নিবন্ধন

মরার ওপর খাঁড়ার ঘা : বন্ধ হয়ে যাবে অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক : এ যেনো এক মড়ার ওপর খাড়ার ঘা। এর নাম জন্ম নিবন্ধন। যা এক সময় সহজ থাকলেও নানা প্রকার ভোগান্তি, দুর্দশা ও লাঞ্ছনা যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশীদের।  আর এসব ভোগান্তির যাঁতাকলে পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন।

এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একজন শিক্ষার্থীর পূর্বে হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন করা হয়েছিল চাঁদপুর পৌরসভায়। করোনার পূর্বে  নিজস্ব প্রয়োজনে সেখান থেকে তারা তাদের গ্রামের বাড়ি চলে আসেন। ওই  শিক্ষার্থী গ্রামের স্কুলে ভর্তি হন।

করোনার টিকা প্রথম ডোজ নেওয়া হলেও দ্বিতীয় ডোজের জন্যে বর্তমানে ওই শিক্ষার্থীর জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করার প্রয়োজনে প্রথমে চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার ৪নং কালচোঁ ইউনিয়ন পরিষদে গেলে দীর্ঘলাইন। দীর্ঘক্ষণ পর যোগাযোগের সুযোগ হলে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয় এটা চাঁদপুর পৌরসভার কাজ, আমাদের করণীয় কিছুই নেই।

এ ব্যাপারে চাঁদপুর পৌরসভায় যোগাযোগ করা হলে তারা জানায় ওই শিক্ষার্থীর জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করতে হলে তাকে প্রথমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এরপর তার পিতার জন্ম নিবন্ধন, মাতার জন্ম নিবন্ধনসহ আনুষাঙ্গিক কাজ পত্র লাগবে। ওই শিক্ষার্থীর অনলাইনে আবেদন করতে গেলে সার্ভার বন্ধ পাওয়া যায় গত এক সপ্তাহ যাবত। এক সপ্তাহ পর কিছুটা সার্ভার ফ্রি হলেও সেখানে তার পিতার জন্ম নিবন্ধন, মাতার জন্ম নিবন্ধন ইত্যাদি চাওয়া হচ্ছে।  জাতীয় স্মার্ট আইডি কার্ড থাকা সত্ত্বেও শুধু তাই নয়, তার পিতার জন্ম নিবন্ধন করতে গেলে তারও পিতার জন্ম নিবন্ধন চাওয়া হয়। অথচ ওনার পিতার মৃত্যু হয়েছে পঁচিশ বছর পূর্বে।

যাই হোক, বিষয়টি নিয়ে একজন এক্সপার্টের সাহায্য নিতে গেলে তিনি জানান, সার্ভার বন্ধ। এই কারণে তিনি ওই শিক্ষার্থীর অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের বিষয়ে আবেদন করতে পারছেন না। সত্যিই তাই, ওই অভিভাবক নিজে চেষ্টা করে দেখেছেন, https://bdris.gov.bd/ এই সার্ভার বেশিরভাগ ডাউনই থাকে।

অথচ ওই শিক্ষার্থীর আগামী ০৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন প্রয়োজন। এসব নিয়ে ভটঘটে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নানাভাবে নাজেহাল হতে হচ্ছে। অথচ বিষয়টি সাধারণ। ইতোপূর্বে যে শিক্ষার্থীর জন্ম নিবন্ধন করাই আছে। তার আবার অনলাইন করতে এতো ধরনের হয়রানি কি প্রয়োজন? তাছাড়া তার পিতা ও মাতার যেহেতু স্মার্ট আইডি কার্ড আছে। তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে গ্রাজুয়েটসহ অন্যান্য সার্টিফিকেট আছে, তাদেরকে এ ধরনের হয়রানি এদেশের বিভিন্ন সেক্টরের দৈন্যতা প্রকাশ করে মাত্র। যা সাধারণ নাগরিকদের ওপর মড়ার ওপর খাড়ার ঘা’র সামিল।

এ ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই বলেন, তাদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের হয়রানি হচ্ছে। এসব কাগজপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে নিজেদের সময় নষ্ট হচ্ছে দিনের পর দিন। তাছাড়া তো সংশ্লিষ্ট পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদের অফিসের স্টাফদের দুর্ব্যবহার উৎকোচ ইত্যাদি রয়েছেই।

 26 সর্বমোট পড়েছেন,  1 আজ পড়েছেন

শেয়ার করুন