নিয়ে) চিন্তিত হবে;

৩. সে সৎ ব্যক্তিদের সংস্পর্শে বা কাছাকাছি হবে এবং অসৎ ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকবে;

৪. সে দুনিয়ার অল্প জিনিসকে বেশি মনে করবে এবং পরকালের অনেক আমলকে অল্প মনে করবে;

৫. আল্লাহ তাকে যে বিষয়ের জিম্মাদারী দিয়েছেন, সেইগুলোতে সে সব সময় ব্যস্ত থাকবে এবং আল্লাহ যেই বিষয়ের জামিন হয়েছেন, সেই বিষয়ে সে নির্লিপ্ত থাকবে;

৬. সে নিজের জবানকে হেফাজত করবে ও সব সময় চিন্তা-ভাবনা করবে। আর গভীরভাবে দুঃখ ও অনুশোচনা করবে।

মনে রাখতে হবে

কেউ যদি আন্তরিক তাওবাহ করে তবে আল্লাহ ওই বান্দার তাওবাহ কবুল করে নেন আর আন্তরিক তাওবাহ যদি আল্লাহর কাছে কবুল হয়, তবে বান্দার আগের সব গুনাহ আল্লাহ মাফ করে দেন।

এমনকি আল্লাহ যেই গুনাহগুলো মাফ করে দেন, কেউ যদি সেগুলো থেকেও ফিরে আসে তবে এগুলোর বিপরীতে মহান আল্লাহ তাকে সাওয়াব দান করেন। যেভাবে মহান আল্লাহ কোরআনুল কারিমে ঘোষণা দিয়েছেন-

اِلَّا مَنۡ تَابَ وَ اٰمَنَ وَ عَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَاُولٰٓئِکَ یُبَدِّلُ اللّٰهُ سَیِّاٰتِهِمۡ حَسَنٰتٍ ؕ وَ کَانَ اللّٰهُ غَفُوۡرًا رَّحِیۡمًا

‘তবে যারা তাওবাহ করে, বিশ্বাস ও সৎকাজ করে আল্লাহ তাদের পাপকর্মগুলিকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আর আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা ফুরকান : আয়াত ৭০)

গুনাহ মাফ সম্পর্কে ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন-

‘যদি কোনো ব্যক্তি গুনাহ থেকে তাওবাহ করে তাহলে তার গুনাহ মুছে ফেলা হবে। সঙ্গে সঙ্গে তার সেই গুনাহর কারণে শাস্তি ও তার কুফল থেকেও তাকে মুক্তি দেওয়া হবে।’

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, একনিষ্ঠভাবে তাওবাহ করা। তাওবাহমুক্ত জীবন গঠন করে দুনিয়া ও পরকালের সফলতা পাওয়ার চেষ্টা করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিকভাবে তাওবাহ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 39 সর্বমোট পড়েছেন,  1 আজ পড়েছেন

শেয়ার করুন