বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে অপপ্রচার ও বাস্তবতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ব বিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে সাম্প্রাতিক সময়ে নানা অপপ্রচার, গুজব ও গুঞ্জন শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক ফয়দা হাসিলের জন্যে অবাস্তব কল্প কাহিনী সাজানো হচ্ছে, চলছে নানা বিভ্রান্তি। এ নিয়ে বাস্তব অনুসন্ধানে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। পাঠকদের জন্যে তা তুলে ধরা হলো।

১। চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত জমি অধিগ্রহনের ক্ষেত্রে জমির মূল্য নির্ধারন জমির মালিকের করার সুযোগ নেই। জেলা প্রশাসনই উভয় প্রাক্কলন তৈরী করেছে।

২। স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহন ও হুকুম দখল আইন, ২০০৭ এর ৯(১) ধারা অনুযায়ী প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হয়।

৩। আইন অনুযায়ী ৪ ধারার নোটিশ জারির পূর্ববতী ১২ মাসের গড় মূল্যে নির্ধারিত নিয়মে হিসাব করতে হবে।

৪। প্রথম প্রাক্কলন সে হিসেবে দাঁড়ায় ৫৫৩ কোটি টাকা।

৫। পরবর্তীতে ৪ ধারার নোটিশ জারির পূর্ববতী ১২ মাসের সম্পাদিত সকল দলিলের গড় মূল্যের পরিবর্তে ১৮২ টি দলিলের মধ্যে ১৩৯ টি দলিল বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ৪৩টি দলিলের (সর্বনিন্ম মূল্যের) গড় মূল্যকে বিবেচনায় নিয়ে দ্বিতীয় প্রাক্কলনটি প্রস্তুত করা হয়, যার মূল্য দাঁড়ায় ১৯৩ কোটি টাকা।

৬। আইনে ৪ ধারার নোটিশ জারির পূর্ববর্তী ১২ মাসের গড় মূল্যের ভিত্তিতে বাজার মূল্য নির্ধারনের বিধান থাকা সত্ত্বেও ৪ ধারার নোটিশ জারির পূর্ববর্তী ৩ বছরের গড় মূল্যকে বিবেচনায় নেয়া হয়।

৭। জমির যথাযথ মূল্য না পাওয়ার আশংকায় জমির মালিকদের মধ্য থেকে ৩ জন হাইকোর্টে ২ টি রিট মামলা দায়ের করেন যা বর্তমানে কোর্টের বিবেচনাধীন রয়েছে।

৮। ডাঃ দীপু মনি-এর চাঁদপুরে কোন জমিতে কোথাও ক্রয়সূত্রে কোন মালিকানা নেই। অর্থাৎ তিনি কখনোই চাঁদপুরে কোন জমি ক্রয় করেননি। ডা: দীপু মনি এম. পি. এর পরিবারের কোন সদস্যের কোন জমি উক্ত অধিগ্রহণ এলাকায় নেই। কাজেই জমির মূল্য থেকে তাদের লাভবান হবার বা অনৈতিক কোন সুবিধা গ্রহণেরও কোন প্রশড়ব উঠতে পারে না।

৯। ডাঃ দীপু মনি এম. পি. এর বড় ভাই বিশিষ্ট বিশেষজ্ঞ শল্য চিকিৎসক ডাঃ জাওয়াদুর রহিম ওয়াদুদ লক্ষীপুর ইউনিয়নে নদীর পাড়ে হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রম স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে বেশ কিছুদিন থেকে অল্প অল্প করে জমি কিনেছিলেন। চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রাথমিকভাবে চিন্তা করা ২টি স্থানের মধ্যে লক্ষীপুর ইউনিয়নের স্থানটি চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরে ডাঃ জাওয়াদুর রহিম ওয়াদুদ তার পূর্বে ক্রয়কৃত সকল জমি হস্তান্তর করে দেন। কারন তার ছোটবোন শিক্ষামন্ত্রী এবং তার ক্রয়কৃত জমি অধিগ্রহণ করা হলে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হবেন যা Conflict of interest হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

১০। বাংলাদেশে যেকোন জায়গায় কোন উল্লেখ্যযোগ্য স্থাপনা নির্মানের ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহনের পূর্বেই বহু মানুষ উক্ত স্থানে বা তার আশেপাশে জমি কিনে থাকেন বা কোন স্থাপনা নির্মান করেন। তা কখনো আর্থিকভাবে লাভবান হবার জন্য, কখনো বড় বা ভালো কোন স্থাপনার কাছে থাকবার জন্য। চাঁদপুরের কেউ একইভাবে লক্ষ্মীপুরে জমি কিনে থাকতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অধিগ্রহনের নিমিত্ত নির্ধারিত জায়গায় কে বা কারা জমি ক্রয় করেছেন বা করছেন তা ডা: দীপু মনি-র জানবার কথা না। তিনি জানেনও না।

১১। শুধুমাত্র তাঁর বড় ভাইয়ের হাসপাতাল ও বৃদ্ধাশ্রম স্থাপনের জন্য ক্রয়কৃত এবং অধিগ্রহনের পূর্বেই হস্তান্তরকৃত (দলিল নং৮০৪০, ৬/১২/২০২১) জমির বিষয়ে তিনি অবহিত ছিলেন।

১২। উল্লেখ্য যে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য দ্বিতীয় দফায় আরও ২২ একর জমি অধিগ্রহনের প্রস্তাব উত্থাপন করে নথি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে উপস্থাপিত হলে তিনি সে প্রস্তাব নাকচ করে দেন। তিনি নথিতে লিখে দেন যে চাঁদপুর নদীভাঙ্গন কবলিত এলাকা হওয়ায় সেখানে জমি অপ্রতুল। এছাড়া একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ৬২ একর জমি, যা ইতোমধ্যে অধিগ্রহনের জন্য অনুমোদন করা হয়েছে, তাই যথেষ্ট।

