chandpurreport 469

দুই সাবেক এমপি : রব সাহেব ও মতিন সাহেব

মরহুম আনোয়ার হোসেন মুন্সী চেয়ারম্যান হাজীগঞ্জের বড় ধনী মরহুম খান সাহেব জুনাব আলী মুন্সীর বড় ছেলে ছিলেন। মরহুম খান সাহেব জুনাব আলী মুন্সী ব্রিটিশ আমলে “খান সাহেব” উপাধি পান এবং পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তানের এমএলএ ছিলেন। আনোয়ার হোসেন মুন্সি ছিলেন এম এ মতিন সাহেবের বড় ভাই।

আনোয়ার হোসেন মুন্সী পাকিস্তান আমলে হাজীগন্জ ইউনিয়ন পরিষদে ১৫ বছর চেয়ারম্যান ছিলেন। ৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আনোয়ার হোসেন মুন্সি বিনা অপরাধে মুক্তিবাহিনীর হাতে মারা যান।

১৯৬৪ সালে আনোয়ার হোসেন মুন্সি মুসলিম লীগ থেকে চেয়ারম্যান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং মরহুম আব্দুর রব মিয়া আওয়ামী লীগ থেকে চেয়ারম্যান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবদুর রব মিয়া চেয়ারম্যান জয়লাভ করেন। তখন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হত মেম্বারদের ভোটের মাধ্যমে, জনতার ভোটে নয়। রব মিয়া পেয়েছিলেন ৫ ভোট এবং আনোয়ার হোসেন মুন্সী পেয়েছিলেন ৪ ভোট।

১৯৭৯ সালে রব সাহেব আওয়ামী লীগ থেকে এমপি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আর মতিন সাহেব বিএনপি থেকে এমপি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মতিন সাহেব তিন হাজার ভোটে জয়লাভ করেন। আবার এরশাদ আমলে হাজার ১৯৮৬ সালে রব সাহেব আওয়ামীলীগ থেকে এমপি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আর মরহুম তোফাজ্জল হায়দার নসু চৌধুরী এরশাদের জাতীয় পার্টি থেকে এমপি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রব সাহেব জয়লাভ করেন এবং নসু চৌধুরী হেরে যান। তখন এমএ মতিন সাহেব হাজীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন।

সরকার ১৯৮৮ সালে ১১০ জন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার জন্য মরহুম আব্দুর রব সাহেবকে ক্ষমতা দেন। ১৯৮৮ সালে মে মাসে বেলা ১২ টায় আমি হাজিগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান এমএ মতিন সাহেবের চেম্বারে বসা ছিলাম।

এমন সময় এমপির রব সাহেবের ফোন আসলো । ফোনে এমপি রব সাহেব এমএ মতিন সাহেবের সাথে কথা বললেন। কথা শেষে আমি মতিন সাহেব কে জিজ্ঞেস করলাম, “এমপি রব সাহেব কি বললেন?

প্রতিউত্তরে মতিন সাহেব বললেন,”এমপি সাহেব আমাকে বললেন যে, সে সরকার কতৃক ১১০ জন প্রাইমারি স্কুল শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার জন্য ক্ষমতাটি পেয়েছেন সেটি আমাকে দিয়ে দিলেন”।

রব সাহেব আরো বললেন,”মতিন, তুমি ইন্টারভিউ নিয়ে নিয়োগ দিয়ে চূড়ান্ত করে আমার কাছ থেকে দস্তখত নিও”। আমি বললাম,” এটা কি করে হয়”! রব সাহেব বললেন, “তোমার উপর আমার সমস্ত আত্মবিশ্বাস আছে। তুমি এটা করতে পারবে”।

তখনই মতিন সাহেব ইন্টারভিউ নিয়ে ১১০ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছিলেন এবং এমপি রব সাহেবের কাছে দস্তখত নিয়ে গেলে উনি কোনো কিছু জিজ্ঞেস না করেই দস্তখত দিয়ে দিলেন। যারা তখন চাকরি পেয়ে ছিলো, তাদের একটি টাকাও লাগেনি, আর এখন কতো টাকা লাগে!

এখন কি ভাবতে পারেন, একজন নেতার প্রতি আর একজন নেতার শ্রদ্ধাবোধ কি শ্রদ্ধাবোধ এবং কি বিশ্বাস!

আগামী ১০০ বছরেও এমন একজন রব সাহেব এবং একজন মতিন সাহেব হাজীগঞ্জের বুকে জন্মগ্রহণ করবে না।।

আবদুল মান্নান খান বাচ্চু
সাবেক মেয়র- হাজীগঞ্জ পৌরসভা।
প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক- হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও সাবেক সভাপতি উপজেলা বিএনপি।

 52 সর্বমোট পড়েছেন,  1 আজ পড়েছেন

শেয়ার করুন