রিপোর্ট 473

চাঁদপুরে বিবাদীদের প্রভাবের মুখে অধ্যক্ষ ফেন্সী হত্যা মামলা হাইকোর্টে স্থানান্তর

নিউজ ডেস্ক :

চাঁদপুরের রাজনীতি, সামাজিক ও সংস্কৃতি অঙ্গনের পরিচিত মুখ, বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভানেত্রী, গল্লাক কলেজের অধ্যক্ষ শাহিন সুলতানা ফেন্সী হত্যা মামলার চার্জশীট সোয়া দু বছর আগেই আদালতে দাখিল করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মহিউদ্দিন। কিন্তু মামলাটি বিবাদীদের হুমকি-ধমকি ও প্রভাবের মুখে বিচারের জন্যে হাইকোর্টে স্থানান্তরিত হয়েছে।

দাখিলকৃত চার্জশীট থেকে জানা যায়, হত্যাকা-টি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী। এতে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকা- ঘটানোর সকল কিছু উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, এই হত্যাকা-টি ঘটিয়ে ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টাও ছিলো। সেটিও তদন্তকারী কর্মকর্তার তদন্তে প্রতীয়মান হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

হত্যাকা-টি ২০১৮ সালের ৪ জুন সংঘটিত হয় এবং এই হত্যাকা-ের দীর্ঘ ৫ মাস পর অর্থাৎ একই বছরের ২৪ নভেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মহিউদ্দিন আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। দাখিলকৃত চার্জশীটে ১৬৪ ধারায় আসামীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুযায়ী ৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এছাড়াও পুলিশের তদন্তে এবং ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী মামলার ১নং আসামী নিহত ফেন্সীর স্বামী অ্যাডঃ জহিরুল ইসলামের হাতের ও পায়ের ছাপের মিল পাওয়া যায়। শুধু তা-ই নয়, ঘটনার তদন্তে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার সময় নিহতের স্বামী নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে ঘটনার সমাপ্তি ঘটিয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার বিষয়টিও সুস্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয়া রয়েছে।

এই হত্যাকা-ে জড়িত ৪ জন আসামী। তন্মধ্যে ১নং আসামী অ্যাডঃ মোঃ জহিরুল ইসলাম ও ২নং আসামী জুলেখা বেগম মামলায় অভিযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন যাবত জামিনে রয়েছেন। অপর দুই আসামীর মধ্যে রাকিবুল হাসান রাকিব জেল হাজতে এবং অপর আসামী লিমন খান পলাতক রয়েছেন।

মূলত অধ্যক্ষ শাহিন সুলতানা ফেন্সীকে হত্যার মূল পরিকল্পনা করেন ১নং আসামীর ২য় স্ত্রী জুলেখা বেগম। তার নিকট স্বজন মামলার আসামী রাকিবুল হাসান রাকিব ও লিমন খানকে দিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটান। আর সকল কিছুই জানতেন মামলার ১নং আসামী।

এদিকে এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তকালে এজাহারভুক্ত আসামী খায়রুল ইসলাম নয়ন, রানু বেগম ও ওয়াসকুরণী সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা না থাকায় আদালতে তাদেরকে অব্যাহতি দানের প্রার্থনা করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

মামলার বাদী নিহতের ভাই ফোরকান উদ্দিন খান অভিযোগ করেন, মামলার ১নং আসামী অ্যাডঃ মোঃ জহিরুল ইসলাম প্রভাব খাটিয়ে মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন। এমনকি তিনি এতোটাই প্রভাব খাটান যে, চাঁদপুরের জেলা জজ আদালতে এ মামলার বাদী তথা আমার পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াতে রাজি হননি। এ ধরনের প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে আমি মামলাটি মহামান্য হাইকোর্টে স্থানান্তরিত করেছি।

এদিকে মামলার বাদী পক্ষ এবং নিহতের সন্তানেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে বলে অভিযোগ করেছেন। অপরদিকে সাধারণ জনগণের মাঝে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই হত্যাকা-ের ১নং আসামীকে নিয়ে নানা ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ জনগণ বলছে ও ফেসবুকে লিখালিখি হচ্ছে যে, একটি হত্যা মামলার ১নং আসামী যিনি পুলিশের তদন্ত রিপোর্টে এই হত্যাকা-ের সাথে জড়িত বলে প্রমাণিত, তিনি সরকারি দলের প্রভাব খাটিয়ে সর্বক্ষেত্রে যাতায়াত করছেন এবং ফুলের তোড়া প্রদানসহ বিভিন্ন উপলক্ষে মন্ত্রী-এমপির সান্নিধ্যে যাচ্ছেন। (সূত্র : দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ)

 72 সর্বমোট পড়েছেন,  1 আজ পড়েছেন

শেয়ার করুন