১৩। ডা: দীপু মনি ও তাঁর বড় ভাইয়ের কেউ কখনো কোন আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির সাথে কোনদিন জড়িত ছিলেন না বা নেই। তার নির্বাচনী এলাকায় গত বছরে এম পি হিসেবে তার সততা ও স্বচ্ছতা সর্বজন বিদিত।

১৪। অধিগ্রহণের জন্য নির্ধারিত জমির মূল্য ইচ্ছাকৃত ভাবে বৃদ্ধি করার জন্য বেশী মূল্যে জমি হস্তান্তরের ঘটনা যদি ঘটে থাকে তবে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে ডা: দীপু মনি মনে করেন।

১৫। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ত্যাগ ও সংগ্রামের লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে একজন সৎ ও সফল রাজনীতিবিদ হিসেবে দেশে বিদেশে পরিচিত ডা: দীপু মনিকে কি উদ্দেশ্যে জমি অধিগ্রহন সংক্রান্ত মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করে তার মত একজন রাজনীতিবিদের সুনাম সম্মান নষ্ট করার জন্য অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে তা উদঘাটিত হওয়া প্রয়োজন।

১৬। জেলা প্রশাসন কর্তৃক দুটি প্রাক্কলনই প্রস্তুত করা হয়। জেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রথম প্রাক্কলনকৃত মূল্য ৫৫৩ কোটি টাকা যা জমির মূল্য বাড়িয়ে দেয়ার কারনে ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন কর্তৃক দ্বিতীয় প্রাক্কলনকৃত মূল্য ১৯৩ কোটি টাকা যা বাজার মূল্য বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। একইসাথে বলা হচ্ছে বাজারমূল্যের ২০ গুন বেশী দাম ধরা হয়েছিল পূর্ববর্তী প্রাক্কলনে। ১৯৩ কোটি টাকার ২০ গুন কি করে ৫৫৩ কোটি টাকা হয় তাও বোধগম্য নয়।

১৭। এছাড়াও অভিযোগ করা হচ্ছে যে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের নিমিত্তে অধিগ্রহনের জন্য নির্ধারিত স্থানটি অনুপযুক্ত এবং ভাঙ্গনের ঝুঁকি রয়েছে। চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা নির্ধারনের জন্য যে বিষয়গুলোর উপর গুরুত্ব দেয়া হয় তা হলো- বিশ্ববিদ্যালয়টি যেন শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে বেশি দূরে না হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির সাথে আশেপাশের জেলাগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা যেন ভালো থাকে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় যেন কোন হাইওয়ে সড়কের পাশে না হয়, তার অন্যতম কারণ প্রায়শ: দেখা যায় কোন ছাত্র অসন্তোষ দেখা দিলে ছাত্ররা হাইওয়ে অবরোধ করে দেন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপর্যয় ঘটে। এ সকল দিক বিবেচনা করে লক্ষ্মীপুরের জায়গাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তাব করা হয় কারন লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন শহর থেকে মাত্র ৩ কি:মি: দূরে এবং লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের সাথে শরিয়তপুর, মাদারীপুর, লক্ষ্মীপুর জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো। নির্ধারিত স্থানটি স্থায়ী বাঁধ এবং পানি উনড়বয়ন বোর্ডের বেড়ী বাঁধের ভিতরে অবস্থিত। গত দশ বছরের অধিককালে সেখানে কোন ধরনের ভাঙ্গনের কোন ঘটনা ঘটেনি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিবেদনেও এখানে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা যায় মর্মে মত দেয়া হয়েছে।

১৮। ডা: দীপু মনি এম পি এর বিগত ১৩ বছরে তার নির্বাচনী এলাকায় বহু সরকারি স্থাপনা নির্মিত হয়েছে এবং এসকল স্থাপনার জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এর কোন অধিগ্রহণকৃত জমিতে কোথাও কখনো ডা: দীপু মনি বা তার পরিবারের কোন জমি কখনো ছিলো না। চাঁদপুর হাইমচরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করান তিনি। সেখানে জমির মূল্য শতাংশ প্রতি ৫ হাজার টাকা থেকে কয়েক লক্ষ টাকায় উনড়বীত হয়। সেখানেও ডা: দীপু মনি বা তার পরিবার কোন জমি কখনো ক্রয় করেননি।

১৯। গত ১৩ বছরে কোন নিয়োগে, কোন টি আর, কাবিখা বিতরণে, কোন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বা অন্য কোন কার্যক্রমে ডা: দীপু মনি বা তার পরিবারের কোন ধরনের আর্থিক অস্বচ্ছতা বা অনিয়ম কোন দিন ছিল না এ বিষয়ে জেলার সরকারি, বেসরকারি কর্মকর্তাসহ জেলার রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগন সবাই অবগত আছেন। কি উদ্দেশ্য হঠাৎ করেই আজ ডা: দীপু মনিকে অসৎ প্রতিপক্ষ করবার, হেয় করবার চেষ্টা করা হচ্ছে তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

২০। যে বা যারা কোন কোন গনমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডা: দীপু মনি বা তাঁর পরিবারকে জড়িয়ে জঘন্য মিথ্যাচার করছে তাদের আসল উদ্দেশ্য উদঘাটিত হওয়া অতীব জরুরী।

২১। এটি শুধু ডা: দীপু মনির সততাকে প্রশড়ববিদ্ধ করা নয়, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে শেখ হাসিনা সরকারকে অপদস্থ করারও ঘৃন্য অপচেষ্টা বলে অনেকেই আশংকা করছেন।

 76 সর্বমোট পড়েছেন,  1 আজ পড়েছেন

শেয়ার করুন